শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ২৫ ডিসেম্বর, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৪ ডিসেম্বর, ২০২০ ২৩:৪৩

নির্বাচনী উত্তাপ, সাবিনার রেকর্ড

ঘরোয়া ফুটবল ২০২০

ক্রীড়া প্রতিবেদক

নির্বাচনী উত্তাপ, সাবিনার রেকর্ড

বছরটা হতাশার মধ্যে কেটেছে ফুটবলপ্রেমীদের। করোনাভাইরাসে সব লন্ডভন্ড হয়ে গেছে। মাঠের চেয়ে ফুটবলাররা বেশি অলস সময়ে পার করেছেন মৌসুমটা। ফেডারেশন কাপ দিয়ে মৌসুমে যাত্রা হয়। পরিসমাপ্তিও ঘটে। ফাইনালে রহমতগঞ্জকে ২-১ গোলে হারিয়ে শিরোপার ট্রফি ঘরে তুলে বসুন্ধরা কিংস। যথাসময়ে দেশের ফুটবলে মর্যাদাকর আসর পেশাদার লিগ মাঠে গড়িয়েছিল ঠিকই। মার্চে করোনার থাপায় থেমে যায়। এরপর ক্লাবগুলোর সঙ্গে আলাপ করেই লিগ বাতিল করে সালাম মুর্শেদীর নেতৃত্ব দেওয়া লিগ কমিটি। ২০০৭ সালে শুরুর পর এই প্রথম পেশাদার লিগ বাতিল হয়।

এদিক দিয়ে কিছুটা ভাগ্যবান বলতে হয় নারী ফুটবলারদের। দীর্ঘদিন পর তারা লিগ খেলেছেন। করোনাভাইরাসে প্রথমপর্বের শেষের দিকে লিগ স্থগিত হলেও শেষ পর্যন্ত তা শেষ হয়। বসুন্ধরা কিংস অভিষেক আসরেই অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়ে নতুন এক ইতিহাস গড়ে। অধিনায়ক সাবিনা খাতুন এমন এক রেকর্ড গড়েছেন যা ৭২ বছরে ঘরোয়া আসরে কোনো ফুটবলারের পক্ষে সম্ভব হয়নি। এক লিগে ৮ হ্যাটট্রিকসহ সর্বোচ্চ ৩৫ গোল করেন। বাফুফেকে ধন্যবাদ দিতে হয় করোনাকালেও নেপালের বিপক্ষে প্রীতিম্যাচের আয়োজনে। দুই খেলায় বাংলাদেশ একটিতে জিতলেও আরেকটি ড্র হয়। দোহায় বিশ্বকাপ বাছাই পর্বে দ্বিতীয় লেগে জামাল ভূঁইয়ারা কাতারের সামনে দাঁড়াতেই পারেননি। ০-৫ গোলে হেরে যায়। আশার কথা হচ্ছে এত হতাশার মধ্যেও চলতি বছর থেকেই শুরু হয়েছে ফুটবলের নতুন মৌসুম।

মাঠ নয় ফুটবলে উত্তাপটা ছিল মূলত বাফুফে নির্বাচন ঘিরেই। বছরের শুরু থেকেই সভাপতি প্রার্থী হিসেবে তরফদার মো. রুহুল আমিন প্রচারণায় ব্যস্ত থাকলেও হঠাৎ করেই তিনি নির্বাচন না করার ঘোষণা দেন। কেন তিনি সরে গেলেন এ রহস্য আজও উদঘাটন হয়নি। এপ্রিলে নির্বাচনের শিডিউল থাকলেও করোনার জন্য তা ঝুলে যায়। অক্টোবরে নির্বাচন হয়। এখানে আলোচিত হয়ে ওঠেন সাবেক কিংবদন্তি ফুটবলার বাদল রায়। কাজী সালাউদ্দিন, শফিকুল ইসলাম মানিকের সঙ্গে তিনিও সভাপতি পদে প্রার্থী হন। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিনে তিনি ঘোষণা দেন নির্বাচনে অংশ নেবেন না। কিন্তু নির্বাচনের আগের রাতে বাদল ঘোষণা দেন তিনি সভাপতি পদে নির্বাচন করছেন এবং কাউন্সিলরদের ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।

নির্বাচনে সালাউদ্দিন পুনরায় সভাপতি পদে নির্বাচিত হন। সিনিয়র সহ-সভাপতি সালাম মুর্শেদী ও সহ-সভাপতি পদে কাজী নাবিল আহমেদ বিজয় ধরে রাখলেও চমক দেখান ইমরুল হাসান। বসুন্ধরা কিংসের সভাপতির দায়িত্ব নিয়ে অল্পদিনেই সাংগঠনিক দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। প্রথমবারের মতো বাফুফে নির্বাচনে অংশ নিয়ে সহ-সভাপতি পদে সর্বোচ্চ ভোটে জয়ী হয়ে প্রমাণ রাখেন সংগঠক হিসেবে তার জনপ্রিয়তা। বছরে ফুটবলে সবচেয়ে বেদনাদায়ক ঘটনা ছিল বাদল রায়ের মৃত্যু। দীর্ঘদিন অসুস্থ ছিলেন ঠিকই। কিন্তু ফুটবলের মায়া ছাড়তে পারেননি। হাসপাতালে তিনি মৃত্যুবরণ করলেও অনেকের অভিযোগ ছিল মানসিক যন্ত্রণায় তিনি পুনরায় অসুস্থ হয়ে পড়েন। শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার মৃত্যুতে শোক জানিয়ে বলেছেন বাদলের মৃত্যুতে ফুটবলে বড় ক্ষতি হয়ে গেল। সত্যিই তাই ফুটবলে দ্বিতীয় বাদলের দেখা কি কখনো মিলবে?


আপনার মন্তব্য