শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:১৭

যুবাদের চোখ ফাইনালে

ঘরের মাটিতে অনুষ্ঠিত ২০১৬ আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো সেমিফাইনালে উঠেছিল বাংলাদেশের যুবারা। শেষ চারের লড়াইয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ যুবাদের কাছে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হয়েছিল। আবারও সেমিফাইনালে উঠেছে যুবা টাইগাররা

ক্রীড়া প্রতিবেদক

যুবাদের চোখ ফাইনালে

ঘরের মাটিতে পারেননি মেহেদি হাসান মিরাজ, নাজমুল হোসেন শান্তরা। ব্যর্থ হয়েছিলেন অনূর্ধ্ব-১৯ যুব বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলতে। ফেবারিট হয়েও হেরেছিলেন ক্যারিবীয় যুবাদের বিপক্ষে। চলতি যুব বিশ্বকাপের আগে পর্যন্ত ২০১৬ সালের আসরটিই ছিল বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে সেরা। ঘরের মাঠে তৃতীয় হয়েছিল সেবার। চার বছর আগের যুব বিশ্বকাপকে পেছনে ফেলার সুবর্ণ সুযোগ এখন বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের সামনে। হাতছানি দিচ্ছে প্রথমবারের মতো যুব বিশ্বকাপের ফাইনালের। এজন্য ৬ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার হারাতে হবে নিউজিল্যান্ড যুবাদের। প্রতিপক্ষ ব্ল্যাক ক্যাপস যুবা বলেই স্বপ্নের পরিধিটা আকাশসম। কারণ আর কিছুই নয়, তিন মাস আগে নিউজিল্যান্ডের মাটিতে নিউজিল্যান্ডকে ৪-১ ব্যবধানে হারিয়েছিল। সেই সিরিজ জয়ের সুখস্মৃতিই আত্মবিশ্বাস জোগাচ্ছে রকিবুল, আকবর, তানজিদদের। সেমিফাইনালে টাইগার যুবাদের উৎসাহ জোগাতে দক্ষিণ আফ্রিকা যাচ্ছেন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন।

২৬ ডিসেম্বর মিরপুর স্টেডিয়ামে অফিশিয়াল ফটোসেশনে যুব ক্রিকেটারদের উৎসাহ দিতেই বিসিবি সভাপতি বলেছিলেন, তারা যদি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠে, তাহলে তিনি দক্ষিণ আফ্রিকা যাবেন। কারন, তিনি কখনোই দক্ষিণ আফ্রিকা সফর করেননি। রকিবুল, তানজিদরা সেমিফাইনালে উঠেছেন। বাধ্য হয়ে বিসিবি সভাপতি যাচ্ছেন দক্ষিণ আফ্রিকা। অবশ্য বিসিবি সভাপতি জাতীয় দলকে উৎসাহ দিতে পাকিস্তান সফরও করেছিলেন।

অনূর্ধ্ব-১৯ যুব বিশ্বকাপে বাংলাদেশ নিয়মিত খেলছে ১৯৯৮ থেকে। প্রথম আসরে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল প্লেট পর্বে। ২০১৮ সাল পর্যন্ত চারবার প্লেট চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলাদেশ। ১৯৯৮, ২০০৪, ২০১০ ও ২০১৪ সালে প্লেট চ্যাম্পিয়ন হয়। কাপ পর্বে খেলেছে ২০০৬, ২০০৮, ২০১২, ২০১৬, ২০১৮ ও ২০২০ সালে। ছয়বার কাপ পর্বে খেললেও সেমিফাইনালে উঠেছে দুবার, ২০১৬ ও ২০২০ সালে। চার বছর আগে ঘরের মাঠে ফেবারিট ছিল শিরোপা লড়াইয়ে। সেমিফাইনাল পর্যন্ত দুর্দান্ত খেলেছিলেন মিরাজরা। সেমিতে হেরে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ যুবাদের কাছে। এ ছাড়া ২০০৬ সালে শ্রীলঙ্কায় পঞ্চম হয়েছিল যুব দল সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবালদের দুরন্ত পারফরম্যান্সে। কাপ পর্বে ২০০৮ সালে সপ্তম, ২০১২ সালে সপ্তম ও ২০১৮ সালে ষষ্ঠ হয়েছিল টাইগার যুবারা।

এবারের বিশ্বকাপের জন্য যুব দল প্রস্তুতি নিয়েছে গত ছয় মাসে। ৩০টি অফিশিয়াল ম্যাচ খেলেছে দেশে ও বাইরে। ম্যাচ প্রস্তুতি আসরের অন্য যে কোনো দলের চেয়ে বেশি। প্রস্তুতি ম্যাচগুলো খেলে শ্রীলঙ্কার সাবেক ক্রিকেটার নাভিদ নাওয়াজের কোচিংয়ে নিজেদের ঝালাই করে নেন আকবর, তওহিদ হৃদয়, তানজিম, শরিফুল, রকিবুলরা। আসরের প্রথম ম্যাচেই আফ্রিকান প্রতিনিধি জিম্বাবুয়েকে নিয়ে ছেলেখেলায় মেতেছিল যুব দল। আইসিসি সহযোগী দেশ স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করেছিলেন বাঁ হাতি স্পিনার রকিবুল। পাকিস্তানের বিপক্ষে গ্রুপের শেষ ম্যাচটি ভেসে যায় বৃষ্টিতে। পয়েন্ট সমান হলেও রান রেটে পাকিস্তানকে পেছনে ফেলে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়। কোয়ার্টারে মুখোমুখি হয় স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকা যুবাদের। সেমিতে ওঠার ম্যাচটিতে দুর্দান্ত ব্যাটিং করেন তানজিদ, তওফিক হৃদয় ও শাহাদত হোসেন। তানজিদের ব্যাট থেকে বেরোয় ৮০ রানের নান্দনিক এক ইনিংস। তওফিক ৫১ ও শাহাদত অপরাজিত থাকেন ৭৪ রানে। ২৬৩ রানের টার্গেটে খেলতে নেমে দক্ষিণ আফ্রিকান যুবারা রকিবুলের ঘূর্ণিতে নাকাল হয়ে গুটিয়ে যায় ১৫৭ রানে। বাঁ-হাতি  স্পিনার রকিবুল ঘূর্ণিতে একাই বিপর্যস্ত  করেন প্রতিপক্ষ প্রোটিয়াস যুবাদের। ৯.৩ ওভারের স্পেলে তিনি রান দেন মাত্র ১৯ এবং তুলে নেন প্রতিপক্ষের ৫ উইকেট। যুব বিশ্বকাপে অসাধারণ পারফরম্যান্সের পর অনেকেই বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিবের ছায়া খুঁজে পেয়েছেন তার মাঝে। ম্যাচ জেতানোর   নায়ক রকিবুলও স্বীকার করেছেন দেশসেরা ক্রিকেটারকে অনুসরণ করার কথা, ‘নির্দিষ্ট করে আমার কোনো আদর্শ ক্রিকেটার নেই। তবে সাকিব আল হাসানকে অনুসরণ করি। তিনি বাংলাদেশ ক্রিকেটের কিংবদন্তি। তিনি কীভাবে প্রতিপক্ষের উইকেট ও ব্যাটসম্যানকে রিড করেন, তা খেয়াল করি। সাফল্য পাচ্ছি, কারণ গত এক বছর অনেক পরিশ্রম করেছি।’

ফাইনাল খেলতে কঠিন লড়াই করতে হবে নিউজিল্যান্ড যুবাদের বিপক্ষে। দলটি কোয়ার্টার ফাইনালে হারিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে। প্রথমবারের মতো ফাইনাল খেলতে সেরাটা উজাড় করে দিতে হবে আকবর, তওহিদ হৃদয়, শাহাদত, তানজিদ, শরিফুল, রকিবুল, মুরাদ, শামীমদের। শুধু ব্যাটিং ও বোলিংই নয়, শতভাগ পারফরম্যান্স করতে হবে ফিল্ডিংয়েও।


আপনার মন্তব্য