ক্রিকেটে আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার প্রযুক্তি ডিআরএস এখন প্রায় নিয়মিত ব্যবহৃত হলেও এর উচ্চ ব্যয়ের কারণে এখনও অনেক দেশের ক্রিকেট বোর্ড এটি ব্যবহার করতে পারে না। সেই সমস্যার সমাধানে ডিআরএস সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)।
বর্তমানে আইসিসির অনুমোদিত ডিআরএস সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান মাত্র দুটি। যুক্তরাজ্যভিত্তিক হক-আই এবং নিউজিল্যান্ডভিত্তিক ভার্চুয়াল আই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এই প্রযুক্তি সরবরাহ করে। তবে তাদের সেবার খরচ বেশি হওয়ায় অনেক আন্তর্জাতিক ও ঘরোয়া টুর্নামেন্টে ডিআরএস ব্যবহার করা সম্ভব হয় না।
প্রতিদিন একটি ম্যাচে ডিআরএস ব্যবহারের জন্য গড়ে প্রায় ১০ হাজার মার্কিন ডলার ব্যয় হয়। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ ১২ লাখ টাকারও বেশি। এ কারণে ভারতের অনেক ঘরোয়া প্রতিযোগিতাসহ বিভিন্ন দেশের টুর্নামেন্টে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা যায় না।
ক্রিকেটবিষয়ক ওয়েবসাইট ক্রিকবাজ জানিয়েছে, ডিআরএসের খরচ কমিয়ে আরও বেশি বোর্ডের নাগালের মধ্যে আনতে ভারতের কয়েকটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান নতুন ডিআরএস ব্যবস্থা তৈরি করেছে। তারা ইতোমধ্যে আইসিসির কাছে নিজেদের প্রযুক্তির উপস্থাপনাও করেছে। এ ছাড়া বিদেশের আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানও একইভাবে নিজেদের প্রস্তাব জমা দিয়েছে।
এসব প্রতিষ্ঠানের এক বা একাধিকটি আইসিসির অনুমোদন পেলে ডিআরএস সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বাড়বে। তবে তার আগে প্রতিটি প্রযুক্তিকে কঠোর মূল্যায়ন ও পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। আইসিসির প্রধান নির্বাহী কমিটির অনুমোদনের পরই নতুন প্রতিষ্ঠানগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে এই সেবা দেওয়ার সুযোগ পাবে।
বিষয়টি নিয়ে আইসিসির একটি সূত্র ক্রিকবাজকে জানিয়েছে, বর্তমান ও সম্ভাব্য নতুন সব ডিআরএস সরবরাহকারীকে একই মানদণ্ডে মূল্যায়ন করা হবে। পাশাপাশি কম খরচে ডিআরএস ব্যবহারের সুযোগ তৈরি করতে একটি স্বীকৃতি বা সনদব্যবস্থা চালুর বিষয়েও ভাবছে আইসিসি, যাতে বিশ্বজুড়ে আরও বেশি ক্রিকেট বোর্ড এই প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারে।
শুধু ডিআরএস নয়, বিশ্বজুড়ে দ্রুত বাড়তে থাকা ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট নিয়েও নতুন পরিকল্পনা করছে আইসিসি। চারজনের বেশি বিদেশি ক্রিকেটার অংশ নেন এমন ঘরোয়া ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগগুলোকে আইসিসির তদারকির আওতায় আনার বিষয়েও আলোচনা হবে আসন্ন সভায়।
আহমেদাবাদে অনুষ্ঠিত আইসিসির সর্বশেষ বোর্ড সভায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দ্রুত বেড়ে ওঠা ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছিল। এবার সেসব প্রতিযোগিতার ওপর আরও কার্যকর নজরদারির বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।
এদিকে মরিশাস ক্রিকেট ফেডারেশনকে আইসিসির নতুন সহযোগী সদস্য হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে। অনুমোদন পেলে মরিশাস হবে আইসিসির ১১১তম সদস্য দেশ। বর্তমানে সংস্থাটির সদস্য সংখ্যা ১১০টি, যার মধ্যে ১২টি পূর্ণ সদস্য এবং ৯৮টি সহযোগী সদস্য।
বিডি-প্রতিদিন/এআইডি