শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ১১ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা
আপলোড : ১০ জুন, ২০১৬ ২২:৩৪

সমাহিত ‘দ্য চ্যাম্পিয়ন’

ক্রীড়া প্রতিবেদক

 সমাহিত ‘দ্য চ্যাম্পিয়ন’
মোহাম্মদ আলীর কফিন নিয়ে স্মরণসভার দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন ইমাম জাইদ শাকির —এএফপি

রক্তের খেলা বক্সিংকে শিল্পের পর্যায়ে তুলে আনেন। জনপ্রিয়তার শীর্ষেও ঠাঁই দেন। মোহাম্মদ আলী; পৃথিবীর সর্বকালের সেরা বক্সার। যাকে আদর করে ভক্তরা ডাকেন ‘দ্য গ্রেটেস্ট’, ‘দ্য চ্যাম্পিয়ন’ বলে। কিংবদন্তি এই বক্সারের লড়াই দেখতে আফ্রিকায় থেমে গিয়েছিল গৃহযুদ্ধ। সেই ‘বক্সিং কিংবদন্তি’ আলী আর নেই। ৩ জুন তিনি বিশ্বকে কাঁদিয়ে পাড়ি দিয়েছেন চির শান্তির দেশে। গতকাল ‘দ্য চ্যাম্পিয়ন’কে সমাহিত করা হয় নিজ শহর লুইসভিলের কেভ হিল সমাধি সেন্টারে। বিশ্বসেরা বক্সারের জানাজায় অংশ নেন ১৪ হাজার মানুষ এবং দুই দিনব্যাপী শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রায় ছয় লাখ ভক্ত। ১৯৪২ সালে জন্ম নেওয়া আলীর জানাজা ও স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয় কেনটাকির লুইসভিলে শহরের ফ্রিডম টাউনে। এখানে ১৯৬১ সালে প্রথম পেশাদার লড়াই করেছিলেন আলী।

দীর্ঘ ২২ বছর ধরে পার্কিনসন্স রোগে ভুগেছেন আলী। অথচ প্রজাপতির ছন্দে রিং মাতিয়ে তিন-তিনবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছিলেন তিনি। জন্মেছিলেন এক খ্রিস্টান পরিবারে। ১৯৬৪ সালে সনি লিস্টনকে হারিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর মুসলমান ধর্মে দীক্ষা নেন এবং মৃত্যুবরণ করেন মুসলমান হয়ে। মৃত্যুর আগে নিজেই নিজের শেষকৃত্যের পরিকল্পনা করে যান। দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের প্রথম দিন ছিল জানাজা। যাতে অংশ নেন ১৪ হাজার ধর্মপ্রাণ মুসলমান। গতকাল শেষ দিনের স্মরণসভায় উপস্থিত ছিলেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন, জর্ডানের বাদশাহ আবদুল্লাহ ও তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান, লাইট হেভিওয়েট চ্যাম্পিয়ন লেনক্স লুইস, হলিউড অভিনেতা উইল স্মিথসহ অগণিত ভক্ত। মেয়ে মালিহার বিশ্ববিদ্যালয়ে গ্র্যাজুয়েশন অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন বলে উপস্থিত ছিলেন না মার্কিন রাষ্ট্রপতি বারাক ওবামা। উপস্থিত না থাকলেও শ্রদ্ধা জানাতে ভুলেননি মার্কিন রাষ্ট্রপতি। আলীকে যিনি নিজের ‘ব্যক্তিগত হিরো’ বলেছেন। আলীর মৃত্যুতে শোকগ্রস্ত ওবামার একটি ভিডিও মেসেজ প্রকাশ করা হয়। আলীর দেওয়া একজোড়া বক্সিং গ্লাভস ও ছবিতে ঠাসা একটি বই দেখানো হয়েছে সেখানে। আলীর মৃৃত্যুতে ওবামা বলেন, ‘আমরা হারিয়েছি একজন আইকনকে। আলী ছিলেন আমেরিকান-আফ্রিকানদের প্রতিনিধি। তার জন্য গর্বিত হওয়া উচিত আমাদের।’  দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের প্রথম দিন জানাজা পড়ানো হয় মুসলিম রীতি অনুসরণ করে। তাতে অংশ নেন পরিবারের সবাই। জানাজাসহ আলীর শেষকৃত্য অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন ইমাম জাইদ শাকির। তিনি বলেন, ‘আলী চাইতেন তার জানাজা যেন একটি শিক্ষণীয় মুহূর্ত হয়ে থাকে।’ স্মরণসভার আগে আলীর মরদেহ নিয়ে একটি শোক মিছিল বের করা হয় লুইসভিলে। মরদেহটিকে শুরুতেই নিয়ে যাওয়া হয় তার শৈশবের বাড়িতে। এরপর আলী সেন্টার, দ্য সেন্টার ফর আফ্রিকান-আমেরিকান হেরিটেজ এবং মোহাম্মদ আলী বোলেভার্ডে। রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে লাখ লাখ ভক্ত শেষবার দেখে নেন প্রিয় তারকাকে।


আপনার মন্তব্য