কিছুদিন আগে আর্জেন্টিনার ফুটবলার ফাকুন্দো মেদিনা বললেন, আমরা মেসির জন্য জীবন বাজি রাখব। এমন কথা সাধারণত কোনো রাজনৈতিক নেতার অনুসারীরা বলে থাকেন। কিংবা যুদ্ধের ময়দানে সেনাবাহিনীর লড়াকু সৈনিকরা। অথবা কোনো প্রেমিকও বলতে পারেন প্রেমিকার কাছে। কিন্তু ফাকুন্দো মেদিনা কোনো যোদ্ধা নন কিংবা রাজনৈতিক দলের কর্মীও নন। তিনি এমনকি মেসির কোনো প্রেমিকও নন। তবে এমন কথা তিনি কেন বললেন?
লিওনেল মেসির প্রতি আর্জেন্টিনার মানুষ, ফুটবলারদের এমনকি কোচের কতটা গভীর আবেগ কাজ করে তা বেশ বুঝা যায়। মেদিনার বক্তব্যটাই সেই আবেগ প্রকাশ করার জন্য যথেষ্ট। হয়তো এর চেয়ে ভালো কোনো শব্দে সেই আবেগ প্রকাশ করাও সম্ভব নয়? যেমন কিছুদিন আগে আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি বললেন, মেসি যতদিন চান, বিশ্বের সেরা ফুটবলার থাকতে পারবেন। সত্যিই হয়তো। ২০০৫ সাল থেকে তিনিই তো সেরা? ২১ বছর ধরে একজন ফুটবলার কত কিছুই না করে গেছেন। তার বাম পায়ের শিল্প নিয়ে কত কোচ কত গবেষণাই না করেছেন। সেই পায়ের গতি থামানোর চেষ্টা করেছেন। কিন্তু থেমেছে কি? মেসিকে থামানো যায়নি। তিনি বরং নতুন নতুন কৌশলে চমকে দিয়েছেন। এখন হয়তো প্রতিপক্ষ কোচ মেসিকে নিয়ে খুব বেশি ভাবেনই না। ভেবে কী লাভ? যাকে থামানোর কোনো উপায় জানা নেই, তাকে নিয়ে ভাবা তো সময় নষ্ট করারই মতো। এ কারণেই সম্ভবত আলজেরিয়ার কোচ গ্রুপ পর্বের ম্যাচে মেসিকে খোলা মাঠে ছেড়ে দিয়েছিলেন। হয়তো তিনি ভেবেছিলেন, ‘যা করার করুক। আমার কী বা করার আছে!’
এমনই আরও কত বিখ্যাত মানুষেরা মেসির ফুটবল শিল্পের শ্রেষ্ঠত্ব স্বীকার করে গেছেন। কেবল তার ফুটবল শিল্প কিংবা অমায়িক ব্যবহারই কি মানুষের মনে থাকবে? মেসি মানুষের মনে থাকবেন তার অসংখ্য রেকর্ডের কারণেও। বিশ্বকাপ জয় করেছেন। জয় করেছেন কোপা আমেরিকা। বিশ্বকাপে দুবারের গোল্ডেন বল জয়, ফিফা ব্যালন ডি’অর, বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতা আরও কত কী! মেসির রেকর্ড নিয়ে গল্প কি আর এক লেখায় শেষ হওয়ার মতো কোনো ব্যাপার! বরং আলাপ করা যায়, মেসির সামনে কী বাকি আছে? কোন রেকর্ডটা এখনো মেসির হয়নি?
চলমান বিশ্বকাপে তিন ম্যাচে ৬ গোল করেছেন লিওনেল মেসি। বিশ্বকাপে সর্বমোট ১৯ গোল করে তালিকার শীর্ষে তিনি। তবে ঠিক পেছনেই আছেন ফরাসি তরুণ কিলিয়ান এমবাপ্পে। তিনি চার ম্যাচে ৬ গোল করেছেন। বিশ্বকাপে তার মোট গোল ১৮টি। মেসি-এমবাপ্পের মধ্যে একটা পরোক্ষ লড়াই চলছে বিশ্বকাপে। এ লড়াই সরাসরিও হতে পারে সব ঠিক থাকলে। ফাইনালে?
লিওনেল মেসি ক্যারিয়ারে এতকিছু অর্জন করেছেন, তার চাওয়ার কী বা থাকতে পারে? বিষয়টা খোলাখুলি বলেছেন তিনি নিজের মুখেই। নিজ দেশকে আরও একটা বিশ্বকাপ ট্রফি উপহার দেওয়ার লক্ষ্য ছাড়া আর কিছু নেই। লিওনেল মেসি সম্ভবত এই লক্ষ্য সামনে রেখেই ইউরোপিয়ান আর আরব ক্লাবগুলোর লোভনীয় প্রস্তাব ছেড়ে পাড়ি জমিয়েছিলেন মার্কিন মুল্লুকে। গত কয়েক বছর মেসির ইন্টার মায়ামিতে খেলার সুফল এবার আর্জেন্টিনাও পাচ্ছে। কাল ভোরে মেসি খেলতে নামবেন তার পরিচিতি মায়ামি গার্ডেনে। যেখানে মেসি বলতে সবাই ‘পাগল’। গত কয়েক বছরে শহরটা যেন মেসিরই হয়ে উঠেছে। কেপ ভার্দেকে কেবল আর্জেন্টিনাকে নয়, সামলাতে হবে লিওনেল মেসির ‘পাগল’ ভক্তদের চাপটাও।