শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ১৫ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৫ জুলাই, ২০১৯ ০৩:০৫

সবশেষে ক্রিকেটেরই জয়

আসিফ ইকবাল

নায়ক হতে পারতেন কেন উইলিয়ামসন। মহানায়ক হয়েছেন বেন স্টোকস। চ্যাম্পিয়ন হতে পারত নিউজিল্যান্ড। চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ইংল্যান্ড। বিশ্বকাপ ক্রিকেটের পরতে পরতে ছড়িয়ে থাকা ফাইনালে সুপার ওভারের শেষ বলের চরম নাটকীয়তায় বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ইংল্যান্ড। জয়ী হয়েছে ক্রিকেট জনকেরা। কিন্তু সত্যিকারের জয় হয়েছে ক্রিকেটের।

১৯৬৬ সালে ইংল্যান্ড পেয়েছিল ববি মুর, ববি চার্লটন, জিওফ হার্স্ট, গর্ডন ব্যাঙ্কসদের মতো মহানায়কদের। ৫৩ বছর পর ইংলিশরা পেলেন নতুন মহানায়কদের। সরল দোলকের পেন্ডুলামের মতো দুলতে থাকা বিশ্বকাপ ক্রিকেটের ফাইনাল জিতে টেমস নদীর পাড়ের ইংলিশদের নয়নের মনি এখন মরগান, বেন স্টোকস, জেসন রয়, জনি বেয়ারস্টো, জো রুট, জোফরা আর্চার, মার্ক ওডরা। এসব ক্রিকেটার এখন মুর, চার্লটন, হার্স্ট, ব্যাংকসদের মতো আধুনিক ইংল্যান্ডের মহাবীর, মহানায়ক।

৪৮ ম্যাচের বিশ্বকাপের সমাপ্তি এসেছে অসাধারণ এক নাটকীয় ওভারে। প্রথমে ব্যাট করার নিউজিল্যান্ডের সংগ্রহ ছিল ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ২৪১। ২৪২ রানের টার্গেটে খেলতে নেমে বিশ্বকাপের আয়োজক ইংল্যান্ডের ইনিংসও থমকে যায় ২৪১ রানে। জয়ের জন্য শেষ ওভারে ইংলিশদের জয়ের জন্য দরকার ছিল ১৫ রান। বুল্টের ওভারের প্রথম দুই বলে ম্যাচ সেরা স্টোকস রান নিতে পারেনি একটিও। সমীকরণ দাঁড়ায় শেষ ৪ বলে ১৫ রানের। তৃতীয় বলে মিড উইকেটে ছক্কা হাঁকিয়ে স্টোকস পাল্টে ফেলেন ম্যাচের সমীকরণ। ৩ বলে ৯ রান। উত্তেজনায় কাঁপছে লর্ডসসহ গোটা ক্রিকেট বিশ্ব। চার নম্বর বলে দুই রান নিয়েও ভাগ্যগুণে ওভার থ্রোতে ইংলিশরা পেয়ে যায় আরও ৪ রান। শেষ ২ বলে ৩ রান। ৫ ও ৬ নম্বর বলে এক, এক করে দুই রান নিলে স্কোর সমান হলে ম্যাচ টাই হয়। ম্যাচ গড়ায় সুপার ওভারে। দুই ইংলিশ ব্যাটসম্যান স্টোকস ও বাটলার ব্যাট করে বুল্টের ৬ বলে দুই বাউন্ডারিতে তুলে নেন ১৫ রান। জয়ের জন্য নিউজিল্যান্ডের টার্গেট দাঁড়ায় ১৬ রান। নিশাম ও গাপটিলও ১৫ রান নেন আর্চারের ওভারে। কিন্তু কিউইদের ইনিংসে ছিল একটি ওভার বাউন্ডারি। সুপার ওভারেও টাই হলে নিয়ম অনুযায়ী বেশি বাউন্ডারি মারায় বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হয় ইংল্যান্ড।

সুপার ওভারের নাটকীয় সমীকরণে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ইংল্যান্ড। ২০০৭ সালে প্রথম টি-২০ বিশ্বকাপে সুপার ওভারে চির প্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ভারত। কিন্তু জোহানেসবার্গের ফাইনালটি লর্ডসের ফাইনালের মতো রং ছড়ায়নি। উত্তেজনায় লাল-নীল রঙে মাখামাখি হয়নি। ম্যাচ শেষে বিশ্বজয়ের আনন্দে ইংলিশ ক্রিকেটাররা যেভাবে প্রজাপতির ডানায় চড়ে গোটা লর্ডসে ভেসে বেড়িয়েছেন, তাতে আরও একবার প্রমাণিত হলো ক্রিকেট কেন ফানি গেম!


আপনার মন্তব্য