উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি স্থানের মধ্যে কোথাও নদনদীর পানি বেড়েছে, কোথাও কমেছে। বগুড়ায় যমুনার ও গাইবান্ধায় করতোয়ার পানি বেড়েছে। অন্যদিকে ঘাঘট, ধরলা, দুধকুমার, তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্রের পানি কমলেও তীরজুড়ে শুরু হয়েছে ভয়াবহ ভাঙন। কুড়িগ্রামে ভাঙন তীব্র আকার নিয়েছে। আমাদের বিশেষ প্রতিনিধি ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-
বগুড়া : বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার কয়েকটি এলাকায় যমুনা নদীর তীব্র ভাঙনে দেড় শ পরিবারের বসতভিটা বিলীন হয়েছে। ভিটামাটি হারিয়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছেন এসব পরিবারের সদস্যরা। ভাঙনকবলিত এলাকায় দ্রুত কাজ শুরু করার সিদ্ধান্ত এখনো নেয়নি পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। তবে স্থানীয় সংসদ সদস্য কাজী রফিকুল ইসলাম ভাঙন মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। গত তিন দিনে পানি বেড়েছে এ উপজেলায়। এতে ভাঙন আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে নদীপারের মানুষের মাঝে। বগুড়া জেলা পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান বলেন, ‘ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে কয়েক দিন ধরেই যমুনার পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে এখনো বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছাতে আরও কয়েক দিন লাগবে।’
কুড়িগ্রাম : জেলায় নদনদীর পানি বুধবার বিকালে কমতে শুরু করেছে। ফলে বন্যা পরিস্থিতির সার্বিক উন্নতি হচ্ছে। তবে ভয়াবহ আকার নিয়েছে নদীভাঙন। বিভিন্ন নদীতীরে ৩৬ পয়েন্টে তীব্র ভাঙনে প্রতিদিনই বিলীন হচ্ছে বসতভিটা, ফসলি জমি ও স্থাপনা। একদিকে ঘর হারিয়ে নিঃস্ব হচ্ছে হাজারো পরিবার, অন্যদিকে পানিতে তলিয়ে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শত শত হেক্টর জমির ফসল।
কুড়িগ্রাম পাউবো গতকাল সন্ধ্যায় জানায়, সবকটি নদনদীর পানি ৭০-৮০ সেন্টিমিটার কমে এখন বিপৎসীমার অনেক নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তিন দিন আগে দুধকুমার নদের পানি অনেক বেড়ে বিপৎসীমার ২৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে এবং তিস্তার পানি বেড়ে বিপৎসীমার মাত্র ১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। কিন্তু গত দুই দিনে দ্রুত পানি নেমে এখন বিপৎসীমার অনেক নিচ দিয়ে বইছে। তবে পানি নামার সঙ্গে সঙ্গেই ধরলা, দুধকুমার, তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্রের তীরজুড়ে শুরু হয়েছে ভয়াবহ ভাঙন। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ভূরুঙ্গামারী উপজেলার আন্ধারীঝাড় ইউনিয়নের ধাউরারকুটি, পাইকেরছড়া ইউনিয়নের পাইকডাঙ্গা, নাগেশ্বরীর বামনডাঙ্গা, চিলমারীর কড়াই বরিশাল, রাজারহাটের রামহরি এবং সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের বানিয়াপাড়া ও সরকারপাড়া। গাইবান্ধা : ব্রহ্মপুত্র, ঘাঘট ও তিস্তার পানি হ্রাস পেয়েছে। তবে করতোয়ার পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এসব নদনদীর পানি হ্রাস বা বৃদ্ধি পেলেও তা বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গাইবান্ধা পাউবোর গতকাল সন্ধ্যা ৬টার তথ্যানুযায়ী, ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্রের পানি ৩০ সেন্টিমিটার হ্রাস পেয়ে বিপৎসীমার ১১৬, ঘাঘটের পানি ১৪ সেন্টিমিটার হ্রাস পেয়ে বিপৎসীমার ১৫৭ এবং তিস্তার পানি ২৮ সেন্টিমিটার হ্রাস পেয়ে বিপৎসীমার ৬১ সেমি নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। লালমনিরহাট : উজানের ঢল কমে লালমনিরহাটে তিস্তার পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর ফলে তীরবর্তী নিম্ন এলাকার ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট থেকে পানি সরে গেছে। তার পরও কাদাময় রাস্তাগুলো চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে আছে। জেলা প্রশাসন ও সরকারিভাবে ত্রাণ বিতরণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। গতকাল সকাল ৬টায় তিস্তার পানি বিপৎসীমার ৩০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। পানি নিয়ন্ত্রণে ৪৪টি গেট খুলে রেখেছে পাউবো।