ময়মনসিংহে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী সৈকত হাসান আকাশ হত্যা মামলায় দুই ভাইকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁদের ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। এ ছাড়া অপর দুই আসামিকে সাত বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড, ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুরে ময়মনসিংহের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ (ভারপ্রাপ্ত) মো. সামছুদ্দিন এ রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, ময়মনসিংহ সদর উপজেলার ভূগলী নয়াপাড়া গ্রামের এনামুল হক ও তাঁর ভাই নাজমুল হক (২৬)। একই গ্রামের জিয়াউল হক (৫৭) ও তাঁর ভাই জুলহাস উদ্দিনকে (৩৭) সাত বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
ময়মনসিংহ আদালতের পরিদর্শক মোস্তাছিনুর রহমান রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, রায় ঘোষণার সময় নাজমুল হক, জিয়াউল হক ও জুলহাস উদ্দিন আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তবে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এনামুল হক পলাতক রয়েছেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের ১৯ মে রাতে একটি মেয়ের মাধ্যমে ডেকে নেয়া হয় সদর উপজেলার অষ্টধার উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী সৈকত হাসান আকাশকে। পরে তাঁর গলা কেটে হত্যা করে মরদেহ মাটিচাপা দেওয়া হয়। দুই দিন পর, ২১ মে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে।
তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, আকাশের সঙ্গে স্থানীয় ইউপি সদস্য জিয়াউল হকের মেয়ের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বিষয়টি জানাজানি হলে মেয়েটির পরিবার ওই সম্পর্ক মেনে নেয়নি। এর জের ধরেই পরিকল্পিতভাবে আকাশকে ডেকে নিয়ে হত্যা করে মরদেহ মাটিতে পুঁতে রাখা হয়।
ঘটনার পরদিন আকাশের বাবা মো. আকরাম হোসেন বাদী হয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় ১৪ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা করেন। তদন্ত শেষে ২০২২ সালের ১৪ জানুয়ারি পুলিশ চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে।
মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) মো. আবু হানিফ খান। আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. রফিকুল ইসলাম খান।
বিডি-প্রতিদিন/এমএল