জাতীয় দক্ষতামান বেসিক কোর্সে কোনো শিক্ষার্থী ভর্তি না করায় রাজশাহী বিভাগের ১৫৪ কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভর্তি কার্যক্রম বন্ধ হতে যাচ্ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে চলতি বছরের জুলাই-ডিসেম্বর সেশন থেকে ভর্তি কার্যক্রম স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে এসব প্রতিষ্ঠানের প্রধানকে কারণ দর্শানোর নোটিস (শোকজ) দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শোকজের জবাব না দেওয়ায় আগামী ১০ জুলাইয়ের মধ্যে আবারও শোকজের এ ব্যাখ্যা পাঠাতে বলা হয়েছে।
জাতীয় দক্ষতামান বেসিক কোর্স হলো বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড (বিটিইবি) কর্তৃক পরিচালিত ৩৬০ ঘণ্টা মেয়াদের একটি বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ। এর মূল উদ্দেশ্য হলো বেকার যুবক ও শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ট্রেডে বাস্তবমুখী কাজ শিখিয়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। এ কোর্সে কম্পিউটার অপারেশন, ইলেকট্রিক্যাল, ওয়েল্ডিং, ড্রাইভিং, টেইলারিং, রেফ্রিজারেশন ও এয়ারকন্ডিশনিংয়ের মতো বিভিন্ন উৎপাদনশীল ও সেবাধর্মী ট্রেডে এ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। যোগ্যতা অষ্টম শ্রেণি থেকে শুরু করে যেকোনো শিক্ষাগত যোগ্যতার শিক্ষার্থীরা এতে ভর্তি হতে পারেন। নামমাত্র ফিতে (রেজিস্ট্রেশন, পরীক্ষা ও সনদ ফি মেলে) এ কোর্স শেষে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড একটি সরকারি সার্টিফিকেট প্রদান করে, যা দেশেবিদেশে চাকরির ক্ষেত্রে অত্যন্ত গ্রহণযোগ্য। গত ১ জুলাই কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের এক চিঠিতে দেশের ১ হাজার ৮৫টি প্রতিষ্ঠানের তালিকা সংযুক্ত আছে। এর মধ্যে রাজশাহী বিভাগের ১৫৪ কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আছে। বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের উপপরিদর্শক (শর্ট কোর্স) প্রকৌ. মোহাম্মদ সামসুল আলম ওই চিঠিতে স্বাক্ষর করেন।
এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তালিকায় রাজশাহী বিভাগের মধ্যে রাজশাহী জেলার কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বেশি। এ জেলায় ৫১টি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। আর সবচেয়ে কম জয়পুরহাটে ৬ কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আছে। এ ছাড়া বগুড়ায় ৩৩টি, নওগাঁয় ৭টি, চাঁপাইনবাবগঞ্জে ১৪টি, নাটোরে ৯টি, সিরাজগঞ্জে ২০টি ও পাবনা জেলায় ১৪ কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আছে। বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের উপপরিদর্শক (শর্ট কোর্স) প্রকৌ. মোহাম্মদ সামসুল আলম জানান, প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যাখ্যা সন্তোষজনক না হলে তাদের শিক্ষার্থী ভর্তি ও অনুমোদন বাতিল করা হবে।