বিশ্বকাপ ফুটবল শুরুর আগেই আর্জেন্টিনা, স্পেন ও ফ্রান্স নিয়ে বেশি কথাবার্তা চলছিল। অধিকাংশ বিশ্লেষকদের মত, এবার তিন দেশেরই চ্যাম্পিয়নের সম্ভাবনা বেশি। আমিও বলেছি তিন দেশেরই শিরোপা জেতার সামর্থ্য রয়েছে। তবে হঠাৎ করে কেন জানি স্পেনের নামটি আড়ালে চলে গিয়েছিল। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েই দেশটি নকআউটে জায়গা করে নিয়েছে। তারপরও এমবাপ্পের ফ্রান্স ও মেসির আর্জেন্টিনার নামই বেশি উচ্চারিত হচ্ছে। অথচ এ কলাম যখন লিখছি, তখনো আর্জেন্টিনার প্রি-কোয়ার্টার ম্যাচ মাঠে গড়ায়নি। লিওনেল মেসির ওপর আস্থা রেখে ধরে নেওয়া হয়েছে আর্জেন্টিনা ঠিকই কেপ ভার্দে বাধা পেরিয়ে যাবে। কথা হচ্ছে স্পেন তাহলে আড়ালে চলে গিয়েছিল কেন? ফ্রান্স ও আর্জেন্টিনার নাম তো আছেই। ভিনিসাসরা দুর্দান্ত খেলায় অনেকে শিরোপার তালিকায় ব্রাজিলের নামও রাখতে শুরু করেছেন। এমনকি মরক্কোর ব্যাপারেও আশাবাদী হয়ে উঠছেন। স্পেন যে বিশ্বকাপে আছে আমার মতো কেউ কেউ হয়তো ভুলতে বসেছিল। হতে পারে নিজেদের গ্রুপে প্রথম ম্যাচে দুর্বল কেপ ভার্দের বিপক্ষে ড্র করায় স্পেনের নাম সেইভাবে আলোচনায় ছিল না। তাতে কি, সৌদি আরব ও উরুগুয়েকে তো হারিয়েছে।
যাক যাই হোক না কেন, স্পেন আলোচনায় ফিরে এসেছে দারুণভাবে। নকআউট পর্বে তাদের শুরুটা যেভাবে হয়েছে তাতে আর সন্দেহ থাকার কথা না ২০১০ সালের চ্যাম্পিয়নদের যোগ্যতা নিয়ে। রাউন্ড থার্টি-টুতে তাদের প্রতিপক্ষ অস্ট্রিয়া হলেও কিছুটা সংশয় ছিল পারবে কি না। আর্জেন্টিনা গ্রুপ পর্বে অস্ট্রিয়াকে ২-০ গোলে হারিয়ে ছিল। নকআউট পর্বে স্পেন জিতেছে ৩-০ গোলে। ব্যবধানটা খুব বড় নয়, স্প্যানিশরা পুরো ম্যাচে যে নৈপুণ্য প্রদর্শন করেছেন তাতে আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে তারা বিশ্বকাপ জেতার কতটুকু সামর্থ্য রাখে। প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে স্পেনের প্রতিপক্ষ রোনালদোর পর্তুগাল। যথেষ্ট শক্তিশালী দল। কিন্তু লামিন ইয়ামালকে যারা অস্ট্রিয়া ম্যাচে দেখেছেন টের পেয়েছেন এ ইয়ং স্টার কতটা ভয়ংকর। আক্রমণ চালানোর মেশিন মনে হয়েছে। এখন পর্যন্ত পর্তুগালের রক্ষণভাগে যে নড়বড়ে অবস্থা দেখছি, তাতে ইয়ামালকে কীভাবে সামাল দেবে সেটাই ভাবছি। মিকেল ওইয়ার জাবান জোড়া গোলে বুঝিয়েছেন তার সামর্থ্য। আলেক্স বায়েনাররা সেরাটা দিতে পারলে সামনে স্পেন আরও অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠতে পারে। তারপরও খেলাটা তো ফুটবল। এখানে অনেক সময় ধারণার বাইরেও হারজিত হয়। তাই কাউকে এখনো চূড়ান্ত করে কিছু বলার সময় আসেনি।