কানাডার কুইবেক প্রদেশের শহর টেরেস-ভড্রিউইল। শহর কর্তৃপক্ষ গাছকে জীবন্ত সত্তা হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিয়েছে। ৯ জুন টেরেস-ভড্রিউইল সিটি কাউন্সিলের পাস করা প্রস্তাবে বলা হয়, গাছের বেঁচে থাকা, স্বাভাবিকভাবে বেড়ে ওঠা, ক্ষতি থেকে সুরক্ষা পাওয়া ও পুনর্জন্মের অধিকার রয়েছে। কানাডায় এটি এ ধরনের প্রথম স্বীকৃতি।
মূলত কুইবেকের চলচ্চিত্র নির্মাতা আন্দ্রে দেশরোশ একটি তথ্যচিত্র বানান। এটি স্থানীয় মানুষকে এ উদ্যোগ নিতে অনুপ্রাণিত করেছে বলে ধরা হচ্ছে। ‘দে জার্ব এ দে জার’ চলচ্চিত্র দেখে অনেক বাসিন্দা গাছ সম্পর্কে নতুনভাবে ভাবতে শুরু করেন। তাদের উপলব্ধি হয়, গাছ শুধু প্রকৃতির একটি অংশ নয়, তারাও একধরনের জীবন্ত সত্তা। গাছও শ্বাস নেয়, বেড়ে ওঠে, পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেয় এবং শিকড়ের মাধ্যমে একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ করে চলে।
গাছ শুধু নিঃশব্দে দাঁড়িয়ে থাকা কোনো বস্তু নয়। তারও একটি নিজস্ব জীবনচক্র, দায়িত্ব, ভূমিকা ও মর্যাদা রয়েছে। গাছ আমাদের চারপাশের পরিবেশের পরিবর্তন অনুভব করতে পারে। তারা আলো, পানি, তাপমাত্রা, মাটি ও অন্যান্য জীবের উপস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেয়। গাছ বিভিন্ন ধরনের প্রাকৃতিক সংকেত গ্রহণ করে এবং নিজেদের জীবন প্রক্রিয়া সচল রাখার স্বার্থে প্রয়োজনীয় প্রতিক্রিয়া দেখায়। গবেষণা বলছে, গাছ রাসায়নিক ও জৈবিক সংকেতের মাধ্যমে একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ করে এবং বিপদের সময় সতর্ক সংকেতও দিতে পারে।
গাছকে শুধু কাঠ, ছায়া বা অক্সিজেনের উৎস হিসেবে দেখলে হবে না, গাছ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষাকারী জীবন্ত সঙ্গী। গাছের নতুন এ আইনি স্বীকৃতির ফলে গাছের ওপর নির্যাতন কমবে ও বৃক্ষ আচ্ছাদন আরও বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।
লেখক : জলবায়ু ও পরিবেশকর্মী, সদস্য, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)