শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ২৩:১৭

টাইগারদের আছে এক ডেঞ্জারম্যান

মেজবাহ্-উল-হক

টাইগারদের আছে এক ডেঞ্জারম্যান
Google News

আফিফ হোসেন ধ্রুব। ঠিক ধ্রুব তারার মতোই এখন জ্বলজ্বল করছে বাংলাদেশের ক্রিকেটাকাশে। টি-২০তে লোয়ার অর্ডার অপরিহার্য এক ব্যাটসম্যান। দুর্দান্ত এক ফিনিশার।

আফিফ একজন ‘পারফেক্ট পিঞ্চহিটার’! শেষ দিকে নেমে ঝড়ো গতিতে রান তুলতে পারেন। তার ছোট ছোট ইনিংসগুলোই দলের ভালো ফলাফলে রাখে দুর্দান্ত  ভূমিকা।

আফিফ নিজেকে ফোকাস পয়েন্টে নিয়ে আসেন ২০১৬ সালের বিপিএলে। সেবারের আসরে এই তরুণ ক্রিকেটারের নামই ছিল না নিলামে। যুব দলের হয়ে অনুশীলন ও প্রস্তুতি ম্যাচে দাপট দেখানোর সুবাদে রাজশাহী কিংস তারপরও তাকে দলে নেয়। তারপর ‘বিশেষ বিবেচনায়’ একাদশে সুযোগ পেয়ে যান এক ম্যাচে। আর প্রথম ম্যাচেই ৫ উইকেট নিয়ে বাজিমাত করে দেন আফিফ।

টি-২০তে সবচেয়ে কম বয়সে সেরা বোলিং করে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছিলেন। বিপিএল অভিষেকের দিন আফিফের বয়স ছিল ১৭ বছর ৭২ দিন। টি-২০ ক্রিকেটের ইতিহাসে অভিষেকে ৫ উইকেট নেওয়া বোলারের আগের রেকর্ডটি ছিল পাকিস্তানের বাঁ হাতি পেসার জিয়া-উল-হকের (১৭ বছর ১০৯দিন)।

ঘরোয়া ক্রিকেটেও বল হাতে দুটি দুটি হ্যাটট্রিক করেছেন আফিফ।

মজার বিষয় হচ্ছে, দুর্দান্ত বোলিং রেকর্ড থাকার পরও নিজেকে বোলার হিসেবে মনে করেন না তিনি। কাগজে-কলমে আফিফ অলরাউন্ডার। কিন্তু বাস্তবে ব্যাটিংকেই ধ্যানজ্ঞান করেন আফিফ।

বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে (বিকেএসপি) পড়ার সময় তাকে তুলনা করা হতো ড্যাসিং ওপেনার তামিম ইকবালের সঙ্গে। শট খেলতে দারুণ পছন্দ করেন। পেশাদার ক্রিকেটে বোলিং উজ্জ্বলতা দিয়ে শুরু হলেও এখন ব্যাটিং দিয়েই জাতীয় দলে নিজের অবস্থান পাকা করেছেন।

বাংলাদেশের জার্সিতে টি-২০তে লোয়ার অর্ডারে ভরসা এখন আফিফ। সব শেষ তিন সিরিজে বাংলাদেশ যে ক্যারিশমা দেখিয়েছে সেখানেও নেপথ্য নায়কের ভূমিকা পালন করেছেন এই তারকা।

আফিফ এমন সময় ব্যাট হাতে বাইশগজে নামেন, তখন বড় স্কোর খেলার কোনো সুযোগ থাকে না। এমনকি উইকেট সেট হওয়ার জন্যও সময় থাকে না। প্রথম বল থেকেই মারতে হয়। টপ অর্ডার ও মিডল অর্ডারে যেদিন সুবিধা করতে পারে না সেদিন লম্বা সময় ব্যাট করার সুযোগ পান আফিফ।

মিরপুরে ব্যাটসম্যানদের ‘মৃত্যুকূপে’ অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে বাংলাদেশ ১২২ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে ৬৭ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে যখন মহাবিপদে তখন হার না মানা ৩৭ রানের ইনিংস খেলে দলকে জিতিয়ে বাইশগজ ছাড়েন। এরপর ওই সিরিজে যখন বাংলাদেশ একের পর এক ম্যাচ জিতছিল তখন ‘ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া’র ওয়েবসাইটে চলছিল আফিফ বন্দনা। এই টাইগার তারকাকে বলা হচ্ছিল বাংলাদেশের ‘ডেঞ্জারম্যান’!

নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে সিরিজেও শেষ ম্যাচে ৩৩ বলে খেলেছিলেন অপরাজিত ৪৯ রান। যদিও ওই ম্যাচে বাংলাদেশ হেরে যায়। অবশ্য এখানে আফিফের করারও কিছু ছিল না। যখন ব্যাট হাতে বাইশগজে নামেন তখনই ম্যাচ থেকে ছিটকে গেছে দল।

তবে আফিফের ইনিংসটি আশার আলো দেখিয়েছে। কারণ, জিম্বাবুয়ে-অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে সিরিজ তিনটি ছিল এক অর্থে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি সিরিজ! এই তিন সিরিজেই নিজেকে আলাদাভাবে উপস্থাপন করেছেন আফিফ।

নিজেকে ‘ডেঞ্জারম্যান’ হিসেবে চেনাতে সমর্থ হয়েছেন। টি-২০ বিশ্বকাপের আগে টাইগাররা পেয়ে গেছে এক ‘পারফেক্ট ফিনিশার’, এক ডেঞ্জারম্যান।

বাংলাদেশের টি-২০ বড় অভাব ছিল একজন পিঞ্চহিটারের, সেই অভাবটা পূরণ করে দিয়েছেন আফিফ হোসেন। তার মতো ক্রিকেটাররা দলে আছেন বলেই, টি-২০ বিশ্বকাপে বাংলাদেশও চ্যালেঞ্জ জানানোর সামর্থ্য রাখে।

এখন দেখা যাক, এই ‘ডেঞ্জারম্যান’ বিশ্বকাপের মঞ্চে বাংলাদেশকে ‘বিশেষ কিছু’ উপহার দিতে পারেন কিনা!