বিদেশিদের বাংলাদেশে আসা-যাওয়া আরও সহজ ও সুশৃঙ্খল করার পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগ, পর্যটন ও দক্ষ মানবসম্পদ আকৃষ্ট করতে আগের নীতিমালা সংশোধন করে নতুন ভিসা নীতিমালার খসড়া তৈরি করেছে সরকার। তবে এটিকে আরও পরিমার্জনের জন্য অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করা হয়েছে। গতকাল মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি এ তথ্য জানান। এর আগে বিকাল সাড়ে ৪টায় সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ ভবনের জনপ্রশাসন সভাকক্ষে মন্ত্রিসভার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জানা গেছে, ২০০৬ সালে ভিসা নীতিমালা জারি করে সরকার। বিদেশিদের বাংলাদেশে আসা-যাওয়া সহজ করা, বিদেশি বিনিয়োগ-ব্যবসা ও দক্ষ মানবসম্পদ আকৃষ্ট করা, পর্যটন ও আতিথেয়তা খাতকে উৎসাহিত করা, প্রযুক্তি ও জ্ঞান স্থানান্তর নিশ্চিত করা, জাতীয় নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখা, পারস্পরিকতা নীতির ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক ভ্রমণ ব্যবস্থাপনা করা, আধুনিক ও সেবামুখী অভিবাসন কাঠামো গড়ে তোলার লক্ষ্যে ভিসা নীতিমালা ২০২৬-এর খসড়া তৈরি করা হয়েছে। এটিকে পরিমার্জনের জন্য অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একটি মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ কমিটিকে সাচিবিক সহায়তা করবে।
প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে ৪০ সদস্যের এনসিইসিসি কমিটি : ৪০ সদস্য বিশিষ্ট ‘জাতীয় পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন কমিটি (এনসিইসিসি)’ গঠন করেছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ কমিটিতে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। গতকাল মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, কমিটির সদস্য হিসেবে থাকবেন- স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়; অর্থ মন্ত্রণালয়; স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়; পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়; ভূমি মন্ত্রণালয়; মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়; কৃষি মন্ত্রণালয়; পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়; দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়; স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়; সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীরা। অন্য সদস্যের মধ্যে খাদ্য মন্ত্রণালয় এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীরা রয়েছেন। এ ছাড়া কমিটিতে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান; পরিবেশ, বন জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি; মন্ত্রিপরিষদ সচিব; প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব; ভূমি মন্ত্রণালয়ের সচিব; জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান; বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশনের আর্থসামাজিক কাঠামো বিভাগের সদস্য; গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব; শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব; পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব; বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশনের কার্যক্রম বিভাগের সদস্য; সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব; স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব; স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব; নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব; বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব; মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব; প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক; বাংলাদেশ মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান; পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক; বন অধিদপ্তরের প্রধান বন সংরক্ষক; বাংলাদেশ শিল্প বণিক সমিতির সভাপতি এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু মন্ত্রণালয়কর্তৃক মনোনীত পরিবেশ ও জলবায়ু বিষয়ক দুজন বিশেষজ্ঞ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। কমিটিতে সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব।
কমিটির কার্যপ্রণালির মধ্যে রয়েছে- জাতীয় পরিবেশ নীতি ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে জাতীয় পরিকল্পনা/কৌশল এবং পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত কার্যক্রম বাস্তবায়ন ও অগ্রগতি পর্যালোচনা; পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে জাতিসংঘ সমন্বয়ে গৃহীত সিদ্ধান্তসমূহ বাস্তবায়নের বিষয়াদি পর্যালোচনা; সরকারের পরিবেশ নীতি ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা/কৌশল বাস্তবায়নে আন্তমন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সমস্যাদি চিহ্নিতকরণ ও সমাধানের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান এবং আনুষঙ্গিক অন্যান্য বিষয়াদি বিবেচনা করা।