বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত যে কয়টি অঘটনের জন্ম হয়েছে, তার অন্যতম জার্মানির বিদায়। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে ‘রাউন্ড অব থার্টি-টু’ ম্যাচে টাইব্রেকারে বিদায় করে লাতিন আমেরিকার দল প্যারাগুয়ে। কাল রাত ৩টায় দেশটি মুখোমুখি হবে ১৯৯৮ ও ২০১৮ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সের। চলতি বিশ্বকাপে সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা ফুটবল খেলছে কম্পিউটার সিস্টেমিক ফুটবল। সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের মূল চালিকা শক্তি কিলিয়ান এমবাপ্পে। গতির সঙ্গে স্কিলের অপূর্ব মিশেলে প্রতিপক্ষ দলগুলোকে দুমড়েমুচড়ে দিচ্ছেন এমবাপ্পে। আসরের চার ম্যাচে এখন পর্যন্ত গোল করেছেন ছয়টি। একটি ম্যাচে শুধু গোল করেননি। বাকি সবই করেছেন জোড়া গোল। ‘রাউন্ড অব থার্টি-টু’-তে সুইডেনকে ধসিয়ে দিয়েছেন গতিতে। গোল করেছেন জোড়া। বিশ্বকাপে তিনি এখন পর্যন্ত গোল করেছেন ছয়টি এবং সহায়তা করেছেন দুটি। রেসে রয়েছেন গোল্ডেন বুটের সঙ্গে গোল্ডেন বলের। তার দুই সঙ্গী ওসমান দেম্বেলে ও মাইকেল অলিসেও রয়েছেন তুখোড় ফর্মে। দেম্বেলে হ্যাটট্রিক করেছেন নরওয়ের বিপক্ষে। তার গোলসংখ্যা চারটি। অলিসে গোল করেননি একটিও। সহায়তা করেছেন পাঁচটি। বিশেষ করে সুইডেন ম্যাচে এমবাপ্পে, বার্কোলা, দেম্বেলেদের ম্লান করেছেন পারফরম্যান্সে। এই চার ফুটবলারের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে ফ্রান্স চার ম্যাচে গোল করেছেন ১৩টি। খেয়েছে দুটি। ম্যাচটি ফিলাডেলফেয়ায়। প্রচ- গরমে খেলা হবে বলে চাপে থাকবে দুই দল। প্যারাগুয়ে গ্রুপ পর্বে প্রথম ম্যাচে ৪-১ গোলে বিধ্বস্ত হয় স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে। তুরস্ককে ১-০ গোলে হারানোর পর অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করে নকআউটে জায়গা নেয়। নকআউটে জার্মানির সঙ্গে নির্ধারিত সময় ১-১ গোলে ড্র ম্যাচ টাইব্রেকারে জয় পায় ৪-৩-এ। প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে নিশ্চিত করেই ফেবারিট দিদিয়ের দেশমের ফ্রান্স। তবে ২০১০ সালের পর প্রথমবার নকআউটে খেলতে নেমে নিজেদের স্বপ্নটা আরও উঁচুতে নিতে চায় লাতিন আমেরিকার দলটি। যদিও ফ্রান্সের বিপক্ষে দলটির অতীত ফলাফল সুখকর নয়। দুবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে প্যারাগুয়ে খেলেছে পাঁচ ম্যাচ। তিনটি হেরেছে এবং ড্র করেছে দুটি। একটি ছিল বিশ্বকাপে। ১৯৯৮ সালে যেবার ফ্রান্স বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল, সেবার সেরা ১৬-তে লরেন্ট ব্লার একমাত্র গোলে প্যারাগুয়েকে হারিয়েছিল। সুপার কম্পিউটার জানাচ্ছে, ফ্রান্সের জয়ের সম্ভাবনা ৮১.৭ শতাংশ।