নরসিংদীর মনোহরদীতে অসচ্ছল নারীদের আত্মনির্ভরশীল ও স্বাবলম্বী করে তুলতে বসুন্ধরা গ্রুপের উদ্যোগে শুভসংঘের মাধ্যমে ৩০ জন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নারীর মাঝে সেলাই মেশিন ও গাছের চারা বিতরণ করা হয়েছে।
শুক্রবার সন্ধ্যায় মনোহরদী অডিটোরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে উপকারভোগীদের হাতে সেলাই মেশিন ও গাছের চারা তুলে দেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলন।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন বসুন্ধরা শুভসংঘের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা মাহবুবুর রহমান মনির। বসুন্ধরা শুভসংঘ মনোহরদী উপজেলা শাখার সভাপতি ডা. মো. সাইদুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাইমিন আল জিহান, বসুন্ধরা শুভসংঘের পরিচালক জাকারিয়া জামান, মনোহরদী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সজীব মিয়া, মনোহরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর বাদশা, মনোহরদী উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মো. আমিনুর রহমান সরকার দোলন, পৌর বিএনপির সদস্য সচিব আবদুল হান্নান এবং মনোহরদী সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. বাবুল মোল্লা।

উপকারভোগীরা জানান, বিনামূল্যে প্রশিক্ষণের পাশাপাশি সেলাই মেশিন পাওয়ায় তাদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে আয়-রোজগারের একটি স্থায়ী মাধ্যমের অপেক্ষায় থাকা নারীরা এ উদ্যোগকে নিজেদের জীবনের নতুন সম্ভাবনা হিসেবে দেখছেন।
উপকারভোগী আছিয়া আক্তার বলেন, এই সেলাই মেশিন কাজে লাগিয়ে তিনি নিজের ভাগ্য পরিবর্তনের পাশাপাশি পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা নিশ্চিত করতে চান। তিনি বসুন্ধরা গ্রুপের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, সমাজের পিছিয়ে পড়া নারীদের উন্নয়নে এ ধরনের উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়।
বসুন্ধরা শুভসংঘের পরিচালক জাকারিয়া জামান বলেন, গ্রামীণ নারীদের টেকসইভাবে স্বাবলম্বী করতে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে সেলাই মেশিন দেওয়া হচ্ছে। গত তিন বছরে সারা দেশে তিন হাজারের বেশি সেলাই মেশিন বিতরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রমের মাধ্যমে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছে বসুন্ধরা গ্রুপ এবং ভবিষ্যতেও এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
বসুন্ধরা শুভসংঘের উপদেষ্টা মাহবুবুর রহমান মনির বলেন, সারা দেশের মতো নরসিংদীর তৃণমূল পর্যায়েও বসুন্ধরা শুভসংঘের কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। এর আগে শিবপুর ও মনোহরদীতেও সেলাই মেশিন বিতরণসহ বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে অসচ্ছল মানুষের পাশে দাঁড়ানো হয়েছে। ভবিষ্যতে জেলার আরও বিভিন্ন এলাকায় এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলন বলেন, নারীদের দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে আত্মনির্ভরশীল করে তোলা এবং পারিবারিক আয়ের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করাই এ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নারীরা নিজ বাড়িতে কিংবা ছোট পরিসরে সেলাইয়ের কাজ শুরু করে পরিবারের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবেন। ভবিষ্যতে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা হিসেবেও নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার সুযোগ তৈরি হবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, একটি সুন্দর সমাজ গঠনে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকেও এগিয়ে আসতে হবে। বসুন্ধরা শুভসংঘ সেই দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করছে। সেলাই মেশিনের পাশাপাশি গাছের চারা বিতরণের উদ্যোগ পরিবেশ সংরক্ষণেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
তিনি বলেন, সেলাই মেশিনের মাধ্যমে নারীরা আয় করে পরিবারের দায়িত্ব ভাগ করে নিতে পারবেন। এতে সংসারের আর্থিক অবস্থার উন্নতির পাশাপাশি সন্তানদের ভবিষ্যৎ গড়তেও সহায়ক হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, দেশের প্রতিটি জেলা হাসপাতালে ১০ শয্যার কিডনি ডায়ালাইসিস ইউনিট চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একইভাবে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতেও পর্যায়ক্রমে ১০ শয্যার ডায়ালাইসিস সুবিধা চালু করা হবে। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিগুলো ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে এবং বাকি প্রতিশ্রুতিগুলোও দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে।
বিডি প্রতিদিন/জেডএ