শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ১৩ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৩ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:৫৪

টেনিস সম্রাজ্ঞী ‘জিন কিং’

মেজবাহ্-উল-হক

টেনিস সম্রাজ্ঞী ‘জিন কিং’
২০০৯ সালে হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সঙ্গে জিন কিং

টেনিসে সর্বকালের সেরাদের তালিকা করলে ওপরের দিকেই থাকবে আমেরিকার নারী টেনিস কিংবদন্তি বেলি জিন কিং মোফিটের নাম। তার ঝুলিতে মোট ৩৯টি গ্র্যান্ডস্লাম। এর মধ্যে ১২টি এককে, ১৬টি ডাবলসে এবং ১১টি মিশ্র ডাবলসের শিরোপা জিতেছেন।

আমেরিকার হয়ে তিনি ফেডারেশ্ন কাপ ও ওয়াইটমান কাপে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তিনি ৭টি ফেডারেশ্ন কাপ ও ৯টি ওয়াইটমান কাপ জিতেছেন। ২৪ বছরের ক্যারিয়ারে মোট ১২৯টি পেশাদার টেনিসের শিরোপা জিতে টেনিস সম্রাজ্ঞী হয়ে আছে জিন কিং।

তিনি দীর্ঘদিন লিঙ্গ বৈষম্য ও সামাজিক ন্যায়বিচার নিয়ে কাজ করেছেন। ক্রীড়া ব্যক্তিত্বের বাইরেও আইনজীবী হিসেবে নিজের আলাদা পরিচয় দাঁড় করিয়েছেন। নারী অধিকারের একজন সক্রিয় যোদ্ধা ছিলেন এই জিন কিং।

উইম্যানস টেনিস অ্যাসোসিয়েশ্ন ও উইম্যানস স্পোর্টস ফাউন্ডেশ্ন প্রতিষ্ঠা করেছেন। টেনিস থেকে অবসর নেওয়ার পর নিজের জীবনকে বঞ্চিত নারীদের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে যুক্ত রেখেছেন। ১৯৭৩ সালে তিনি টেনিস কিংবদন্তি ববি গিগসের বিরুদ্ধে হাউসটনে ‘ব্যাটল অব সেক্সেস’ জিতেন। ‘ব্যাটল অব সেক্সেস’ হচ্ছে আকর্ষণীয় এক প্রদর্শ্বনী ম্যাচ, যেখানে ছেলেদের দল ও মেয়েদের দলের মধ্যে লড়াই। এই লড়াইয়ে জিতে নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যান কিং।

জিন কিংয়ের জন্ম ১৯৪৩ সালের ২২ নভেম্বর ক্যালিফোর্নিয়ার লং বিচে এক রক্ষণশীল পরিবারে। তার বাবা ও মা দুজনই ছিলেন স্পোর্টসের সঙ্গে যুক্ত। মা ছিলেন একজন দুর্দান্ত সাঁতারু, আর বাবা তারকা বাস্কেটবল খেলোয়াড়। তিনি বেসবলও খেলতেন। কিংয়ের ছোট ভাই র‌্যাঙ্কিং মোফিট মেজর লিগ বেসবলের তারকা খেলোয়াড় ছিলেন। জিন কিং ছোটবেলায় দারুণ বেসবল খেলতেন। সফট বলও ছিল তার প্রিয় খেলা। তিনি ছিলেন লং বিচ অনূর্ধ্ব-১০ সফট বল চ্যাম্পিয়ন দলের সদস্য।

কিংয়ের বয়স যখন ১১ তখন তার রক্ষণশীল বাবা-মা ভাবলেন মেয়েকে এমন খেলায় দিতে হবে যেখানে ছেলেদের সঙ্গে খুব বেশি মিশ্তে হবে না। সে কারণেই তাকে বেসবল ও সফট বল খেলা থেকে বিরত রাখলেন। কিংকে টেনিস খেলার পরামর্শ্ব দিলেন। তিনি যে সানন্দে পরিবারের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে টেনিসে মনোযোগী হয়েছেন এমন নয়!

প্রথমদিকে ইচ্ছার বিরুদ্ধেই টেনিস খেলেছেন। এমনকি তিনি টেনিসের প্রথম যে র‌্যাকেটটি কিনেছিলেন তার জন্য বাবা-মায়ের কাছ থেকে কোনো অর্থ নেননি। নিজের জমানো ৮ ডলার দিয়ে র‌্যাকেট কিনে শুরু করে দেন খেলা। একটা সময় দেখলেন বেসবল ও সফট বলের চেয়ে টেনিসই তার বেশি ভালো লেগে যায়। তারপর আর পেছনে তাকাতে হয়নি।

একের পর এক শিরোপা জিতে হয়ে যান টেনিসের কিংবদন্তি। ১৯৬৬ সালে তিনি বিশ্ টেনিস র‌্যাঙ্কিংয়ে এক নম্বরে ওঠেন।

টেনিসকে গুডবাই জানানোর পর নানা ধরনের সামাজিক কর্মকান্ডের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। জিন কিংয়ের পরিচয় শুধু একজন মার্কিন নারী ক্রীড়াবিদ নয়, তিনি বিশ্ ক্রীড়াঙ্গনেও এক জীবন্ত কিংবদন্তি!

 

মোট ৩৯টি গ্র্যান্ড স্লাম জয়

অস্ট্রেলিয়ান ওপেন : একক ১টি,  ডাবলস ২টি, মিশ্র ডাবলস ১টি।

ফ্রেঞ্চ ওপেন : একক ১টি, ডাবলস ১টি, মিশ্র ডাবলস ২টি।

উইম্বলডন : একক ৬টি, ডাবলস ৮টি, মিশ্র ডাবলস ৪টি।

ইউএস ওপেন : একক ৪টি, ডাবলস ৫টি, মিশ্র ডাবলস ৪টি।

 

অ্যাওয়ার্ড ও সম্মান

১৯৬৭ সালে অ্যাসোসিটেড প্রেসের বর্ষসেরা নারী ক্রীড়াবিদ।

প্রথম মহিলা অ্যাথলেট হিসেবে ১৯৭২ সালে ‘স্পোর্টস ইলাস্ট্রেটেড অব দ্য ইয়ার’ নির্বাচিত হয়েছেন।

১৯৮৭ সালে আন্তর্জাতিক টেনিসের হল অব ফেমে অন্তর্ভুক্ত হয় কিংয়ের নাম।

বিখ্যাত লাইফ ম্যাগাজিনের করা শ্তাব্দীর সেরা ক্রীড়াবিদদের তালিকায় ছিল কিংয়ের নাম।

২০০৬ সালে কিংকে সম্মান জানিয়ে প্রবর্তন করা হয় ‘বেলি অ্যাওয়ার্ড’।

২০০৬ সালে ক্যালিফোর্নিয়া হল অব ফেমে অন্তর্ভুক্ত হন।

২০০৭ সালে টাইমস থেকে আজীবন সম্মাননা পান।

২০০৯ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা তাকে ‘প্রেসিডেন্ট মেডেল অব ফ্রিডম’ অ্যাওয়ার্ড দেন।

২০১৮ সালে বিবিসি থেকে আজীবন সম্মাননা পান।

 


আপনার মন্তব্য