মহানগরের অবকাঠামো উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা নিরসন, স্মার্ট সিটি গঠন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিবহনব্যবস্থার আধুনিকায়নে ১২টি প্রকল্প হাতে নিয়েছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)। এসব প্রকল্প চসিকের পাইপলাইনে রয়েছে এবং কয়েকটির উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) প্রণয়নের কাজ চলছে। প্রস্তাবিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় হলো চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনের লক্ষ্যে খাল খনন প্রকল্প। এগুলো বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রাম একটি আধুনিক, টেকসই, যানজটমুক্ত ও পরিবেশবান্ধব স্মার্ট নগরে রূপান্তরিত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন জানান, প্রকল্পগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে যানজট ও জলাবদ্ধতা নিরসনে। এর মধ্যে ২ হাজার ২০০ কোটি, ৩ হাজার ৫০০ কোটি ও ২ হাজার ৮০০ কোটি টাকার তিনটি বড় প্রকল্প রয়েছে, যা নগরের প্রধান সমস্যাগুলো সমাধানে ধন্বন্তরি হিসেবে কাজ করবে। এ ছাড়া সড়ক সম্প্রসারণ, ফুটপাত আধুনিকায়ন এবং ডিজিটাল ট্রাফিক-ব্যবস্থা গড়ে তুলতে ৪০০ কোটি, ৪৫০ কোটি ও ১ হাজার কোটি টাকার পৃথক প্রকল্প রয়েছে। পরিবেশ সুরক্ষায় ৩০০ কোটি ও ২০৩ কোটি টাকার প্রকল্পগুলোর মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব ও পরিচ্ছন্ন চট্টগ্রাম গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন মেয়র।
চসিকের তথ্যানুযায়ী, বন্দরনগরের যোগাযোগব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনে চসিকের আওতায় প্রাথমিক সড়কসমূহের উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে, যার আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ২০০ কোটি টাকা। পাশাপাশি নগরের দীর্ঘদিনের অন্যতম প্রধান সমস্যা জলাবদ্ধতা দূরীকরণে নেওয়া হয়েছে দুটি বিশাল প্রকল্প। এর মধ্যে চট্টগ্রামের ২১টি প্রধান খালসহ অন্যান্য খাল খনন প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। অন্যদিকে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) কর্তৃক বাস্তবায়িত ৩৬টি খালের রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালন প্রকল্পের পেছনে ব্যয় হচ্ছে আরও ২ হাজার ৮০০ কোটি টাকা। নগরকে একটি নিরাপদ ও আধুনিক প্রযুক্তিগত কাঠামোর আওতায় আনতে ৪০০ কোটি টাকা ব্যয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) সিসিটিভি সার্ভেল্যান্স সিস্টেম এবং সৌর ও সাধারণ শক্তির সমন্বয়ে ‘স্মার্ট লাইটিং’ প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। এ ছাড়া নগরের ট্রাফিক-ব্যবস্থার আধুনিকায়নে ৪৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘স্মার্ট ট্রাফিক সিস্টেম’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরিবেশ উন্নয়ন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বিশেষ জোর দিয়ে কোরিয়ান সরকারের অর্থায়নে একটি আধুনিক ল্যান্ডফিল নির্মাণ প্রকল্প প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। পাশাপাশি বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আধুনিক যান ও যন্ত্রপাতি সংগ্রহের জন্য আরও ২৯৮ কোটি টাকার একটি প্রকল্প চলমান রয়েছে। নগরবাসীকে স্বস্তি দিতে এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় চসিকের উন্মুক্ত স্থানসমূহের আধুনিকায়ন, উন্নয়ন ও সবুজায়ন প্রকল্প নেওয়া হয়েছে, যার বাজেট ৪৫০ কোটি টাকা। যোগাযোগব্যবস্থার অন্যান্য প্রকল্পের মধ্যে লেভেল ক্রসিংয়ের ওপর ওভারপাস নির্মাণে ১ হাজার কোটি এবং দেওয়ানহাট সেতু নির্মাণে ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এ ছাড়া অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি ‘কিচেন মার্কেট কাম বাণিজ্যিক ভবন’ নির্মাণ করছে করপোরেশন। চসিকের নিজস্ব প্রশাসনিক সক্ষমতা বাড়াতে ২০৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে একটি আধুনিক ‘নগর ভবন’। বর্তমানে সংস্থাটির নিজস্ব অর্থায়নে প্রাথমিক পর্যায়ে ২৭ কোটি টাকার নির্মাণকাজ পুরোদমে চলমান রয়েছে।