দুই কিংবদন্তি ফুটবলার পর্তুগালের ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ও ক্রোয়েশিয়ার লুকা মডরিচ। দুজন আবার ঘনিষ্ঠ বন্ধু। দুই কিংবদন্তি বন্ধুর চিরকাল মনে থাকবে টরেন্টোর গতকালের আলো ঝলমলে রাতটি। বিশ্বকাপে পরস্পরের বিপক্ষে শেষবারের মতো মুখোমুখি হয়েছিলেন চল্লিশ ঊর্ধ্ব দুই ফুটবলার। বিশ্বকাপ ফুটবল ইতিহাসে যা প্রথম। বিশ্বকাপের ‘রাউন্ড অব থার্টি-টু’ ম্যাচে রোনালদোর পর্তুগাল ২-১ গোলে মডরিচের ক্রোয়েশিয়াকে হারিয়ে প্রি-কোয়ার্টার ফাইনাল খেলবে। কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা নিতে সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেনের বিপক্ষে খেলবে রোনালদো বাহিনী। রিয়াল মাদ্রিদের এক সময়কার সতীর্থ বন্ধুকে বিদায় করে তাকে জড়িয়ে চোখের জল ফেলেছেন পাঁচবারের বিশ্বসেরা ফুটবলার সিআর সেভেন। আবার একই সঙ্গে কেঁদেছেন জোতার মৃত্যুশোকেও। গত দুই বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল ও ফাইনাল খেলা ক্রোয়েশিয়াকে হারানোর ম্যাচে পেনাল্টিতে গোল করেছেন রোনালদো। বিশ্বকাপ ফুটবল ইতিহাসের নকআউটে সবচেয়ে বেশি বয়সে গোল করার রেকর্ড এটি। গোলটি করেন ৪১ বছর ১৪৭ দিনে। বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ৪২ বছর ৩৯ দিনে গোল করেছেন ক্যামেরুনের রজার মিলা। বন্ধু মডরিচ, স্বদেশি জোতা এবং সবচেয়ে বেশি বয়সে গোল করার রেকর্ড গড়ার রাতটি সেজন্যই আজীবন মনে রাখবেন ৪২ ছুঁই ছুঁই রোনালদো। রেকর্ড গড়া রাত পার করে বিশ্বকাপের স্বপ্নও টিকে থাকল পর্তুগালের সঙ্গে সিআর সেভেনের। ভিআরে গোল বাতিল হওয়ায় বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছে ২০১৮ সালের ফাইনালিস্ট ও ২০২২-এর সেমিফাইনালিস্ট ক্রোয়েশিয়া। না হলে হয়তো টিকে থাকত ক্রোটরা। রোনালদোর বদলে টিকে থাকত মডরিচের বিশ্বকাপের স্বপ্ন। কিন্তু স্বপ্নটা টিকে থাকেনি। ক্রোয়েশিয়ার তারকা ফুটবলার মডরিচ ক্যারিয়ারে ২০০৬, ২০১৪, ২০১৮, ২০২২ ও ২০২৬ সালের পাঁচটি বিশ্বকাপে ২৩ ম্যাচে গোল করেছেন মাত্র দুটি। পর্তুগালের হয়ে উইনার্স কাপজয়ী রোনালদো ২০০৬ সাল থেকে টানা ছয় বিশ্বকাপ খেলছেন। ছয় বিশ্বকাপেই গোল করে নিজেকে অনন্য উচ্চতায় ঠাঁই দিয়েছেন। ২০২৫ সালের জুনে উইনার্স কাপ জেতা পর্তুগালের সদস্য ছিলেন জোতা। ক্রোয়েশিয়াকে হারানোর দিনটি ছিল জোতার প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী। ২০২৫ সালের ৩ জুলাই স্পেনে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় ভাই আন্দ্রে সিলভাসহ প্রাণ হারান জোতা। মারা যাওয়ার মাত্র ১১ দিন আগে তিনি বিয়ে করেছিলেন দীর্ঘদিনের সঙ্গী রুতে কারদোসোকে। সেজন্যই দিনটি পর্তুগিজ ফুটবল ইতিহাসে গভীর বেদনার দিন। গতকালের জয়ের পর সেই কথা পুনরায় ফিরে এসেছে পর্তুগিজ ফুটবলার ও সমর্থকদের মনে। ম্যাচ জেতার পর সিআর সেভেন ফক্স স্পোর্টসকে বলেন, ‘ম্যাচের আগেই আমরা জানতাম আজকের দিনটা আমাদের জন্য খুবই বিশেষ। ম্যাচটি আমাকে খুবই আবেগপ্রবণ করে তুলেছে। শুধু ম্যাচ জেতার জন্য নয়, আমরা যেভাবে জিতেছি, সেটাও আমাদের কাছে অনেক বড় ব্যাপার।’ পর্তুগালের স্পোর্টস টিভিকে রোনালদো বলেন, ‘আমরা জানি, ও (জোতা) এখনো আমাদের সঙ্গেই আছে। তাই আজকের এই জয়টাই ছিল ওকে সম্মান জানানোর সবচেয়ে সুন্দর উপায়।’ ৯০ মিনিটের নির্ধারিত ম্যাচটি শেষ হয়েছে টানটান উত্তেজনায়। রোনালদো গোল করেন ৬৮ মিনিটে পেনাল্টিতে। রেনাটো ভেইগাকে ফাউল করেন নিকোলা ভøাসিক। রেফারি পেনাল্টির নির্দেশ দেন এবং রোনালদো সমতা আনে। অবশ্য তার আগে ক্রোয়েশিয়াকে ৫৩ মিনিটে এগিয়ে নেন ইভান পেরিসিক। এরপর খেলা গড়ায় নির্ধারিত সময়ের সঙ্গে যোগ করা সময়ে। ৯৪ মিনিটে গোল করেন গনসালো রামোস (২-১)। ১০৩ মিনিটে সমতা আনেন জোসকো ভার্ডিলেট। কিন্তু ভিআরে সেটা বাতিল হয়। ম্যাচটি ছিল বিশ্বকাপে রোনালদোর ২৬তম ম্যাচ। তার চেয়ে এগিয়ে ২৭ ম্যাচ নিয়ে জার্মানির কিংবদন্তি লোথার ম্যাথিউস। লিওনেল মেসি খেলেছেন ৩০ ম্যাচ।