শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ২১ জুন, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ২০ জুন, ২০২১ ২৩:০৬

আষাঢ়ের গল্প

কাজী সুলতানুল আরেফিন

আষাঢ়ের গল্প
Google News

আষাঢ় মাস। টিপ টিপ বৃষ্টি ঝরছিল। এক বন্ধুর বাড়ি যাচ্ছিলাম। যাওয়ার পথে গভীর বন। আচমকা নারীকণ্ঠে শুনতে পেলাম ‘বাঁচাও’ ‘বাঁচাও’ চিৎকার! শুনেই শার্টের হাতা ঘুটিয়ে ফেললাম। কান খাড়া করে রইলাম আবারও চিৎকার শোনার জন্য। হ্যাঁ, আবারও শুনতে পেলাম। উত্তেজনায় আমার গায়ের লোম সব খাড়া হয়ে গেল। গুন্ডার অট্টহাসিও শুনতে পেলাম। নিশ্চয় নির্জন বনে কোনো মেয়েকে একা পেয়ে বদ লোকেরা আক্রমণ করেছে! আবার এটাও ভাবছিলাম আমি তো আর হিরো নই। মেয়েটিকে বাঁচাতে গিয়ে যদি গুন্ডাদের হাতে উল্টো মাইর খাই। তবুও সাহস করে গাছ-গাছালির ফাঁক-ফোকর দিয়ে উঁকি দিলাম। যেদিকটা থেকে শব্দটা শুনতে পেলাম সেদিকে পা টিপে টিপে এগিয়ে যেতে লাগলাম। সেদিকে বনের ভিতরে একটা ছোট ঘর দেখতে পেলাম। আবারও গা শিউরে উঠল আমার। বনের ভিতর মনে হয় গুন্ডাদের আস্তানা। বুঝেছি, কোনো মেয়েকে আস্তানায় এনে নির্যাতন করা হচ্ছে। না, এ হতে দেওয়া যায় না। হিরো না হলে নয়। তবুও এগিয়ে গেলাম। গাছের ডালপালা সরিয়ে ভালো করে তাকালাম। সে ঘরটির জানালা খোলা। আরও একটু এগিয়ে যেতেই ব্যাপারটা পরিষ্কার হলো। যখন ওই ঘরের জানালা দিয়ে ভিতরে নজর পড়ল। টেলিভিশনে বাংলা সিনেমা চলছিল। সেখান থেকেই শব্দটা আসছিল। নির্জন স্থান হওয়ায় টেলিভিশনের শব্দ আর সত্যিকারের শব্দের পার্থক্য বুঝতে পারলাম না। বোকা যখন বনেছি, মনে হলো দৃশ্যটা দেখেই যাই। নাহ! কোনো ব্যতিক্রম কিছু দেখতে পেলাম না। নায়ক কোথা থেকে উড়ে এসে টিশুম টিশুম শব্দ তুলে গুন্ডাদের ধোলাই দিতে লাগল। হাঁফ ছেড়ে বাঁচলাম। ভাগ্যিস আষাঢ় মাসে আমাকে হিরো হতে হয়নি!