২০২৬ ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর মঞ্চে নিশ্চিত হয়ে গেছে মেক্সিকো ও ইংল্যান্ডের মধ্যকার হাইভোল্টেজ দ্বৈরথ। বিশ্বমঞ্চে এই দুই দলের মুখোমুখি হওয়া মানেই এক টানটান উত্তেজনা, যা ৬০ বছর পর দ্বিতীয়বারের মতো দেখার অপেক্ষায় ফুটবলবিশ্ব।
তবে এবারের লড়াইয়ের প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ ভিন্ন। মেক্সিকো এবার ঘরের মাঠে আতিথ্য দেবে ইংলিশদের, আর তাদের মূল শক্তি ঐতিহাসিক ‘এস্তাদিও আসতেকা’ স্টেডিয়াম, যা মেক্সিকানদের জন্য এক দুর্ভেদ্য দুর্গ। এই মেগা ম্যাচটি নিয়ে ইতিমধ্যেই চুলচেরা বিশ্লেষণ শুরু হয়ে গেছে, যেখানে মেক্সিকান সমর্থকদের গগনবিদারী সমর্থনই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণে প্রধান ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ম্যাচটি নিয়ে কথা বলার সময় ম্যানচেস্টার সিটি ও ইংল্যান্ড দলের সাবেক গোলরক্ষক জো হার্ট মেক্সিকোর কোলোসো দে সান্তা উরসুলা স্টেডিয়ামের অবিশ্বাস্য আবহের কথা মনে করে নিজের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। তবে আলোচনা চলাকালীন তাকে থামিয়ে দিয়ে নিজের স্পষ্ট অবস্থান তুলে ধরেন ইংলিশ কিংবদন্তি ওয়েইন রুনি।
মেক্সিকোর বিপক্ষে ইংল্যান্ডকে পরিষ্কার ফেবারিট দাবি করে রুনি বলেন, কোনো সন্দেহ নেই যে মেক্সিকোর চেয়ে বর্তমান ইংল্যান্ড দল অনেক বেশি শক্তিশালী ও সেরা। তবে মেক্সিকোর পেছনে যে শক্তিটি কাজ করছে, তা হলো তাদের ঘরের মাঠের দর্শক ও আবেগ। মেক্সিকানরা খেলাধুলার প্রতি কতটা আবেগপ্রবণ, তা ফুটবল বা বক্সিং—সব জায়গাতেই দেখা যায়। পুরো দেশ এক হয়ে তাদের দলের জন্য গলা ফাটায় এবং এটাই হতে যাচ্ছে ইংল্যান্ডের জন্য সবচেয়ে বড় মনস্তাত্ত্বিক চ্যালেঞ্জ।
আগামী রবিবার এস্তাদিও আসতেকা স্টেডিয়ামে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে নামবে এই দুই দল। এই ঐতিহাসিক মাঠে ইংলিশরা সর্বশেষ পা রেখেছিল ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপে, যেখানে ডিয়েগো ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’ এবং সেই শতাব্দীর সেরা গোলের কাছে হেরে ট্র্যাজিক বিদায় নিতে হয়েছিল থ্রি লায়ন্সদের। দীর্ঘ সময় পর একই মাঠে ফিরে এসে ইংলিশদের লক্ষ্য থাকবে মেক্সিকানদের আবেগের জোয়ার রুখে দিয়ে ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঠেকানো। সব মিলিয়ে ঘরের মাঠের দর্শক বনাম মাঠের শক্তিমত্তার এই ধ্রুপদী লড়াই দেখার জন্য প্রহর গুনছেন বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমী।
বিডি প্রতিদিন/কেএইচটি