সোমবার, ২৫ জুলাই, ২০২২ ০০:০০ টা

ভাবনা-চিন্তা

হতে পারে তার ছাত্রী এবার পরীক্ষায় ভালো নম্বর পেয়েছে। আনন্দে তার শিক্ষিকাকে গিফট করতে চাইছে ছাত্রীর মা। বাহ! গিফট পেলে তো ভালোই হয়...

ভাবনা-চিন্তা

মিতু টিউশনি করে। প্রতিদিনের মতো আজও সে টিউশনিতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। হঠাৎ ছাত্রীর মায়ের ফোন। ভাবলো আজ মনে হয় আর যেতে হবে না। হয়তো আসতে বারণ করে দিবেন। বলবেন, ‘থাক, আজ আর তোমাকে আসতে হবে না আমরা আজ বাইরে ঘুরতে যাচ্ছি।’ ফোন ধরতেই ছাত্রীর মা বললেন, ‘আজকে একটু তাড়াতাড়ি এসো। সবাই মিলে শপিংয়ে যাবো। তুমি না আসা পর্যন্ত কীভাবে যাই বলো? তুমি তো এখন আমার ঘরের মেয়ের মতোই।’ মিতু ভাবল কী, হলো কী! শপিংয়ের কথা শুনে তার মনে অনেক কথা ঘুরতে লাগল। তাড়াতাড়ি বাসা থেকে রওনা হলো সে। রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে সে ভাবতে লাগল, শপিংয়ে যাবে, আবার তার জন্য অপেক্ষা করছে, সব হিসাব মিলিয়ে দেখা যাচ্ছে, তাকে নিয়ে হয়তো শপিংয়ে যাবে। এ চিন্তার মধ্যেই আরেক চিন্তা মাথায় এলো মিতুর। হতে পারে তার ছাত্রী এবার পরীক্ষায় ভালো নম্বর পেয়েছে। আনন্দে তার শিক্ষিকাকে গিফট করতে চাইছে ছাত্রীর মা। বাহ! গিফট পেলে তো ভালাই হয়। বাড়ির দরজার কাছাকাছি পৌঁছতেই আবার তার ছাত্রীর মা ফোন দিলেন। ‘কোথায় তুমি?’ ‘এই তো আমি আসছি আর দুই মিনিট লাগবে, আন্টি।’ হড়বড় করে কথাগুলো বলল মিতু। ফোন কেটে দিয়ে সে ভাবছে, আচ্ছা যদি শাড়ি কিনে দিতে চায়? কোন কালার কিনব? সবুজ রংয়ের শাড়ি হলে মন্দ হয় না। এসব ভাবনা শেষ না হতেই সে ছাত্রীর বাসায় এসে কল বেল চাপল। দরজা খুললেন ছাত্রীর মা। মিতুকে দেখেই তিনি বললেন, ‘চাবিটা রাখো! দেরি হয়ে যাচ্ছে। আজকে সবাইকে নিয়ে শপিংয়ে যাব। বাড়িটা একদম ফাঁকা। আজকাল তো চোর-ডাকাতের অভাব নেই। তোমাকে ছাড়া আর কারও ওপর ভরসা করতে পারি না, বুঝলে। তুমি তো আমাদেরই ঘরের মেয়ে হয়ে গেছো এত দিনে। আমরা ফেরার আগ পর্যন্ত বাসায় থাকো। ভালো না লাগলে টিভি দেখো। খাবার তৈরি করা আছে সময় মতো খেয়ে নিও।’ এ কথা বলেই চলে গেলো সবাই। মিতু চুপচাপ বসে পড়লো। এতক্ষণে ভাবলো কী আর হলোই বা কী! 

লেখা : কে এম ছালেহ আহমদ জাহেরী নাঙ্গলকোট, কুমিল্লা।

এই রকম আরও টপিক

সর্বশেষ খবর