শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৫ অক্টোবর, ২০২০ ২৩:৫৯

ফাইনালে সুমন ম্যাজিক

ক্রীড়া প্রতিবেদক

ফাইনালে সুমন ম্যাজিক

প্রথম চার ম্যাচে পুরোপুরি ব্যর্থ। নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি। ফাইনালে এসে আগের চার ম্যাচের ব্যর্থতাকে পুরোপুরি পুষিয়ে দিয়েছেন লিটন দাস। বিসিবি প্রেসিডেন্ট কাপ ফাইনালে লিটন আগের রূপে ফিরে এসেছিলেন গতকাল। এশিয়া কাপের ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে খেলেছিলেন তিন অংকের নান্দনিক ইনিংস।

গতকাল নাজমুল একাদশের বিপক্ষে শিরোপা জয়ী ম্যাচে তিন অংকের জাদুকরি ইনিংস খেলেননি ঠিকই, কিন্তু ৬৮ রানের যে ঝড়ো ইনিংসটি খেলেন, তাতেই নাজমুল একাদশকে ৭ উইকেটে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় মাহমুদুল্লাহ একাদশ। শুধু লিটন নন, বাঁ হাতি ইমরুল কায়েশও ছিলেন  দুর্দান্ত। ঝড়ের গতিতে ব্যাট চালিয়ে ৫৫ বলে হার না মানা ৫৩ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। যাতে ছিল ছয় ছয়টি ছক্কা। নাঈম হাসানকে টানা দুই ছক্কায় খেলার যবনিকাপাত ঘটান ইমরুল। ১৭৪ রানের টার্গেট টপকে মাহমুদুল্লাহ একাদশ চ্যাম্পিয়ন হয় ১২২ বল বা ২০.৪ ওভার হাতে রেখে। দুই জনের ম্যাচ জেতানো ইনিংসে ম্লান হয়ে যায় তরুণ ফাস্ট বোলার সুমন খানের বিধ্বংসী বোলিং ও ইরফান শুক্কুরের নান্দনিক ৭৫ রানের ইনিংস। তাসকিন, রুবেল, মুস্তাফিজ, সাইফুদ্দিনদের মতো পরিচিত নেই। তাদের মতো তারকা বোলার নন। এমনকি ঘরোয়া ক্রিকেটেও পরিচিত মুখ নন তিনি। তাই আকাশসম কোনো চাপ ছিল না। চাপ নেই বলেই ২০ বছর বয়সী সুমন নিজেকে প্রমাণের জন্য মরিয়া ছিলেন। ভালো করার জেদকে কাজে লাগিয়ে বিসিবি প্রেসিডেন্ট কাপের ফাইনালে গতকাল গতির সঙ্গে সুইংয়ের অপূর্ব মিশেলে বিধ্বংসী বোলিং করে নাজমুল একাদশের ব্যাটসম্যানদের নাভিশ্বাস তুলেছেন। আলো ঝলমলে মিরপুর স্টেডিয়ামে নিয়ন্ত্রিত বোলিং করে আগুন ঝরিয়েছেন ২২ গজের উইকেটে। বৈরী আবহাওয়ায় দুইদিন পিছিয়ে ফাইনাল অনুষ্ঠিত হয় গতকাল। ব্যাটিংয়ে নেমে উইকেটের বাউন্সের সঙ্গে মানিয়ে নিতে ব্যর্থ ছিলেন নাজমুল বাহিনী। উইকেটের বাড়তি বাউন্সকে কাজে লাগিয়ে ইনিংসের শুরুতেই আঘাত হানেন রুবেল। তার দেখানো পথে হাঁটেন সুমন। যদিও প্রথম স্পেলে ২ ওভারে রান দেন ১৩। দ্বিতীয় স্পেলে নিজেকে পুরোপুরি মেলে ধরেন সুমন। ৪ ওভারের স্পেলে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলেন আসরের সবচেয়ে ধারাবাহিক মুশফিককে। ফাইনালের ১২ রানসহ টুর্নামেন্টে মুশফিকের রান ২১৯। এছাড়া নাজমুল বাহিনীর দুই সেরা ব্যাটসম্যান সৌম্য ও আফিফকেও সুইংয়ে বোকা বানিয়ে উইকেটের পেছনে নুরুল হাসান সোহানের দুর্দান্ত ক্যাচে পরিণত করেন। তৃতীয় স্পেলে আবারও আঘাত হানেন। সব মিলিয়ে ম্যাচ শেষে সুমনের স্পেল ১০-০-৩৮-৫। এর আগে তামিম একাদশের সাইফুদ্দিন ৫ উইকেট নিয়েছিলেন ২৬ রানের খরচে। ম্যাচে দারুণ বোলিং করেছেন রুবেলও। ৮ ওভারের স্পেলে ২৭ রানের খরচে নিয়েছেন ২ উইকেট। মাহমুদুুল্লাহ বাহিনীর দুরন্ত বোলিংয়েও প্রত্যয়ী ব্যাটিং করেছেন তরুণ বাঁ হাতি ব্যাটসম্যান ইরফান শুক্কুর। মুশফিকের পর গোটা টুর্নামেন্টে সবচেয়ে ধারাবাহিক ইরফান গতকাল খেলেন ৭৫ রানের দৃষ্টিনন্দন ইনিংস।

৬৪ রানের পঞ্চম উইকেটের পতনের পর শুক্কুর জুটি বাঁধেন আরেক তরুণ তওহিদ হৃদয়ের সঙ্গে। দুজনে ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে ৭০ রান যোগ করে দলকে টেনে নিয়ে যান। দলীয় ১৩৪ রানে তওহিদ ফিরেন ব্যক্তিগত ২৬ রানে। রুবেলের বলে বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফেরার আগে শুক্কুর ৭৫ রানের নান্দনিক ইনিংস খেলেন ৭৭ বলে। গোটা টুর্নামেন্টে এটা তার দ্বিতীয় হাফসেঞ্চুরি। মজার বিষয়ে মাহমুদুল্লাহ একাদশের বিপক্ষেই সবচেয়ে ধারাবাহিক তিনি। প্রথম ম্যাচে ৫৬*, দ্বিতীয় ম্যাচে ৪৮* এবং গতকাল ফাইনালে খেলেন ৭৫ রানের ইনিংস। সবমিলিয়ে টুর্নামেন্টে শুক্কুরের রান ৫ ম্যাচে ২১৪। মুশফিকের রান ২১৯। ম্যান অব দ্য ফাইনাল ও ফাইনালের সেরা বোলার সুমন খান, সেরা ফিল্ডার নুরুল হাসান সোহান, টুর্নামেন্ট সেরা মুশফিকুর রহিম, টুর্নামেন্টের সেরা ও ফাইনালের সেরা ব্যাটসম্যান ইরফান শুক্কুর এবং টুর্নামেন্ট সেরা বোলার রুবেল হোসেন।

 স্কোর কার্ড

নাজমুল একাদশ

১৭৩/১০ (৪৭.১ ওভার)

ইরফান শুক্কুর ৭৫, নাজমুল ৩২, তৌহিদ হৃদয় ২৬, মুশফিক ১২; সুমন ৫/৩৮, রুবেল ২/২৭, ইবাদত ১/১৮।

মাহমুদুল্লাহ একাদশ

১৭৭/৩ (২৯.৪ ওভার)

লিটন দাস ৬৮, ইমরুল কায়েস ৫৩*, মাহমুদুল্লাহ ২৩, মাহমুদুল হাসান ১৮; নাসুম আহমদ ২/৪৮, আল-আমিন ১/৩২।


আপনার মন্তব্য