আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ মিশনের নকআউট পর্বের শুরুতেই আলোচনায় উঠে এসেছেন ম্যাচের রেফারি। কেপ ভার্দের বিপক্ষে রাউন্ড অব ৩২’র ম্যাচে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে কানাডার অভিজ্ঞ রেফারি ড্রিউ ফিশারকে। শনিবার বাংলাদেশ সময় ভোর ৪টায় মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ম্যাচটি পরিচালনা করবেন তিনি। তবে দায়িত্ব ঘোষণার পর আবারও সামনে এসেছে কয়েক বছর আগের একটি বিতর্কিত ঘটনার প্রসঙ্গ।
ক্যালগারিতে জন্ম নেয়া ড্রিউ ফিশার উত্তর আমেরিকার ফুটবলে সুপরিচিত মুখ। দীর্ঘদিন ধরে তিনি মেজর লিগ সকার (এমএলএস)-এ নিয়মিত ম্যাচ পরিচালনা করে আসছেন। এমএলএসে এখন পর্যন্ত ২২৯টির বেশি ম্যাচে রেফারির দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। ২০১৫ সাল থেকে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও ফিফার তালিকাভুক্ত রেফারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
লিওনেল মেসির ক্লাব ইন্টার মায়ামির সঙ্গেও ফিশারের পরিচিতি রয়েছে। ভ্যাঙ্কুভার হোয়াইটক্যাপসকে ৩-২ গোলে হারিয়ে ইন্টার মায়ামি যখন তাদের প্রথম লিগ শিরোপা নিশ্চিত করে, সেই ম্যাচের রেফারিও ছিলেন এই কানাডিয়ান। ফলে মেসি ও তার সতীর্থদের জন্য ফিশার একেবারেই অপরিচিত নন।
তবে তার ক্যারিয়ার বিতর্কমুক্ত নয়। ২০২৩ সালে কনকাকাফ নেশনস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে মেক্সিকো ও হন্ডুরাসের ম্যাচে তিনি ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ওই ম্যাচের পর অভিযোগ ওঠে, মেক্সিকোর পক্ষে সিদ্ধান্ত প্রভাবিত করেছিলেন ফিশার।
ম্যাচ শেষে মূল রেফারি ইভান বার্টন জানান, ভিএআর বুথ থেকে ফিশার তাকে স্টপেজ টাইম আরও বাড়ানোর নির্দেশ দেন। বার্টনের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথমে প্রায় ১০ মিনিট অতিরিক্ত সময় যোগ করার পরামর্শ দেয়া হলেও তিনি ৯ মিনিট ঘোষণা করেছিলেন। সেই সময় শেষ হওয়ার পরও ভিএআর থেকে আরও দুই মিনিট খেলা চালিয়ে যেতে বলা হয়। অতিরিক্ত সময়ের দশম মিনিটে মেক্সিকো সমতাসূচক গোল করে ম্যাচটি টাইব্রেকারে নিয়ে যায় এবং শেষ পর্যন্ত জয়ও তুলে নেয়। ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হলেও কয়েক দিনের মধ্যেই বিষয়টি অনেকটা চাপা পড়ে যায়। পরবর্তীতে মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার কনকাকাফ ফাইনালের দায়িত্বও পান ফিশার।
আর্জেন্টিনার ম্যাচে অবশ্য ফিশারের অভিজ্ঞতা খুব বেশি নয়। এর আগে মাত্র একবার আলবিসেলেস্তেদের ম্যাচ পরিচালনা করেছেন তিনি। ২০২৪ কোপা আমেরিকার আগে ফিলাডেলফিয়ায় অনুষ্ঠিত একটি প্রীতি ম্যাচে আর্জেন্টিনা ১-০ গোলে ইকুয়েডরকে হারিয়েছিল। সেই ম্যাচে একমাত্র গোলটি করেছিলেন অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়া। পরে একই বছর কোপা আমেরিকার শিরোপাও জেতে লিওনেল স্কালোনির দল।
চলমান বিশ্বকাপেও প্রথমবারের মতো মাঠের রেফারি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ফিশার। ইতোমধ্যে ইরাক-ফ্রান্স এবং ক্রোয়েশিয়া-ঘানা ম্যাচ পরিচালনা করেছেন তিনি। দুটি ম্যাচেই জয় পেয়েছে ইউরোপের প্রতিনিধিরা।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত ক্লাব বিশ্বকাপেও দুটি ম্যাচে দায়িত্ব পালন করেছিলেন এই কানাডিয়ান রেফারি। প্যারিস সেন্ট জার্মেইর বিপক্ষে বোটাফোগোর চমকপ্রদ জয় এবং উইদাদ এসির বিপক্ষে আল আইনের জয়ের ম্যাচে তিনিই ছিলেন ম্যাচ অফিসিয়াল।
বিডি-প্রতিদিন/এআইডি