শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ৭ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ৬ নভেম্বর, ২০১৯ ২৩:০৬

সিরিজ জয়ের হাতছানি টাইগারদের

রাজকোটে রাজসিক লড়াই

দ্বিতীয় টি-২০ আজ । শুরু সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায়

মেজবাহ্-উল-হক

রাজকোটে রাজসিক লড়াই

দিল্লিতে জয়ের পর ভারতীয়রা প্রশংসায় ভাসিয়ে দিচ্ছে টাইগারদের! ‘বাংলাদেশ যোগ্য দল হিসেবেই জিতেছে!’-এমন কথা বলার পর তারা যে ভিতরে ভিতরে ক্ষোভের আগুনে পুড়ছেন তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না!

এটা ঠিক যে ভারতের বেশ কয়েকজন তারকা নেই দলে। অনুপস্থিত নিয়মিত অধিনায়ক বিরাট কোহলি। অলরাউন্ডার হার্দিক পান্ডিয়া এবং দুই তারকা পেসার জাসপ্রিত বুমরা ও ভুবনেশ্বর কুমার না থাকলেও এই ভারতকে ‘বি’ দল ভাবার কোনো কারণ নেই।

আইপিএলের কারণে ভারতীয় ক্রিকেটারদের অভিজ্ঞতার ঘাটতি নেই টি-২০তে। বরং তাদের একেকজন ক্রিকেটার যেন ‘টি-২০ মাস্টার’! আর ঘরের মাঠে ভারত তো অপ্রতিরোধ্য এক দল। সিরিজের প্রথম ম্যাচে এই দলটিকে হারিয়ে রীতিমতো চমকে দিয়েছে বাংলাদেশ।

হারটা কিছুতেই হজম করতে পারছে না ভারত। তাই সতীর্থদের ওপর খানিকটা বিরক্ত দলের সেরা স্পিনার যুবেন্দ্র চাহাল, ‘আমাদের দলের অধিকাংশ ক্রিকেটারই অন্তত ৩০-৪০টি আইপিএল ম্যাচ খেলেছে। আর আমার কথা যদি বলেন, আমি তো বোলিং করি মাত্র ৪ ওভার। বাকি ১৬ ওভার তো পড়েই থাকে। জিততে হলে পুরো ম্যাচই ভালো খেলতে হবে।’

সিরিজে ফেরার জন্য রীতিমতো মরিয়া ভারত। কিন্তু বাংলাদেশ কী ভাবছে? সাকিব আল হাসান নেই, তামিম ইকবাল নেই। নেই তারকা অলরাউন্ডার মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনও। এ ছাড়া নানা ঘটনায় টালমাটাল ছিল বাংলাদেশ। এমন অবস্থায় সমর্থকদের প্রত্যাশাও হয়তো তেমন একটা ছিল না। খুব বেশি আশাবাদী দর্শকের ভাবনাও ছিল হয়তো সম্মানজনক হার! কিন্তু সেই দলটাই প্রথম ম্যাচে দারুণ এক জয়ে পুরো দৃশ্যপট পাল্টে দিয়েছে।

এখন সমর্থকরা হয়তো আশায় বুক বাঁধছেন সিরিজ জয়ের। কিন্তু অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের ভাবনা কী? ‘ওরা হয়তো মরিয়া হয়ে আছে (সিরিজে ফিরতে)। আমরাও মরিয়া হয়ে আছি। এটা অনেক বড় একটি সুযোগ আমাদের জন্য। যেহেতু আমরা প্রথমবার ভারতে পূর্ণাঙ্গ সফরে এসেছি। সিরিজ জিততে পারলে এটা আমাদের জন্য অনেক বড় একটি অর্জন হয়ে থাকবে।’ আজ যেন এক ‘রাজসিক’ লড়াইয়ে ভারতের মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ। রোহিত শর্মার জন্য এখন এই সিরিজটা হয়ে গেছে প্রেটিজ ইস্যু! আগের সিরিজে তারা ওয়ানডেতে দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দলকে পাত্তাই দেয়নি। আর পছন্দের ফরমেট টি-২০তে তারা প্রথম ম্যাচে টাইগারদের বিরুদ্ধে হারটা কিছুতেই মানতে পারছে না।

রাজকোটে আজ জয়ের জন্য ভারত যে কতটা মরিয়া তা রোহিতের কথাতেই পরিষ্কার, ‘আমি কৌশল নিয়ে বলতে পারব না। তবে এটা বলতে পারি, আমাদের অ্যাপ্রোচটা এবার ভিন্ন হবে। দিল্লিতে খেলেছিলাম পিচের চরিত্র বুঝে। পিচ যেমন আচরণ করছিল সে অনুযায়ী খেলেছিলাম। তবে এখানকার (রাজকোট) পিচ অনেক ভালো। এ কারণে ব্যাটিং-বোলিংয়ে আমাদের ভাবনা হবে ভিন্ন।’

মাহমুদুল্লাহ ঠা া মাথার অধিনায়ক। এই ম্যাচে ভারত যে জয়ের জন আগ্রাসী হয়েই মাঠে নামবে তা তিনি খুব ভালো করেই জানেন। টাইগার ক্যাপ্টেন বলেন, ‘আঁচ করতে পারছি, তারা ভালোভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করবে। আরও আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলার চেষ্টা করবে। আমার কাছে মনে হয় টি-২০তে আপনি যদি উইকেট থেকে সহায়তা নিতে পারেন এবং সে অনুযায়ী ফিল্ডিং সাজাতে পারেন তাহলে সুযোগ থাকবে ভালো করার। টি-২০তে সঠিক সময় সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়াটাই গুরুত্বপূর্ণ। আমরাও আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলতে চাই। আমাদের অ্যাপ্রোচ বাংলাদেশকে জেতানো।’

সাকিবের নিষেধাজ্ঞা এবং তামিমের না যাওয়ার কথা শুনে ভারতীয় মিডিয়া কিংবা আয়োজকদের ভাবটা এমন ছিল যেন ম্যাচের টিকিটই বিক্রি হবে না! অনেক বড় ক্ষতি হয়ে যাবে তাদের। কিন্তু দিল্লি ম্যাচের পর দেখা গেল ভুল ভাঙছে ভারতের। তাই তো চাহাল রাখঢাক না করে সরাসরি বলেই ফেললেন, ‘এই বাংলাদেশ দল খুবই শক্তিশালী। খুবই অভিজ্ঞ। এমনকি নতুন লেগ স্পিনার আমিনুল ইসলামও (বিপ্লব) দারুণ বোলিং করেন। বাংলাদেশ শক্তিশালী দল। দলের শক্তি কমেনি কোনো অংশেই, শুধু এই দলে নেই সাকিব ও তামিম এই যা!’

ভারত কি তবে চাপে? এমন কথাও মানতে রাজি নন চাহাল, ‘আমাদের ওপর কোনো চাপ নেই। আমরা যে ভালো দল সে আত্মবিশ্বাস আমাদের মধ্যে আছে। শেষের কয়েকটি ম্যাচের দিকে তাকালেই তা পরিষ্কার হয়ে যাবে। তাই হেরেছি বলে হা-হুতাশ করার কিছু নেই। এটা তো নকআউট পর্ব নয়। এক দল জিতবে আরেক দল হারবে- এটাই তো স্বাভাবিক!’ যেন রীতিমতো কৈফিয়ৎ দিতে হয়েছে চাহালকে। 

রাজকোটে আজ দুই দলই জয়ের হুঙ্কার দিলেও ম্যাচ মাঠে গড়াবে কিনা তা নিয়ে রয়েছে সংশয়। সাইক্লোন মাহা’র প্রভাবে প্রবল বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা।


আপনার মন্তব্য