শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ২৩:১০

প্রাপ্তি শুধু সাব্বিরের সেঞ্চুরি

মেজবাহ্-উল-হক

প্রাপ্তি শুধু সাব্বিরের সেঞ্চুরি

বাম হাতে উল্টো করে উঁচিয়ে ধরলেন ব্যাট। আর ডান হাতে সেদিকে নির্দেশ করে ইঙ্গিতে যা বোঝালেন তার অর্থ হতে পারে এমন- ‘সাব্বিরের ব্যাট কথা বলে’! গতকাল ডানেডিনে নিউজিল্যান্ডের ওয়ানডে সিরিজের শেষ ম্যাচে নিজের ক্রিকেট ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরির পর এমন ব্যতিক্রমী সেলিব্রেশন করেন সাব্বির রহমান।

১১০ বলে খেলেন ১০২ রানের অসাধারণ এক ইনিংস। ১২ চারের সঙ্গে ২টি বিশাল ছক্কা।

সাব্বির যখন বাইশগজে নামেন তখন বাংলাদেশের জয়ের স্বপ্ন প্রায় শেষ। ৩৩১ রানের পাহাড়সম লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৬১ রানেই ড্রেসিংরুমে প্রথম পাঁচ ব্যাটসম্যান তামিম ইকবাল, লিটন দাস, সৌম্য সরকার, মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদুল্লাহ। অবশ্য বাংলাদেশ ম্যাচ থেকে কার্যত ছিটকে পড়ে গিয়েছিল প্রথম ওভারেই, দলীয় ১ রানে বিদায় নিয়েছিল দুই ব্যাটসম্যান। এরপরও শেষ পর্যন্ত ম্যাচের আকর্ষণ ছিল সাব্বির রহমানের সেঞ্চুরির জন্য।

লেজের ব্যাটসম্যানদের নিয়ে সাব্বিরের লড়াইয়ের জন্যই শেষ পর্যন্ত ২৪২ রান করে বাংলাদেশ। সিরিজের শেষ ম্যাচেও ৮৮ রানের বড় হার। সাব্বির সেঞ্চুরি দলের হার এড়াতে পারেনি। তবে তার লড়াইয়ের কারণে হারের ব্যবধানটা ছোট হয় এই যা।

জয়-পরাজয়ের বিষয়টি আলাদা করে রাখলে, সাব্বিরের এমন সেঞ্চুরিতে আপনিও রোমাঞ্চিত হতে পারেন! তার দ্বিতীয় ছক্কাটি ছিল দেখার মতো। ডিপ মিডউইকেটের ওপর দিয়ে বল পাঠিয়ে দেন সোজা গ্যালারিতে। গতকাল রানের খাতাও খুলেছেন ছক্কা দিয়েই। তবে এই ছক্কা সাব্বির পেয়েছেন সৌভাগ্যের ছোঁয়া। টিম সাউদির বলে ফাইনলেগে লকি ফার্গুসনের তালুবন্দি হয়েছিলেন প্রায়! বলটি ধরার পরও কিউই ফিল্ডার শেষ মুহূর্তে হাতে রাখতে পারেননি। ক্যাচ তো মিস হয়ই, ছক্কাই হয়ে যায়।

শুরুতে পাওয়া এই সুযোগকেই দারুণভাবে কাজে লাগিয়েছেন। সেঞ্চুরি করে সিরিজে তিনি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হয়ে গেছেন। তিন ম্যাচে সর্বোচ্চ ২৬৪ রান করে সিরিজ সেরা হয়েছেন মার্টিন গাপটিল। সাব্বিরের রান ১৫৮। যেখানে ৭ নম্বরে ব্যাট করতে নামা ব্যাটসম্যানের বেশি সুযোগই পাওয়ার কথা নয়। কিন্তু টপ অর্ডারের ব্যর্থতায় পাওয়া সুযোগটার যথাযথ সদ্ব্যবহার করেন রাজশাহীর এই ক্রিকেটার।

আগের দুই ম্যাচে দলে একজন ব্যাটসম্যান বেশি নেওয়ার পরও কোনো লাভ হয়নি। তাই গতকাল ডানেডিনে একজন বোলার বেশি নেওয়া হয়। ইনজুরির কারণে আগের দুই ম্যাচের হাফ সেঞ্চুরি করা মোহাম্মদ মিথুনের জায়গায় নেওয়া হয় পেসার রুবেল হোসেনকে। সে কারণে সাব্বিরও ৭ নম্বর থেকে উঠে আসেন ৬-এ। ব্যাটিং অর্ডারের সামান্য পরিবর্তন হওয়ায় বাজিমাত করে দেন সাব্বির।

তার ব্যাটিংয়ের লক্ষ্যণীয় দিক ছিল, দল খাদে পড়ে গেলেও স্ট্রাইকরেট ১০০র কাছাকাছি রেখে তিনি সেঞ্চুরি পূরণ করেছেন। মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন (৪৪) ও মেহেদী হাসান মিরাজের (৩৭) দারুণ সঙ্গও পেয়েছেন। কিন্তু দল বড় ব্যবধানে হেরে যাওয়ায় যেন লড়াইটা বৃথাই গেল!

তবে এমন ‘মরা’ ম্যাচেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে সেঞ্চুরির পর সাব্বিরের উদযাপন। এই সফরে থাকারই কথা ছিল না মারকুটে এই ব্যাটসম্যানের। ঘরোয়া লিগে সমর্থককে মারধর করায় গত সেপ্টেম্বরে বিসিবি তাকে ৬ মাসের জন্য নিষিদ্ধ করেছিল। এই ফেব্রুয়ারির ২৮ তারিখ পর্যন্ত সাব্বিবের ‘আন্তর্জাতিক ক্রিকেট’ খেলার ওপর ছিল নিষেধাজ্ঞা। কিন্তু নিউজিল্যান্ড সফরের দল ঘোষণার সময় দেখা যায়, ব্যাটিং অর্ডারের ৭ নম্বরে হার্ডহিটিং ব্যাট করার কাউকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। আরিফুলকে দিয়ে চেষ্টা করা হলেও লাভ হয়নি।

ক্যাপ্টেন মাশরাফি এই পজিশনে এমন কাউকে চাচ্ছিলেন, যাকে দিয়ে বিশ্বকাপে খেলার কথা ভাবা যায়। তাই এক্ষেত্রে সাব্বিরের বিকল্প খুঁজে পাওয়া না যাওয়ায় তাকে দলে নেওয়া হয়। তখনই বিতর্কও ওঠে। নিষিদ্ধ এক ক্রিকেটার কিভাবে জাতীয় দলে সুযোগ পান? পরে জানা গেল, তার শাস্তির মেয়াদ এক মাস কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে দল ঘোষণার আগে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানোও হয়নি এ বিষয়ে। সাব্বিরের ফর্ম কিংবা তার সামর্থ্য নিয়ে কথা না হলেও তার দলে ঢোকার পদ্ধতি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়। হয়তো সে কারণেই গতকাল দলের হার নিশ্চিত হওয়ার পরও সেঞ্চুরি করে ভিন্ন রকমের উদযাপন- ‘সাব্বিরের ব্যাট কথা বলে’!


আপনার মন্তব্য