শেষ মুহূর্তের জোরালো প্রচেষ্টায় সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) প্রায় ৪ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করেছে। তবে সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা ৫ লাখ ৩ হাজার কোটি টাকার বিপরীতে ঘাটতি থাকছে প্রায় ৮০ হাজার কোটি টাকা। যদিও অর্থনীতিবিদদের আশঙ্কা ছিল, চলমান অর্থনৈতিক মন্দার কারণে এ ঘাটতি ১ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে। এনবিআর কর্মকর্তারা বলছেন, কঠোর নজরদারি, কর ফাঁকি রোধে অভিযান, উন্নত পরিকল্পনা এবং কর কমপ্লায়েন্স জোরদারের ফলে সম্ভাব্য বড় ঘাটতি অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। গত বুধবার নতুন অর্থবছর ২০২৬-২৭-এর রাজস্ব আহরণ কৌশল নির্ধারণে এনবিআরের আয়কর, ভ্যাট ও শুল্ক বিভাগের টাস্কফোর্সগুলো অর্থ উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল তিতুমীরের সঙ্গে বৈঠক করে। বৈঠকে তিন বছরের একটি মধ্যমেয়াদি রাজস্ব কৌশল প্রণয়নের সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠক শেষে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, ‘আগামী তিন বছরের জন্য এমন একটি রাজস্ব কৌশল তৈরি করা হবে, যেখানে রাজস্ব আহরণের সম্ভাব্য উৎস এবং সরকারি ব্যয়ের অগ্রাধিকার খাত নির্ধারণ করা হবে।’ তিনি বলেন, ‘ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি থেকে জুন পর্যন্ত রাজস্ব আহরণে উল্লেখযোগ্য গতি এসেছে। করের আওতা সম্প্রসারণ এবং রাজস্ব ফাঁকির সুযোগগুলো ধীরে ধীরে বন্ধ করা হচ্ছে।’ নবনিযুক্ত এনবিআর চেয়ারম্যান আহসান হাবিব জানান, বুধবার পর্যন্ত রাজস্ব আদায় দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা। অর্থবছরের শেষ দিনের হিসাব সমন্বয়ের পর আরও প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা যুক্ত হবে। ফলে মোট রাজস্ব আদায় ৪ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছাবে। তিনি বলেন, ‘২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বাস্তবায়ন পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রথম দিনেই এনবিআর কাজ শুরু করেছে। রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে লিখিত কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে এবং গত তিন মাসে টাস্কফোর্সগুলোর কার্যক্রম ইতিবাচক ফল দিয়েছে।’
এনবিআর সূত্র জানান, শুল্ক ও ভ্যাট বিভাগ ইতোমধ্যে তাদের রাজস্ব আহরণ পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছে। আয়কর বিভাগও শিগগিরই তাদের কৌশল চূড়ান্ত করবে। এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান বলেন, নতুন বাজেটে বিনিয়োগবান্ধব বিভিন্ন উদ্যোগের পাশাপাশি রাজস্ব বাড়ানোর জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। টার্নওভারভিত্তিক ভ্যাটব্যবস্থা, খুচরা বিক্রেতাদের সরবরাহের ওপর ০.২ শতাংশ অগ্রিম আয়কর এবং কর ফাঁকির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান রাজস্ব আদায়ে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।