ফুটবলের দুই কিংবদন্তির শেষ বিশ্বকাপ এটি। গ্রুপ পর্বের সমীকরণ শেষে আগেই নির্ধারিত হয়েছিল যে, শেষ ৩২-এর লড়াইয়ে যেকোনো একজনের বিদায় ঘণ্টা বাজবে। অবশেষে কানাডার টরন্টোতে কান্নার রঙে শেষ হলো একজনের বিশ্বকাপ যাত্রা। ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পর্তুগালের কাছে ২-১ গোলে হেরে বিশ্বমঞ্চ থেকে বিদায় নিলেন লুকা মদ্রিচ। আর এই জয়ে অন্তত আরও এক ম্যাচের জন্য টুর্নামেন্টে টিকে রইলেন পর্তুগিজ যুবরাজ।
ম্যাচের শুরুতেই ইতিহাস গড়েন রোনালদো ও মদ্রিচ। বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ৪০ বা তার বেশি বয়সী দুই আউটফিল্ড খেলোয়াড় একে অপরের বিপক্ষে মাঠে নামার রেকর্ড গড়েন। তবে প্রথমার্ধে দুই তারকার কেউই তেমন একটা চমক দেখাতে পারেননি। ম্যাচের ৫৩তম মিনিটে গোল খেয়ে পিছিয়ে পড়ে পর্তুগাল। তখন মনে হচ্ছিল ২০২৬ বিশ্বকাপে পর্তুগালের যাত্রা হয়তো এখানেই থমকে যাবে। কিন্তু নিজেদের ওপর বিশ্বাস হারায়নি তারা। ৬৮তম মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে পর্তুগালকে সমতায় ফেরান অধিনায়ক রোনালদো।
নির্ধারিত সময় শেষে ইনজুরি টাইমেও স্কোরলাইন সমতায় থাকায় ম্যাচটি অতিরিক্ত সময়ে গড়ানোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু ৯৪তম মিনিটে রামোসের দুর্দান্ত এক হেডার পুরো ম্যাচের চিত্র বদলে দেয়। ম্যাচের একেবারে শেষ মুহূর্তে নাটকীয়ভাবে গোল করে সমতায় ফেরার উল্লাসে মেতেছিল ক্রোয়েশিয়া। তবে ভিএআর প্রযুক্তির সিদ্ধান্তে সেই গোল বাতিল হলে ট্র্যাজিক হিরো হয়ে মাঠ ছাড়তে হয় মদ্রিচকে।
ম্যাচ শেষের বাঁশি বাজতেই সাবেক রিয়াল মাদ্রিদ সতীর্থ মদ্রিচকে জড়িয়ে ধরেন রোনালদো। মাথায় হাত বুলিয়ে সান্ত্বনা দেওয়ার পাশাপাশি দীর্ঘক্ষণ আলিঙ্গন করেন একে অপরকে। ম্যাচ শেষে মদ্রিচের ভূয়সী প্রশংসা করে সিআরসেভেন বলেন, তিনি লুকার সাথে অনেক বছর খেলেছেন এবং লুকা ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম এক কিংবদন্তি। রোনালদো আরও জানান, তিনি এই কথা মদ্রিচকে বহুবার বলেছেন। সাবেক সতীর্থের ক্যারিয়ারের আগামী দিনগুলোর জন্য মন থেকে শুভকামনা জানান এই পর্তুগিজ মহাতারকা।
বিডি প্রতিদিন/এনএইচ