সেনেগাল ম্যাচে দ্বিতীয় গোলের পর ইংলিশ সমর্থকরা হ্যারি কেইনকে ভালোবেসে ‘রিচার্ড লায়ন দ্য হার্ট’ নামে ডাকছেন। দ্বাদশ শতাব্দীতে গ্রেট ব্রিটেনের রাজা ছিলেন প্রথম রিচার্ড। বনের রাজা সিংহের বীরত্ব, স্বভাবজাত দৃঢ়তা, নির্ভীকতার জন্য রিচার্ডকে ‘দ্য লায়ন হার্ট’ বলা হতো। রাজা রিচার্ডের মতোই সবুজ ঘাসের মাঠে নির্ভীক বিচরণ কেইনের। যতক্ষণ মাঠে থাকেন, ততক্ষণ রাজার তো ফুটবল খেলেন। সেনেগালের বিপক্ষে নকআউট ম্যাচে তিনি কেন বর্তমান ইংলিশ ফুটবলের রাজা, সেটার প্রমাণ দেন শতভাগ। জোড়া গোল করেছেন। ভাগ্যলক্ষ্মীর সহায়তা পেলে আরও কয়েকটি গোল পেয়েই যেতেন কেইন। গোল না পেলেও অ্যালান শিয়েরারদের মতো ইংলিশ কিংবদন্তি ফুটবলারা প্রশংসায় ভাসাচ্ছেন ‘নাম্বার নাইন’ কেইনকে। অসাধারণ জয়ের পর শিয়েরার বলেন, ‘এতদিন মেসি, রোনালদো, এমবাপ্পেদের মতো তারকা ফুটবলাররাই থাকতেন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। এখন থেকে তাদের সঙ্গে কেইনের নামও আলোচনায় থাকবে।’ পরশু রাতে সেনেগালের বিপক্ষে দ্বিতীয় গোলটি যেভাবে করেছেন. সেটাকে বলা হচ্ছে চলতি বিশ্বকাপের সেরা গোল। ৭৪ মিনিট পর্যন্ত পিছিয়ে থাকা ম্যাচে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে জয় উপহার দিয়ে মাঠ ছাড়েন কেইন। বিশ্বকাপের চলতি আসরে কেইনের গোল এখন ৫টি। ৬টি করে সবার ওপরে লিওনেল মেসি ও কিলিয়ান এমবাপ্পে। ৫ গোল করেছেন নরওয়ের আরলিং হলান্ড। বিশ্বকাপে মেসির গোল ১৯, এমবাপ্পের গোল ১৮। কেইনের গোল ১৩টি। তিন বিশ্বকাপ খেলা কেইন পেছনে ফেলেছেন ফুটবলের রাজা পেলেকে। পেলের গোল ১২টি। যুগ্মভাবে রয়েছেন ফ্রান্সে জা ফন্টেইনের। তার সামনে ব্রাজিলের রোনাল্ডো ১৫ ও জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসার গোল ১৬টি। ‘রাউন্ড অব থার্টি’তে সেনেগালকে হারিয়ে প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে স্বাগতিক মেক্সিকোর বিপক্ষে খেলবে ইংল্যান্ড। ওই ম্যাচেও ১৯৬৬ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের মূল ভরসা হ্যারি কেইন। পরশু রাতে সেনেগালকে হারানোর ম্যাচে জোড়া গোল করার পর মেসিদের সঙ্গে তুলনা করছেন ফুটবল বিশেষজ্ঞরা। প্রতিত্তোরে ইংলিশ অধিনায়ক বলেন, মেসি, রোনাল্ডো সবচেয়ে ওপরে। ওদের সঙ্গে যে আমার তুলনা হচ্ছে, তাতেই আমি গর্বিত। ভালো খেলছি। দলকে জেতাতে পারছি। এর থেকে আনন্দের কিছু নেই। তবে আসল লক্ষ্য বিশ্বকাপ জেতা। সেটারই চেষ্টা করছি।’ অবিশ্বাস্য দ্বিতীয় গোলটির পর কেইনকে প্রশংসায় ভাসিয়েছেন সতীর্থ অ্যান্থনি গর্ডন, ‘কেইন শটটি নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমি জানতাম এটি গোল হতে যাচ্ছে। আমি তখনই উদ্্যাপন শুরু করে দিয়েছিলাম। এই স্তরের যেকোনো খেলোয়াড়ই বল টপ কর্নারে পাঠিয়ে ভালো গোল করতে পারেন।
কিন্তু কেইন কাজটি নিয়মিত করেন, এটাই বড় বিষয়।’ জোড়া গোল করে বেশ কিছু রেকর্ডের মালিকও কেইন। বিশ্বকাপে তিনি এককভাবে সর্বোচ্চ গোলদাতা। তার গোল ১৩টি। আরেক কিংবইন্ত স্যার গ্যারি লিনেকারের গোল ১০টি। ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ফুটবলে তার গোলসংখ্যা সবচেয়ে বেশ ৮৪টি। জোড়া গোল করে তিনি পেছনে ফেলেন পর্তুগালের ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে। রোনালদো এক মৌসুমে ৬৯টি গোল করেছিলেন। কেইনের গোল ৬২ ম্যাচে ৭২টি। চলতি মৌসুমে ক্লাব ফুটবলে বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে গোল করেছেন ৬১টি এবং ইংল্যান্ডের পক্ষে ১১টি। ২০১০-১১ মৌসুমে এক মৌসুমে ৬৯ ম্যাচে সবচেয়ে বেশি ৯১ গোল করে সবার ওপরে লিওনেল মেসি।