মহাবিশ্বের বয়স যখন মাত্র ৪৫ কোটি বছর-পুরো মহাকাশ তখন এক আদিম অন্ধকারে আচ্ছন্ন। সেই অন্ধকারের বুক চিরে প্রথম যে নক্ষত্রগুলো জ্বলে উঠেছিল, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর হয়তো তাদেরই রাসায়নিক পদচিহ্নের দেখা পেলেন বিজ্ঞানীরা। জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপের পাঠানো তথ্যে মহাকাশের অতল গহ্বরে এক উজ্জ্বল গ্যাসের স্তূপ শনাক্ত হয়েছে, যা বদলে দিতে পারে মহাবিশ্বের জন্ম-ইতিহাসের ধারণা।
২০২৪ সালে শনাক্ত হওয়া এ রহস্যময় গ্যাসের স্তূপটির নাম দেওয়া হয়েছে গ্রিক দেবী ‘হেবে’-এর নামানুসারে। ২০২৫ সালে জেমস ওয়েব টেলিস্কোপের শক্তিশালী সেন্সর দিয়ে পর্যবেক্ষণের পর বিজ্ঞানীরা বিস্ময়ে লক্ষ করেন, স্তূপটি হাইড্রোজেন ও হিলিয়ামের বাইরে আর কোনো ভারী মৌলের অস্তিত্ব নেই। জ্যোতির্বিজ্ঞানের ভাষায় এদের বলা হয় ‘পপুলেশন থ্রি স্টার’ (Population III Stars)। বিগ ব্যাং-এর পর তৈরি হওয়া শুধুমাত্র হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম দিয়ে গঠিত এ নক্ষত্রগুলো ছিল আজকের নক্ষত্রদের চেয়ে বহুগুণ বড় এবং উজ্জ্বল। কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যোতির্বিজ্ঞানী রবার্তো মাইওলিনো উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, ‘এটি প্রথম প্রজন্মের তারার একটি আদর্শ উদাহরণ। অন্য কোনো ব্যাখ্যা সত্যিই এর চেয়ে বেশি সন্তোষজনক নয়।’
বিজ্ঞানীরা ধারণা করেছিলেন, প্রথম প্রজন্মের তারাগুলো বিগ ব্যাং-এর প্রায় ১০০ কোটি বছর পরে তৈরি হয়েছিল। কিন্তু ‘হেবে’-এর অবস্থান সেই সময়সীমাকে অনেকটা পিছিয়ে নিয়ে এসেছে। ১,২০০ আলোকবর্ষজুড়ে বিস্তৃত এ গ্যাসের মেঘটিতে দুটি আলাদা তারার গুচ্ছ রয়েছে, যার সম্মিলিত ভর সূর্যের চেয়ে কয়েক লাখ গুণ বেশি। ধারণা করা হয়, এতে কয়েক শ নক্ষত্র থাকতে পারে।