জীবনের শেষ প্রান্তে এসে যখন অভাব-অনটন আর অনিশ্চয়তাই হয়ে ওঠে নিত্যসঙ্গী, তখন একটি ছোট্ট সহায়তাও হয়ে উঠতে পারে নতুন করে বাঁচার প্রেরণা। এমনই এক মানবিক উদ্যোগ নিয়েছে বসুন্ধরা শুভসংঘ ক্ষেতলাল উপজেলা শাখা।
জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার পাঠানপাড়া গ্রামের ৬৫ বছরের ঊর্ধ্বে অসহায় সুশিল চন্দ্র মহন্ত ষষ্ঠার হাতে জীবিকার নতুন অবলম্বন হিসেবে একটি বাদামের দোকান তুলে দিয়েছে ক্ষেতলাল বসুন্ধরা শুভসংঘের সদস্যরা। বুধবার আয়োজিত এক আন্তরিক অনুষ্ঠানে দোকানের প্রয়োজনীয় সামগ্রী তার হাতে তুলে দেওয়া হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বসুন্ধরা শুভসংঘ ক্ষেতলাল উপজেলা শাখার প্রচার সম্পাদক আম্মার হোসেন, কার্যকরী সদস্য শাহরিয়ার, রাকিব হাসান, এরশাদুল, কাজল, আব্দুল করিমসহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্য এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
দীর্ঘদিন ধরে দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করা সুশিল চন্দ্র মহন্ত ষষ্ঠা একজন প্রতিবন্ধী স্ত্রীকে নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছিলেন। নিয়মিত আয়ের কোনো উৎস না থাকায় প্রতিটি দিনই ছিল সংগ্রামের। বসুন্ধরা শুভসংঘের এই উদ্যোগে তাঁর পরিবারে ফিরেছে নতুন আশার আলো।
বসুন্ধরা শুভসংঘ ক্ষেতলাল উপজেলা শাখার সভাপতি এম রাসেল আহমেদ বলেন, মানুষকে ক্ষণিকের সহায়তা নয়, স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ করে দেওয়াই প্রকৃত মানবিকতা। সুশিল চন্দ্র মহন্ত ষষ্ঠার মুখে হাসি ফোটাতে পেরে আমরা আনন্দিত। সমাজের সামর্থ্যবান সবাই এগিয়ে এলে এমন আরও অনেক মানুষের জীবন বদলে যাবে।
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হোসেন বলেন, একটি পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে পারাই আমাদের সবচেয়ে বড় সাফল্য। বসুন্ধরা শুভসংঘ ভবিষ্যতেও অসহায় মানুষের পাশে থেকে কর্মসংস্থানভিত্তিক মানবিক উদ্যোগ অব্যাহত রাখবে।
উপস্থিত স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বলেন, ভিক্ষা নয়-কর্মসংস্থানের সুযোগই একজন মানুষের আত্মমর্যাদা ফিরিয়ে দেয়। বসুন্ধরা শুভসংঘের এই উদ্যোগ সমাজের জন্য একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত।
আবেগাপ্লুত সুশিল চন্দ্র মহন্ত ষষ্ঠা বলেন, "এই বয়সে এসে কেউ আমার জন্য এমন কিছু করবে, ভাবিনি। এখন নিজের পরিশ্রমে সংসার চালানোর সুযোগ পেলাম। বসুন্ধরা শুভসংঘের প্রতি আমি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ।"
বিডি-প্রতিদিন/টিএ