৯ আগস্ট, ২০২১ ২২:৫৫

শিশিরের কথাই সত্যি হলো, স্বরূপে ফিরলেন সাকিব

অনলাইন ডেস্ক

শিশিরের কথাই সত্যি হলো, স্বরূপে ফিরলেন সাকিব

সাকিব আল হাসান ও উম্মে আহমেদ শিশির। (ফাইল ছবি)

পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে হ্যাটট্রিক হারের পর চতুর্থ ম্যাচে জয়ের দেখা পায় অস্ট্রেলিয়া। সেই ম্যাচে ১৯ ওভারে ৩ উইকেট হাতে রেখে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় অজিরা। যদিও অস্ট্রেলিয়ার এই সান্ত্বনার জয়ের লড়াইয়ে সাকিবের একটি ওভার ছাড়া পুরো ম্যাচে নিয়ন্ত্রণই ছিল টাইগারদের হাতে।

১০৪ রানের পুঁজি নিয়েও বোলিংয়ে দারুণ শুরু করেছিল বাংলাদেশ। ইনিংসের চতুর্থ বলে অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক ম্যাথু ওয়েডকে সাজঘরে ফিরিয়ে অজিদের কোণঠাসা করে দেন মেহেদি হাসান। ৩ ওভারের খেলা শেষে অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ ছিল মাত্র ১৫ রান। কিন্তু চতুর্থ ওভারে সাকিব আল হাসানকে ৫টি ছক্কা হাঁকিয়ে ৩০ রান আদায় করে নেন ডেন ক্রিস্টিয়ান। এরপর নাসুম আহমেদ ও মুস্তাফিজের জোড়া আঘাতে বাংলাদেশ দারুণভাবে ম্যাচে ফিরলেও শেষ রক্ষা হয়নি। ম্যাচটি হেরে যায় বাংলাদেশ। 

ম্যাচ শেষে সাকিব আল হাসানের সমালোচনায় মেতে ওঠেন দেশের ক্রিকেটভক্তদের অনেকেই। অনেকের দাবি, সিরিজ নিশ্চিতের ম্যাচে অর্থাৎ তৃতীয় ম্যাচে মুস্তাফিজের অবিশ্বাস্য ১৯তম ওভার যেমন বাংলাদেশের জয়ে টার্নিং পয়েন্ট ছিল, ঠিক তেমনি চতুর্থ ম্যাচে সাকিব আল হাসানের ওই ওভারটাই ছিল বাংলাদেশের পরাজয়ের টার্নিং পয়েন্ট। ওই ওভারেই হেরে যায় টাইগাররা। বাকি ছিল শুধু আনুষ্ঠানিকতা। এমন মন্তব্য করেন অনেক ক্রিকেট বিশ্লেষকরাও।

এমন পরিস্থিতিতে আবারও সাকিবের পাশে দাঁড়ান তার স্ত্রী উম্মে আহমেদ শিশির। নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি স্ট্যাটাস দেন তিনি। সেখানে তিনি লিখেন, "খেলায় যে বিষয়টি প্রভাব ফেলে তা হলো সে (সাকিব) যখন ভালো পারফর্ম করে তখন দল জেতে। আর যখন সে ভালো খেলে না দল হেরে যায়। অর্থাৎ দলের প্রধান পারফরমার ম্যাচে নিজের সেরাটা দিতে পারে না তখন দলের জয় অনেকটাই কষ্টসাধ্য হয়ে ওঠে। দুশ্চিন্তার কিছু নেই। পরের ম্যাচটিতেই সে (সাকিব) স্বরূপে ফিরবে।"

সিরিজের শেষ তথা পঞ্চম ম্যাচে শিশিরের সেই কথাই সত্য বলে প্রমাণ হলো। আসলেই স্বরূপে ফিরেছেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব। চতুর্থ টি-টোয়েন্টিতে ড্যান ক্রিস্টিয়ান এক ওভারে ৫ ছক্কার মার খেলেও মনোবল ভেঙে যায়নি সাকিব আল হাসানের। বরং অজি ব্যাটসম্যানের ওই ঝড় আরও শক্তিশালী করে তুলেছে ৩৪ বছর বয়সী এই অলরাউন্ডারকে। পঞ্চম ম্যাচে প্রতিপক্ষকে এক প্রকার একাই ধসিয়ে দিয়েছেন তিনি।

সিরিজের শেষ ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে ৬২ রানে গুটিয়ে দেয় বাংলাদেশ। সাকিব ৩.৪ ওভারে ১ মেডেনসহ ৯ রান দিয়ে নেন ৪ উইকেট। পাঁচ ম্যাচের সিরিজে এটাই সেরা বোলিং ফিগার। এর আগে, ব্যাট হাতে জ্বলে উঠতে না পারলেও করেন ১১ রান। 

এ সিরিজে সাকিব দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক। আর লো স্কোরিং এই সিরিজে বাংলাদেশের পক্ষে সবচেয়ে বেশি রান তারই (৫ ম্যাচে ১১৪)। বল হাতে আছেন সাকিব সেরা পাঁচের মধ্যে। ৫ ম্যাচে নিয়েছেন ৭ উইকেট। ব্যাটে-বলে হিসেব করলে সাকিব এই সিরিজেও ছিলেন সবার ওপরে। তাই ম্যাচসেরার সঙ্গে সিরিজসেরার পুরস্কার উঠেছে সাকিব আল হাসানের হাতে। 


বিডি-প্রতিদিন/আব্দুল্লাহ আল সিফাত

এই রকম আরও টপিক

সর্বশেষ খবর