বাংলাদেশে ক্ষমতায় বা সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে যারা থাকেন, তারা প্রায়ই ক্ষণস্থায়ী সুবিধার জন্য রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করেন বলে জানিয়েছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, ক্ষমতা কোনো চিরস্থায়ী বিষয় নয়। আজ যে প্রতিষ্ঠানকে দলীয় প্রভাবে প্রভাবিত করা হবে, পরবর্তীতে তার নেতিবাচক ফলাফলের ভুক্তভোগী কিন্তু তারাই হবেন।
গতকাল রাজধানীর ধানমন্ডিতে মাইডাস সেন্টারে ‘খসড়া জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন ২০২৬ : হিউম্যান রাইটস ফোরাম বাংলাদেশ (এইচআরএফবি) ও টিআইবি পর্যালোচনা ও সুপারিশ’ শীর্ষক এক অধিপরামর্শ সভায় তিনি এসব কথা বলেন। ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, জনগণের ওপর একটি অকার্যকর ও সরকারনিয়ন্ত্রিত মানবাধিকার কমিশন চাপিয়ে দেওয়া হলে তা শেষ পর্যন্ত সরকারের জন্যই আত্মঘাতী হবে। এ ধরনের প্রতিষ্ঠানকে কার্যকর করতে যারা ব্যর্থ হয়, তারা একপর্যায়ে নিজেদের জন্যই ‘ফ্রাঙ্কেনস্টাইন’ তৈরি করে। বিশ্বের অন্যান্য দেশের উদাহরণ টেনে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, অনেক বেশি কর্তৃত্ববাদী ও স্বৈরাচারী সরকার বিশ্বের অন্যান্য দেশে থাকলেও জাতীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে এভাবে দলীয়করণ ও অকার্যকর করার নজির খুব কম দেশে আছে। এ অবস্থার পরিবর্তন এখন জরুরি। রাজনীতি ও আমলাতন্ত্রের সমালোচনা করে তিনি বলেন, সরকারের ভিতর ‘পরিবর্তনবিরোধী শক্তি’ সক্রিয় রয়েছে। এ প্রতিরোধশক্তি রাজনৈতিক হতে পারে, তবে অনেক ক্ষেত্রে তার চেয়েও প্রভাবশালী হলো আমলাতন্ত্র। প্রস্তাবিত মানবাধিকার কমিশন আইনের খসড়ায় এ আমলাতান্ত্রিক প্রভাবের স্পষ্ট প্রতিফলন দেখা গেছে। সভায় রাজনৈতিক অঙ্গীকারের কথা উল্লেখ করে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ৩১ দফা রাষ্ট্রসংস্কার কর্মসূচি, নির্বাচনি ইশতেহার ও জুলাই সনদ পালনের যে অঙ্গীকার বিএনপি করেছে, তা যথাযথভাবে পালন করলে সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে একটি স্বাধীন জাতীয় মানবাধিকার কমিশন গঠন করা সম্ভব। অধিপরামর্শ সভায় খসড়া আইনটি পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনা করে টিআইবির পক্ষ থেকে ১৯টি সুনির্দিষ্ট সুপারিশ তুলে ধরা হয়। ড. ইফতেখারুজ্জামান জানান, এসব প্রস্তাব বা সুপারিশ বাস্তবায়িত না হলে সরকার নিজেই প্রমাণ করবে যে, দেশে একটি স্বাধীন ও কার্যকর মানবাধিকার কমিশন প্রতিষ্ঠায় তাদের আসলে কোনো সদিচ্ছা নেই।