হাওর ও নদীর জলাশয় ব্যবস্থাপনায় ‘জাল যার, জলা তার’ নীতি বাস্তবায়ন করার কথা জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। প্রকৃত জেলেদের অধিকার নিশ্চিত করে দেশের হাওর ও নদী ব্যবস্থাপনা পরিচালিত হবে বলে জানান তিনি।
শুক্রবার দুপুরে নেত্রকোনার মদন উপজেলার উচিতপুর হাওরে বিভিন্ন প্রজাতির দেশীয় মাছের পোনা অবমুক্তকরণ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।
এসময় সরকার দেশীয় মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং জেলেদের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করছে বলেও জানান মৎস্য প্রতিমন্ত্রী।
এর আগে মদন উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত উচিৎপুর হাওরের ঘাটে এক জনসমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মৎস্য প্রতিমন্ত্রী। সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সড়ক ও রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও স্থানীয় সংসদ সদস্য লুৎফুজ্জামান বাবর।
হাওর পরিদর্শনে এসে মৎস্য অবমুক্তকরণ কর্মসূচিতে মদন, মোহনগঞ্জ ও খালিয়াজুরী উপজেলার হাওরাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে কৃষক ও জেলেদের নিয়ে পৃথক সমাবেশে অংশ নেন অতিথিরা। এ সময় তারা স্থানীয়দের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং হাওরের সমস্যা, সম্ভাবনা ও উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন।
সমাবেশগুলোতে বক্তারা হাওরাঞ্চলের মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং জেলে-কৃষকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন। তারা বলেন, হাওরাঞ্চলের উন্নয়ন ও মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
এ সময় স্থানীয় সংসদ সদস্য লুৎফুজ্জামান বাবর সম্প্রতি জলাবদ্ধতায় হাওরের ফসলহানিতে ক্ষত্রিগ্রস্ত কৃষকদের প্রণোদনা তালিকায় অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আসলে এই তালিকাটা করা হয়েছে খুব অল্প সময়ের মধ্যে। মাত্র ১০ থেকে ১৫ দিন প্রশাসন সময় পেয়েছে। এর মধ্যেই করছে। এতে কিছু ভুলভ্রান্তি হয়েছে আমিও জানি। যেগুলো ভুলভ্রান্তি আছে-একই পরিবারের অনেকের নামে হয়েছে ওগুলো সব স্থগিত করা হয়েছে। নতুন করে তালিকা করা এখন আর সম্ভব না। আর ক্ষতিগ্রস্ত মোটামুটি সবাই পেয়েছে।
বিডি-প্রতিদিন/বিএম