চোখধাঁধানো সমুদ্রসৈকত, রৌদ্রোজ্জ্বল আবহাওয়া, বৈচিত্র্যময় হিস্পানিক সংস্কৃতি এবং সর্বোপরি জমকালো নাইট লাইফের জন্য মায়ামিকে পর্যটকরা আদর করে ডাকেন ‘ম্যাজিক সিটি’ বা ‘জাদুর শহর’ বা ‘ইন্দ্রজালের শহর’। পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়ে দিন-রাত গমগম করে ফ্লোরিডার পর্যটন নগরী মায়ামি। পর্যটন নগরী, জাদুর নগরী মায়ামি এখন যেন এক টুকরো আর্জেন্টিনা! সাউথ বিচ থেকে শুরু করে শহরের আনাচে-কানাচে সর্বত্র আকাশি-নীল-সাদা জার্সির ছড়াছড়ি। জার্সির প্রায় সবই
লেখা ১০ ও মেসির নাম। কিছু কিছু জার্র্সিতে ম্যারাডোনার নামও জ্বলজ্বল করছে। সৈকতের রাস্তায় আনাচে-কানাচে ব্যানারগুলো পতপত করে উড়ছে, সবই বিশ্বকাপ ট্রফি হাতে মেসি ও ম্যারাডোনার ছবি সাঁটানো। পর্যটনের চোখে মায়ামিকে দেখে মনে হয় এক টুকরো আর্জেন্টিনা, কিংবা লাতিন আমেরিকান দেশটির কোনো এক শহর। ম্যাজিক সিটি এখন আর্জেন্টাইন সমর্থকে ভরা। কারণ একটাই, বিশ্বকাপ ফুটবল। কাল বাংলাদেশ সময় ভোর ৪টায় ১৯৭৮, ১৯৮৬ ও ২০২২ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা মুখোমুখি হবে বিশ্বকাপের চমক কেপ ভার্দের। দুই দল মুখোমুখি হবে প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে। এ ম্যাচ ঘিরেই মায়ামি এখন আলবিসেলেস্তাদের শহর! ইতিহাস, ঐতিহ্য, পরিসংখ্যান, সাফল্য, সামর্থ্য-কোনো মানদন্ডেই মেসির আর্জেন্টিনাকে হারানোর সম্ভাবনা নেই মাত্র ৬ লাখ অধিবাসীর দেশ কেপ ভার্দের। আফ্রিকান দ্বীপরাষ্ট্রটি এবারই প্রথম বিশ্বকাপ খেলছে। প্রথমবার খেলেই বাজিমাত করেছে। স্পেন, উরুগুয়ের মতো দুই বিশ্বচ্যাম্পিয়নের গ্রুপে থেকেও ‘রাউন্ড অব থার্টি টু’ বা নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছে দেশটি। এবার দেশটি স্বপ্ন দেখছে আরও ওপরে যাওয়ার! এজন্য ভোজিনিও, লোগান কস্তা, লিয়ান্দ্রো আন্দ্রাদে, উইলি সেমেদোরা স্পেনের পর আর্জেন্টিনাকেও চমকে দিতে চান। যদিও গ্রুপ পর্বের কোনো ম্যাচেই জয় পায়নি দলটি। স্পেনের বিপক্ষে পুরোটা সময় রক্ষণাত্মক ফুটবল খেলে ড্র করেছে। গ্রুপের তিন ম্যাচ ড্র করে জায়গা নেয় নকআউটে। অবশ্য দেশটির প্রেসিডেন্ট হোসে মারিয়া নেভেস আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জানিয়েছেন, কেপ ভার্দে ১-০ গোলে জিতবে। আফ্রিকান দ্বীপরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের স্বপ্নকে যখনতখন গুঁড়িয়ে দিতে পারেন বিশ্বের সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলার লিওনেল মেসি। দারুণ ছন্দে রয়েছেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক। প্রতিটি ম্যাচেই গোল করেছেন। গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচে গোল করেছেন হ্যাটট্রিকসহ ছয়টি। আলজেরিয়া ম্যাচে হ্যাটট্রিক, অস্ট্রিয়া ম্যাচে জোড়া এবং জর্ডানের বিপক্ষে এক গোল করেন।
বিশ্বকাপের চলতি আসরে ছয় গোল করে এখন পর্যন্ত তিনি যুগ্মভাবে সর্বোচ্চ গোলদাতা। তার সঙ্গে ছুটছেন ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে। পিছু পিছু ছুটছেন আরলিং হলান্ড ও হ্যারি কেইন। সাতবারের বিশ্বসেরা ফুটবলার মেসি ছয় বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে ১৯ গোল করেছেন। কেপ ভার্দের স্বপ্নকে ভেঙেচুড়ে গুঁড়িয়ে দিতে পারেন মেসি।
জীবন্ত কিংবদন্তি মেসি মাঠে নামছেন, রেকর্ড গড়ছেন। বিশ্বকাপ ফুটবল ইতিহাসে তিনি এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি ২৯ ম্যাচ খেলেছেন। ৩০তম ম্যাচ খেলতে নামবেন তিনি। রক্ষণাত্মক মেজাজে খেলা কেপ ভার্দের বিপক্ষে জয়ের জন্য আলবিসেলেস্তাদের কোচ লিওনেল স্কালোনি পরিকল্পনা কষছেন মেসিকে কেন্দ্র করে। আক্রমণভাগে মেসির সঙ্গে লাওতারো মার্টিনেজ কিংবা হুলিয়ান আলভারেজকে খেলাবেন কোচ। গোলবার আগলাবেন বিশ্বসেরা গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজ। রক্ষণভাগে খেলার সম্ভাবনা উজ্জ্বল গঞ্জালো মন্টিয়েল, রাহুয়েল মলিনা, ক্রিস্টিয়ান রোমেরো, নিকোলাস ওতেমন্দিদের। রোমেরো সুস্থ হয়ে ফিরেছেন অনুশীলনে। মেসি নিজে মধ্যমাঠে খেলেন। তার সঙ্গে আক্রমণ শানাতে পারেন রদ্রিগো দি পল এঞ্জো, ফার্নান্দেজ অ্যালেক্সিস, ম্যাক অ্যালিয়েস্টার, তিয়াগো আলমাদা, জিওভানি লো সেলসোদের। যে একাদশই মাঠে নামুক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার দলের কান্ডারি মেসি। ছন্দে রয়েছেন তিনি। তার সঙ্গে ছন্দে রয়েছে গোটা দল। গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচে বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা ৮ গোল করে হজম করেছে একটি। এতেই স্পষ্ট বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের কোচ শুধু আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতেই পছন্দ করেন তেমন নয়, রক্ষণভাগটাও সামলান।