রবিবার, ৬ জুন, ২০২১ ০০:০০ টা

ভারতকে ভয়ের কিছু নেই

ভারতকে ভয়ের কিছু নেই

ক্রিকেটে শক্তির পার্থক্য থাকলেও দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলে বাংলাদেশ ও ভারতের মান সমানই বলা যায়। বিশ্ব ফুটবলে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার লড়াইয়ে যেমন বাড়তি উত্তেজনা থাকে তেমন সার্ক অঞ্চলে বাংলাদেশ ও ভারতের ম্যাচ মর্যাদার লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে। কষ্ট লাগে এই ভারতের সঙ্গে জেতাটা যেন এখন স্বপ্নে পরিণত হয়েছে। দেড় যুগ অর্থাৎ ১৮ বছর ধরে ভারতকে আমরা হারাতে পারছি না। এর চেয়ে ট্র্যাজেডি আর কী হতে পারে। ২৯টি লড়াইয়ে ভারত ১৩ জয়, ১৩ ড্র। অন্যদিকে বাংলাদেশ জয় পেয়েছে মাত্র ৩টি। অনেকে বলেন ভারত ফুটবলে অনেকদূর এগিয়ে গেছে। আমি এতে দ্বিমত পোষণ করছি। সন্দেহ নেই তারা ফুটবলের পেছনে অনেক অর্থ ব্যয় করছে। বয়স বেছে তারা ফুটবলার তৈরি করছে। এতকিছুর পরও আমি বলব আমাদের মতো তাদেরও ফুটবল এশিয়া মানের নয়। সত্যি কথা বলতে কী ওরাতো আর আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল বা ফ্রান্স নয় যে তাদের হারানোই যাবে না। আফানিস্তানের বিপক্ষে যে খেলাটা খেলেছে সেটাই দেখাতে পারলে আমার বিশ্বাস ভারতকে হারানো সম্ভব।

২০০৩ সালে ঢাকায় আমরা সাফ ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন হয়েছি। সেবারই সেমিফাইনালে আমরা ভারতকে ২-১ গোলে হারাই। আমার হেডে বাংলাদেশ প্রথমার্ধে এগিয়ে থাকে। দ্বিতীয়ার্ধে তারা সমতা ফেরালেও মতিউর মুন্নার দুর্দান্ত গোলে বাংলাদেশ জিতে যায়। এরপর ১৮ বছর। দুই দল অনেকবার মুখোমুখি হয়েছি, ড্র করেছি, কিন্তু হারাতে পারিনি। এর চেয়ে বড় ব্যর্থতা আর কি হতে পারে। বলা হয় ভারত টেকনিক্যাল ফুটবল খেলে বলে বাংলাদেশ পারে না। আমি বুঝি না ওদের কী এমন টেকনিক আছে। এতই যদি ভালো খেলত গত সাফ ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন হতে পারল না কেন? এসএ গেমসেও তারা এখন চ্যাম্পিয়ন নয়। তাহলে ভারত দুর্দান্ত দল হলো কীভাবে? এবার বিশ্বকাপ বাছাইয়ে প্রথমপর্বে কাতারের বিপক্ষে ড্র করেছে। তাহলে তো আমরাও বলতে পারি কাতারকে হারিয়ে এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশ নকআউট পর্বে খেলেছে।

এরপরও বাংলাদেশকে জয়ের জন্য অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে কেন? আমি বলব একমাত্র চাপ নিয়ে মাঠে নামায় ভারতের বিপক্ষে দল এলোমেলো হয়ে যায়। এ জন্য আমি কর্মকর্তাদেরও কিছুটা দায়ী করব। কোনো টুর্নামেন্টে ভারতের বিপক্ষে খেলা হলেই তারা বলে আর কিছু না হোক তোমরা ভারতকে হারাও। তা না হলে প্রেস্টিজ থাকবে না। এমন বক্তব্যতেই চাপটা চলে আসে ফুটবলারদের মধ্যে। এবারেই বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে প্রথম লেগে যে অবস্থা হয়েছিল তাতে কর্মকর্তাদের মন্তব্য শুনে মনে হচ্ছিল ভারতকে না হারালে বাংলাদেশের ফুটবলই শেষ হয়ে যাবে। চাপ নিয়ে সল্টলেকে মাঠে নামে বাংলাদেশ। তারপরও কলকাতা কাঁপিয়ে দিয়েছিল। জামালদের নৈপুণ্য দেখে মনে হচ্ছিল ভারত ইউরোপের কোনো দেশের সঙ্গে খেলছে। প্রথমে গোল করেও জেতা ম্যাচ বাংলাদেশ ড্র করে।

অতিরিক্ত মানসিক চাপ। গোল মিসে আমাদের ভারত জয় করা সম্ভব হয়নি। ৭ জুন কাতারে আবার ভারতের বিপক্ষে খেলা। ড্র নয়, আগের ম্যাচে আফগানিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশ ৩-১ গোলে জেতা উচিত ছিল। শেষ ২০ মিনিট তপুরা আফগানদের নিয়ে ছেলেখেলা খেলেছে। এমন পারফরম্যান্স ভারতের বিপক্ষে ‘টনিক’ হিসেবে কাজ করবে। যতই বলি না কেন চাপমুক্ত হয়ে খেলতে হবে তা সম্ভব নয়। চিরপ্রতিদ্ধন্ধির লড়াইয়ে দুই দলই চাপে থাকবে। যারা কৌশল কাজে লাগাতে পারবে তারাই জয়ী হবে।

কাতারের বিপক্ষে ভারত যে কৌশলে খেলেছে তা কিন্তু ৭ জুন দেখা মিলবে না। জয়ের জন্য তারাও ছড়িয়ে-ছিটিয়ে খেলবে। ওদের রক্ষণ ও মধ্যমাঠকে শক্তিশালী মনে হয়েছে। সুতরাং আবেগে জেতার জন্য শুরুতেই সবাই আক্রমণে গেলে সর্বনাশ ডেকে আনবে। কাউন্টার অ্যাটাকে ভারত দারুণ পারদর্শী। ম্যাচটি স্বাভাবিকভাবে নিতে হবে। গোলের সুযোগ হারাবেই তবে তা যেন মহড়ায় পরিণত না হয়। আফগানিস্তানের সঙ্গে ড্র করে উজ্জীবিত বাংলাদেশ। অনেকদিন পর ভারতকে হারানোর সুযোগ এসেছে তা কাজে লাগাতে হবে। বাংলাদেশও পারে তা দেখাতে হবে জামালদের। ভারতকে ভয়ের কিছু নেই।

এই রকম আরও টপিক

সর্বশেষ খবর