বিশ্বকাপের অভিষেক আসরে ইতিহাসের পাতায় জায়গা করে নিয়েছে কেপ ভার্দে। অনেকের কাছে অচেনা ও অজানা দেশটি দুনিয়া কাঁপানো ফুটবল আসরে খেলতে নেমে দুই বিশ্বচ্যাম্পিয়নকে রুখে দিয়েছে। শুরুটাই করেছে এবারের শিরোপাপ্রত্যাশী অন্যতম দল স্পেনকে রুখে দিয়ে। পরের ম্যাচে আটকিয়ে দেয় উরুগুয়েকে। কোনো দুর্বল দেশ বা দলের অভিষেক আসরে দুই বিশ্বচ্যাম্পিয়নের বিপক্ষে খেলাটা গৌরবের। সেখানে আবার চ্যাম্পিয়নদের পয়েন্টে ভাগ বসিয়ে। বিশ্বকাপে এর চেয়ে বড় প্রাপ্তি আর কি হতে পারে।
অন্যরা যাই বলুক কেপ ভার্দে কি এতেই সন্তুষ্ট থাকবে। নাকি বিশ্বকাপ ইতিহাসে তারা বড় চমকটা দেখাবে। আগামীকাল ভোরে তারা নকআউট পর্বের ম্যাচটি খেলবে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে। লিওনেল মেসিদের সামনে যেখানে বড় বড় দল দাঁড়াতে পারে না, সেখানে তো কেপ ভার্দেকে পুঁচকে বললেও ভুল হবে না। শক্তির বিচারে শুধু জয় নয়, আর্জেন্টিনার গোল উৎসব করার কথা। সত্যি বলতে কি এটাই প্রত্যাশিত। তবে ইতিহাস বড্ড নিষ্ঠুর। অনেক অঘটনের কথা মনে করিয়ে দেয়।
১৯৮৬ সালে দিয়েগো ম্যারাডোনার নেতৃত্বে আর্জেন্টিনা ফুটবলে বিশ্ব জয় করেছিল। পরের বিশ্বকাপে ১৯৯০ সালে ম্যারাডোনারা প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল নবাগত ক্যামেরুনের বিপক্ষে। দুর্দান্ত দল ছিল আর্জেন্টিনা। সবার ধারণা ছিল সহজ জয়েই ম্যারাডোনা, ক্যানিজিয়ারা মিশন শুরু করবে। বাস্তবে কি ঘটেছিল ওমান বিরিকের ম্যাজিক্যাল গোলে বিশ্বচ্যাম্পিয়নকে হারিয়ে বিশ্বকে স্তব্ধ করে দিয়েছিল ক্যামেরুন। জয়ের পর রজার মিলারের সেই নৃত্য এখনো চোখে ভাসে। তুচ্ছতাচ্ছিল করা কেপ ভার্দের কেউ আবার বিয়িক বা মিলারের রূপ ধারণ করে কি না সেটাই অপেক্ষা। যদি হয় তাহলে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের অবস্থা কি দাঁড়াবে একবার ভেবে দেখুন।