২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত ১২টি লাল কার্ড দেখানো হয়েছে। টুর্নামেন্ট যত এগোচ্ছে, মাঠে ততই বাড়ছে কঠোর শাস্তির নজির। সর্বশেষ যুক্তরাষ্ট্র ও বসনিয়ার ম্যাচে বিপজ্জনক ট্যাকলের দায়ে যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগানকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান ব্রাজিলের রেফারি রাফায়েল ক্লাউস। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে এবারের বিশ্বকাপে লাল কার্ড দেখানোর তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছেন ব্রাজিলের রেফারিরা।
বালোগানের লাল কার্ডটি ছিল ব্রাজিলিয়ান রেফারিদের দেখানো চতুর্থ লাল কার্ড। রাফায়েল ক্লাউসের পাশাপাশি আরেক ব্রাজিলিয়ান রেফারি উইল্টন সাম্পাইও একাধিক ম্যাচে লাল কার্ড দেখিয়েছেন। সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি খেলোয়াড়কে মাঠ ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছেন ব্রাজিলের রেফারিরাই।
এই তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে চিলির রেফারিরা। তারা দেখিয়েছেন দুটি লাল কার্ড। অন্যদিকে আর্জেন্টিনা, এল সালভাদর, স্লোভেনিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও পর্তুগালের রেফারিরা একটি করে লাল কার্ড দেখিয়েছেন।
এবারের বিশ্বকাপে লাল কার্ডের সংখ্যা আগের দুই আসরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। ২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপ এবং ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপ—দুই আসরেই দেখানো হয়েছিল মাত্র চারটি করে লাল কার্ড। অর্থাৎ আগের দুই বিশ্বকাপে মোট আটটি লাল কার্ডের বিপরীতে ২০২৬ বিশ্বকাপে ইতোমধ্যেই ১২টি লাল কার্ড দেখানো হয়েছে। টুর্নামেন্টের গুরুত্বপূর্ণ নকআউট পর্বের ম্যাচগুলো এখনও বাকি থাকায় এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
বিশ্বকাপ ইতিহাসে এক আসরে সবচেয়ে বেশি লাল কার্ড দেখানোর রেকর্ড রয়েছে ২০০৬ সালের জার্মানি বিশ্বকাপে। ওই আসরে রেফারিরা মোট ২৮টি লাল কার্ড দেখিয়েছিলেন, যা এখনো বিশ্বকাপের এক আসরে সর্বোচ্চ। এরপর রয়েছে ১৯৯৮ সালের ফ্রান্স বিশ্বকাপ, যেখানে ২২টি লাল কার্ড দেখানো হয়েছিল। এছাড়া ২০০২ সালের দক্ষিণ কোরিয়া–জাপান বিশ্বকাপ এবং ২০১০ সালের দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে দেখানো হয়েছিল ১৭টি করে লাল কার্ড।
২০২৬ বিশ্বকাপ এখনও শেষ হয়নি। ফলে শেষ পর্যন্ত লাল কার্ডের সংখ্যা কোথায় গিয়ে থামে, সেটিই এখন দেখার বিষয়। তবে বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে সাম্প্রতিক কয়েকটি বিশ্বকাপের তুলনায় এটি শৃঙ্খলাভঙ্গের দিক থেকে অন্যতম আলোচিত আসর হয়ে উঠতে পারে।
বিডি-প্রতিদিন/এমএল