কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার বাড়েরা ইউনিয়নের জয়দেবপুর, ছোট কলাগাঁও ও নিশ্চিন্তপুর—এই তিন গ্রামে এখনো কোনো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নেই। ফলে এসব গ্রামের শিশুদের প্রায় তিন কিলোমিটার দূরের বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কাঁচা ও দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে পড়তে যেতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য জমি দান করা হলেও নয় বছরেও নির্মাণকাজ শুরু হয়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালে জয়দেবপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. শাহজাহান, সুলতান আহমেদ, দেলোয়ার হোসেনসহ কয়েকজন শিক্ষানুরাগী স্থানীয় সড়কের পাশে প্রায় ৩৩ শতাংশ জমি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবের অনুকূলে দান করেন। বিদ্যালয় স্থাপনের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও সম্পন্ন করা হয়। তবে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও বিদ্যালয় নির্মাণে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি।
জয়দেবপুর গ্রামের বাসিন্দা অধ্যাপক মো. শাহজাহান বলেন, “সরকারের আহ্বানে সাড়া দিয়ে আমরা জমি দান করেছি। তৎকালীন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান বিদ্যালয়ের জন্য ফসলি জমি থেকে মাটি এনে জায়গাটি ভরাটও করেন। ভেবেছিলাম, আমাদের গ্রামের শিশুরা নিজ এলাকায় পড়াশোনার সুযোগ পাবে। কিন্তু নয় বছরেও বিদ্যালয় নির্মাণ না হওয়ায় আমরা হতাশ।”
একই গ্রামের বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন বলেন, “জয়দেবপুরে বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হলে পাশের ছোট কলাগাঁও ও নিশ্চিন্তপুর গ্রামের শিশুরাও নিরাপদে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে পারবে। দ্রুত বিদ্যালয় নির্মাণ না হলে এ অঞ্চলের শিক্ষাব্যবস্থা আরও পিছিয়ে পড়বে।”
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রওশন আরা বলেন, “সারা দেশে প্রথমে ১ হাজার ৫০০ এবং পরে আরও ১ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপনের প্রকল্পের আওতায় এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে ২০১৮ সালে প্রকল্পটি বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে তালিকা চাওয়া হলে ২০২৩ সালের ১৮ মে আমাদের কার্যালয় থেকে তালিকা পাঠানো হয়। আমি দায়িত্ব গ্রহণের পর চলতি বছরের ৩১ মার্চ আবারও তালিকাটি পাঠিয়েছি।”
বিডি প্রতিদিন/এনআরএইচ