ফুটবলে বিপুল বিনিয়োগের পর ক্রিকেটের উন্নয়ন এবং প্রসারে সৌদি আরবের জেদ্দায় একটি অত্যাধুনিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম নির্মাণ করা হবে। কৌশলগত অংশীদারিত্ব চুক্তি স্বাক্ষরের পর প্রথমবারের মতো এমন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড(পিসিবি)।
দেশটির ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি এবং সৌদি আরব ক্রিকেট ফেডারেশনের চেয়ারম্যান প্রিন্স সৌদ বিন মিশাল আল সৌদ সমঝোতা স্মারকটি স্বাক্ষর করেছেন। এই চুক্তির আওতায় পিসিবি জেদ্দায় আন্তর্জাতিক মানের ও সর্বাধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত একটি আধুনিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম নির্মাণ করবে।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) সকল মানদণ্ড অনুযায়ী এই ভেন্যুটি প্রস্তুত করা হবে, এতে সৌদি আরব আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ম্যাচ ও বড় ধরনের টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে সক্ষম হবে।
এই অংশীদারিত্ব কেবল স্টেডিয়াম নির্মাণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; উভয় বোর্ডই ক্রিকেটের অবকাঠামো উন্নয়ন, কারিগরি দক্ষতা বিনিময়, স্টেডিয়ামের পরিকল্পনা এবং পরিচালনগত মানদণ্ড নির্ধারণের ক্ষেত্রে যৌথভাবে কাজ করবে। এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো সমগ্র সৌদি আরবজুড়ে আধুনিক ও সমন্বিত ক্রিকেট অবকাঠামো গড়ে তুলতে সহায়তা করা।
একই সঙ্গে খেলাধুলা ও ক্রীড়া-পর্যটনে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, জনগণের ব্যাপক অংশগ্রহণ এবং জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের মাধ্যমে এই প্রকল্পটি ‘সৌদি ভিশন ২০৩০’-এর লক্ষ্য অর্জনে অবদান রাখবে। চুক্তি স্বাক্ষরের পর মোহসিন নাকভি এই সমঝোতাকে সৌদি আরবে ক্রিকেটের বিকাশের ক্ষেত্রে একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করেন।
তিনি বলেন, সৌদি আরবে ক্রিকেটের প্রসারের ক্ষেত্রে এই চুক্তিটি একটি মাইলফলক। পিসিবি চেয়ারম্যান জানান, সৌদি আরবে ক্রিকেটের উন্নয়নে অবদান রাখতে পেরে বোর্ড গর্বিত। তিনি বিশ্বাস করেন এই অংশীদারিত্ব খেলোয়াড়দের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে এবং পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক ক্রীড়া সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করবে।
নাকভি বলেন, আমরা এমন একটি অংশীদারিত্ব গড়ে তুলছি, যা এই খেলাটিকে আরও শক্তিশালী করে তুলবে। এই যৌথ উদ্যোগ খেলার উন্নয়নে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলবে।
অন্যদিকে সৌদি আরব ক্রিকেট ফেডারেশনের চেয়ারম্যান প্রিন্স সৌদ বিন মিশাল আল সৌদ এই চুক্তিকে স্বাগত জানান। তিনি উল্লেখ করেন, এই সহযোগিতার পরিধি কেবল ক্রিকেট স্টেডিয়াম নির্মাণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না।দুই ক্রিকেট বোর্ডের দীর্ঘমেয়াদী সহযোগিতার মাধ্যমে সৌদি আরবে ক্রিকেটের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেন সৌদি প্রিন্স।
বিডি প্রতিদিন/আরকে