১৯৩০ সালের প্রথম বিশ্বকাপ আসরেই দারুণ ফুটবল উপহার দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। সেবার তৃতীয় স্থান অর্জন করেছিল, যা বিশ্বকাপের ইতিহাসে তাদের সর্বোচ্চ সাফল্য। এখন অবধি ১২ বারের অংশগ্রহণে আটবারই শেষ ১৬-তে খেলেছে যুক্তরাষ্ট্র। কাতার আসরেও এ পর্ব থেকে বিদায় নেয় তারা। তবে এবার দলটি দ্রুতগতির ফুটবল খেলে পরাশক্তিদের ভাবাচ্ছে। যা দেশটির সমর্থকদের বড় স্বপ্ন দেখাচ্ছে। কারণ এবার তারা সহ-আয়োজক। গতকাল বসনিয়াকে ২-০ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র। ২০০২ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে কোনো ম্যাচ জিতল তারা। সেবারের কোরিয়া-জাপান আসরে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নেয় যুক্তরাষ্ট্র। এরপর ২০১০ ও ২০১৪ আসরেও শেষ ১৬ থেকে বাদ পড়ে তারা। তবে বসনিয়ার বিপক্ষে এ জয়ের মধ্য দিয়ে আরও একটি খরা কাটাল দেশটি। ইউরোপীয় দলগুলোর বিপক্ষে টানা ১০ ম্যাচ জয়হীন থাকার রেকর্ডের অবসান ঘটাল যুক্তরাষ্ট্র। যা পরের ম্যাচের জন্য মৌরিসিও পচেত্তিনোর দলকে আরও আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে। গতকাল বসনিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের দুই অর্ধে দুটি গোল পেয়েছে স্বাগতিকরা। প্রথমার্ধের ৪৫ মিনিটে যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে প্রথম গোলটি করেন ফোলারিন বালোগান। এরপর ১০ জনের দল নিয়ে ম্যাচের ৮২ মিনিটে ফ্রি-কিক থেকে দ্বিতীয় গোলটি করেন মালিক টিলম্যান। এই দুই গোলের মাঝে ৬৪ মিনিটে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন প্রথম গোলের নায়ক বালোগান। একজন কম নিয়েও খুব একটা সমস্যায় পড়তে হয়নি যুক্তরাষ্ট্রকে। দারুণ এই জয়ে শেষ ষোলোয় বেলজিয়ামকে পেল যুক্তরাষ্ট্র। আগামী মঙ্গলবার ভোরে সিয়াটলে মুখোমুখি হবে এই দুই দল। আর দুই দলের মুখোমুখি লড়াইয়ের পরিসংখ্যানে এগিয়ে বেলজিয়াম।
ইউরোপের রেড ডেভিলদের বিপক্ষে সাতবারের দেখায় ছয়বারই হেরেছে যুক্তরাষ্ট্র। জিতেছে মাত্র একটিতে। তাও ১৯৩০ আসরে।
এ ছাড়া ২০১৪ সালের শেষ ষোলোর লড়াইয়েও এই বেলজিয়ামের কাছে ২-১ ব্যবধানে হেরে বিদায় নেয় এবারের সহ-আয়োজক দেশটি। এবারও শেষ ষোলোয় তাদের প্রতিপক্ষ ইউরোপের চেনা দেশটি। তবে লাল কার্ডের নিষেধাজ্ঞার কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে খেলতে পারবেন না ফোলারিন বালোগান, যা স্বাগতিকদের জন্য বড় ধাক্কা। রেফারির এমন সিদ্ধান্তের সমালোচনাও করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের কোচ পচেত্তিনো। তার মতে, অনিচ্ছাকৃত এ ফাউলের জন্য তার ফরোয়ার্ড বালোগানের লাল কার্ড একদমই প্রাপ্য ছিল না। তবে লাল কার্ডের ক্ষোভ থাকলেও শেষ ষোলোয় উঠতে পারায় ভীষণ খুশি এ কোচ পরের ধাপে যাওয়া নিয়েও বেশ আশাবাদী।