খুলনাসহ আশপাশের জেলা-উপজেলা থেকে থাইরয়েড পরীক্ষা, বিভিন্ন হরমোনের মাত্রা নির্ণয়, মেশিনের সাহায্যে মস্তিষ্ক, হাড়, কিডনি লিভার ইত্যাদির গঠন ও কার্যকারিতা পরীক্ষায় একমাত্র জায়গা খুলনা পরমাণু চিকিৎসা কেন্দ্রে। এ কেন্দ্রে সকাল থেকেই ভিড় করেন সাধারণ মানুষ। কিন্তু এখানে সকাল সাড়ে ৮টার আগে রোগীর সিরিয়াল গ্রহণ বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফলে দূরদূরান্ত থেকে আসা রোগী সেবা না পেয়ে ফিরে যায়। এখানে চারটি অত্যাধুনিক আল্ট্রাসনোগ্রাফি মেশিন থাকলেও প্রতিটি মেশিনে ৪-৫টির বেশি করা হয় না। নানা অজুহাত দেখিয়ে রোগীদের সেবা থেকে বঞ্চিত করা হয়। হরমোন ও থাইরয়েডের জরুরি প্যাথলজি পরীক্ষায় রিপোর্ট পেতে ৮-১০ দিন সময় লাগবে জানিয়ে বিভিন্ন বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পাঠানো হয় সেবাগ্রহীতারা।
অনুসন্ধানে জানা যায়, বিভিন্ন সিন্ডিকেট, জনবল সংকট ও প্রশাসনিক দুর্বলতায় খুলনা পরমাণু চিকিৎসা কেন্দ্রে (ইনস্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার মেডিসিন অ্যান্ড এলায়েড সায়েন্সেস-ইনমাস) ভোগান্তিতে পড়ছেন সেবা গ্রহীতারা। পরীক্ষানিরীক্ষায় আধুনিক যন্ত্রপাতি থাকা সত্ত্বেও ব্যবস্থাপনা জটিলতা কাক্সিক্ষত সেবা না পেয়ে ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। জানা যায়, খুলনা পরমাণু চিকিৎসা কেন্দ্রে ২১ বছর ধরে বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করছে পরিচালক ডা. ঝর্ণা দাস। অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘ সময় একই প্রতিষ্ঠানে থাকায় মূলত তাঁকে ঘিরেই সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানে কেনাকাটায় দুর্নীতির অভিযোগ জমা পড়ে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের পরিচালক (অর্থ)-এর কাছে।
ডা. ঝর্ণা দাস ২০০৫ সালে এখানে চিকিৎসা কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দেন। পদোন্নতি পেয়ে ঊর্ধ্বতন চিকিৎসা কর্মকর্তা ও ২০২০ সালে ২০ নভেম্বর মুখ্য চিকিৎসা কর্মকর্তা ও পরিচালক পদে পদোন্নতি পান। রোগীর স্বজনরা জানান, পরিচালক হওয়ার পর থেকে ডা. ঝর্ণা দাস রোগী দেখা থেকে বিরত আছেন। অথচ সপ্তাহে ছয় দিন তিনি খুলনার বেসরকারি প্যাথলজি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে আল্ট্রাসনো ও টিভিএস টেস্ট করেন। পরীক্ষানিরীক্ষায় সরকারি প্রতিষ্ঠানের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি অর্থ ব্যয় সেখানে। সরকারি গাড়িযোগে তিনি নিয়মিত বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রোগী দেখতে যান।
এসব বিষয়ে ডা. ঝর্ণা দাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলতে নিষেধ আছে বলে জানান। কোনো বিষয়ে জানতে লিখিত আবেদন নিয়ে ঢাকায় যোগাযোগ করতে বলেন। তিনি তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিয়েও কথা বলতে রাজি হননি।