শিরোনাম
শুক্রবার, ১ জুলাই, ২০২২ ০০:০০ টা

ঠিকানাবিহীন ব্রাদার্স ইউনিয়ন!

মোহামেডান, আবাহনী ও ব্রাদার্সই ঘরোয়া ফুটবলে তিন প্রধান শক্তি হয়ে দাঁড়ায়। ক্রীড়াঙ্গনে ব্রাদার্সের নাম কখনো মুছে যাওয়ার মতো নয়। অথচ এ ক্লাবই ফুটবলে ঠিকানাবিহীন। এই ব্রাদার্সের তরুণদের নৈপুণ্য দেখে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বলেছিলেন, ‘ব্রাদার্সে আমি মুগ্ধ। তাদের দেখে অন্য তরুণরা ফুটবল খেলতে অনুপ্রাণিত হবে।’

ক্রীড়া প্রতিবেদক

ঠিকানাবিহীন ব্রাদার্স ইউনিয়ন!

বাংলাদেশের ফুটবলে ইতিহাসের অংশ হয়ে আছে ব্রাদার্স ইউনিয়ন। ১৯৭৩ থেকে তৃতীয় বিভাগ ফুটবলে অভিষেকেই চমক দেখানো শুরু। গোলের ছড়াছড়ি, হ্যাটট্রিক, ডাবল হ্যাটট্রিক, ট্রিপল হ্যাটট্রিক। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে তৃতীয় থেকে প্রথম বিভাগে ব্রাদার্স ৩০০-এর বেশি গোল করেছে। একি কখনো ভাঙা সম্ভব। নানা রকমের রেকর্ড গড়েই ১৯৭৫ সালে ঘরোয়া ফুটবলে সবচেয়ে মর্যাদাকর আসর প্রথম বিভাগে আগমন ঘটে তারণ্যনির্ভর ব্রাদার্সের। প্রথম ম্যাচেই বাজিমাত করছে তারা। দেশসেরা খেলোয়াড়দের নিয়ে গড়া চ্যাম্পিয়ন আবাহনীকে হারিয়ে চমক দেখায় মহল্লাভিত্তিক দলটি। গোপীবাগের পাড়ার দল অথচ এ ব্রাদার্সই তরুণদের কাছে মডেল হয়ে দেখা দেয়। মোহামেডান, আবাহনী ও ব্রাদার্সই ঘরোয়া ফুটবলে তিন প্রধান শক্তি হয়ে দাঁড়ায়। ক্রীড়াঙ্গনে ব্রাদার্সের নাম কখনো মুছে যাওয়ার মতো নয়। অথচ এ ক্লাবই ফুটবলে ঠিকানাবিহীন। এই ব্রাদার্সের তরুণদের নৈপুণ্য দেখে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বলেছিলেন, ‘ব্রাদার্সে আমি মুগ্ধ। তাদের দেখে অন্য তরুণরা ফুটবল খেলতে অনুপ্রাণিত হবে।’

২০২০-২০২১ মৌসুমে পেশাদার লিগে রেলিগেটেড হয়। নিয়ম অনুযায়ী চলতি মৌসুমে পেশাদারের দ্বিতীয় স্তর চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলার কথা। এ লিগেও তাদের দেখা মেলেনি। তাহলে কি প্রথম বিভাগে নেমে গেল? আসলে ফুটবলে ব্রাদার্সের অবস্থান কোথায় তা অজানা। প্রশ্ন উঠেছে তাহলে কী ব্রাদার্স অন্ধকারে হারিয়ে যাচ্ছে। তারকা ফুটবলার বলতে যা বোঝায় তা শুধু মোহামেডান-আবাহনীকে ঘিরে। এক্ষেত্রে ব্রাদার্স ব্যতিক্রম। সেলিম, হাসানুজ্জামান খান বাবলু, মো. মহসিন, নান্নু, মিন্নু, সালাম, বাবুল, শরীফ, টুটুল, ওয়াসিম ছাড়া আরও কতজন যে ব্রাদার্স থেকে তারকারখ্যাতি পেয়েছেন তা হিসাব মেলানো মুশকিল।

ব্রাদার্স কোন লিগে আছে তা অজানা থাকলেও কর্মকর্তারা কিন্তু বসে নেই। বাফুফের নির্বাহী কমিটিতে দুই বড় কর্মকর্তা আছেন। একজন সহসভাপতি ও আরেকজন সদস্য। চেয়ারে থাকলেও নিজেদের ক্লাবে কি হচ্ছে তা নিয়ে খবর রাখেন না তারা?

যে কজনার নৈপুণ্যে ব্রাদার্স নজর কেড়েছে  তাদের মধ্যে অন্যতম হচ্ছেন হাসানুজ্জামান খান বাবলু। তিনি বলেন, ‘ব্রাদার্সের প্রসঙ্গ উঠলে বুকটা কেঁপে উঠে। আমরাইতো এই ক্লাবের আসল সৈনিক। ব্রাদার্স আমাদের অহঙ্কার। কষ্ট লাগে আমরাই জানি না ব্রাদার্স এখন কোন লিগে? কষ্ট লাগে যে ক্লাব দেশকে এত কিছু দিল তারাই কিনা নিখোঁজ। বাংলাদেশের আর কেউ না পারলে ব্রাদার্সের আগা খান গোল্ডকাপে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার রেকর্ড রয়েছে। লিগ, ডামফা, ফেডারেশন কাপ, স্বাধীনতা কাপ, জাতীয় লিগ সবই জিতেছে। আর সেই ব্রাদার্সের অবস্থান কোথায় তা জানা নেই। এ ব্যাপারে কিছুই বলব না। তবে এতটুকু বলব যাদের অপকর্মে ব্রাদার্সের বেহাল দশা। তাদের একদিন কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে। এই ক্লাবতো কারোর ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয় যে যা খুশি তাই করবেন।’

সর্বশেষ খবর