বড় অঙ্কের দলবদল ফি দিয়ে সদ্যই জার্মান ক্লাব বায়ার্ন মিউনিখে যোগ দিয়েছেন মরক্কোর তারকা মিডফিল্ডার ইসমায়েল সাইবারি। আলিয়াঞ্জ অ্যারেনায় নিজের অভিষেক মৌসুম শুরুর আগেই অবশ্য খবরের শিরোনামে চলে এসেছেন পিএসভি আইন্দহোভেনের সাবেক এই তারকা। তবে এবার কোনো চড়া মূল্যের খবরের জন্য নয় বরং সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত ও আবেগঘন এক কারণে বায়ার্নে নিজের জার্সি নম্বর হিসেবে '৩৪' বেছে নিয়েছেন তিনি। এই সিদ্ধান্তের পেছনে লুকিয়ে আছে তার এক প্রিয় বন্ধুর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার গল্প।
সাইবারি জানিয়েছেন, ৩৪ নম্বর জার্সিটি তিনি মূলত তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু আবদেলহাক নুরিকে উৎসর্গ করেছেন। আয়াক্সের সাবেক এই উদীয়মান মিডফিল্ডার ২০১৭ সালে ভেয়ার্ডার ব্রেমেনের বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচ চলাকালীন মাঠে আচমকা হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ভেঙে পড়েন। এই দুর্ঘটনার ফলে তার মস্তিষ্কে স্থায়ী ক্ষতি হয় এবং চিরতরে থমকে যায় ফুটবল ক্যারিয়ার। নিজের এই আবেগের কথা প্রকাশ করতে গিয়ে সাইবারি বলেন, নুরি বেঁচে আছেন ঠিকই কিন্তু সেই ঘটনার পর থেকে আজ অব্দি তিনি অন্যের সাহায্য ছাড়া নড়াচড়া করতে পারেন না। তার শেষ জার্সি নম্বরটি গায়ে জড়িয়েই তাকে সবসময় সমর্থন ও অনুপ্রেরণা জুগিয়ে যেতে চান সাইবারি। ইউরোপীয় ফুটবলে অবশ্য নুরিকে এভাবে সম্মান জানানোর ঘটনা এটিই প্রথম নয়, এর আগেও বেশ কয়েকজন তারকা ফুটবলার নুরির স্মৃতিকে মাঠে বাঁচিয়ে রাখতে ৩৪ নম্বর জার্সি গায়ে জড়িয়েছেন।
বায়ার্ন মিউনিখের ইতিহাসে ৩৪ নম্বর জার্সিটির আলাদা একটি ঐতিহ্য রয়েছে। ক্লাবের সাবেনার স্ট্রাসের সদর দপ্তরে এই নম্বরটিকে মূলত তরুণ প্রতিভাদের মূল দলে জায়গা করে নেওয়ার সিঁড়ি হিসেবে দেখা হতো। অতীতে সান্দ্রো ভাগনার, পিয়েরে-এমিল হয়বিয়ার্গ, মার্কো ফ্রিডল কিংবা অতি সম্প্রতি দেনিজ অফলির মতো তরুণরা এই নম্বরটি পরে খেলেছেন। তবে সাইবারির ক্ষেত্রে প্রেক্ষাপট ভিন্ন। তিনি কোনো তরুণ অনভিজ্ঞ খেলোয়াড় হিসেবে নন বরং কোচ ভিনসেন্ট কোম্পানির শুরুর একাদশের অন্যতম প্রধান ভরসা হিসেবেই ক্লাবে পা রেখেছেন। স্বাভাবিকভাবেই বুন্দেসলিগার এই মৌসুমে জার্সিটি এক নতুন মর্যাদা পেতে যাচ্ছে।
২০২৬ বিশ্বকাপে মরক্কোর জার্সিতে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়ে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা এই তারকার ওপর বায়ার্ন সমর্থকদের প্রত্যাশাও এখন আকাশচুম্বী। প্রায় ৫০ মিলিয়ন ইউরোর বড় অঙ্কের ফিক্সড ফিতে বায়ার্নে আসা সাইবারিকে নিয়ে দারুণ আশাবাদী ক্লাবের স্পোর্টিং ডিরেক্টর ক্রিস্টোফ ফ্রয়ন্ড। তিনি জানান, পিএসভির হয়ে টানা তিনবার ডাচ চ্যাম্পিয়নশিপ জেতা সাইবারির রয়েছে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের দারুণ অভিজ্ঞতা, যা তিনি সদ্য সমাপ্ত বিশ্বকাপেও প্রমাণ করেছেন। ফ্রয়ন্ডের মতে, সাইবারির ক্ষীপ্রতা, বহুমুখী খেলার শৈলী এবং গোল করার ক্ষুধা বায়ার্ন মিউনিখকে আরও শক্তিশালী করবে, আর মাঠের ফুটবলে তার মতো লড়াকু মানসিকতার খেলোয়াড় দেখতেই দর্শকরা স্টেডিয়ামে ভিড় জমান।
বিডি প্রতিদিন/এনএইচ