৫ অক্টোবর, ২০২১ ২০:৫২
গবেষণা তথ্য

মোবাইল ও গেজেটে আসক্ত ৬৭ শতাংশ শিক্ষার্থী

রেজা মুজাম্মেল, চট্টগ্রাম:

মোবাইল ও গেজেটে আসক্ত ৬৭ শতাংশ শিক্ষার্থী

প্রতীকী ছবি

দেশে স্কুল শিক্ষার্থীদের মধ্যে গত এক বছরে বেড়েছে মোবাইল ও গেজেট আসক্তি। ৬৭ শতাংশ শিক্ষার্থী মোবাইল ও গেজেটে আসক্ত। তাছাড়া মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে কভিড মহামারি শুরুর পর থেকে উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে মাথা ব্যথা, হাত-পা ব্যথা, ঘুমের সমস্যা এবং দৃষ্টিশক্তিতে সমস্যা। ৫২ শতাংশ শিক্ষার্থীই মনে করে তারা মানসিকভাবে বিষন্ন, তাদের প্রায় মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাওয়া কিংবা অল্প সময়েই রেগে যাওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।     

দেশের ২১টি জেলার এক হাজার ৮০৩ জন ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণীর বাংলা মাধ্যম, ইংরেজি মাধ্যম, মাদরাসা ও আদিবাসী/পার্বত্য চট্টগ্রামের শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরচালিত এক গবেষণায় এ তথ্য ওঠে আসে। আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রকাশনা সংস্থা উইলি এর হেলথ সায়েন্স রিপোর্ট জার্নালে গবেষণাটি প্রকাশিত হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি), চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি), চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক), এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন, চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি বিশ্ববিদ্যালয়, ইউএসটিসি ও সাদার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা গবেষণাটি পরিচালনা করেন।    

গবেষণায় মুখ্য তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন ঢাবির জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের শিক্ষক ড. এস এম মাহবুবুর রশিদ ও ইনস্টিটিউট অফ স্ট্যাটিস্টিক্যাল রিসার্চের শিক্ষক নাসরিন লিপি, চমেকের ডায়বেটিস ও হরমোন রোগ বিভাগের প্রধান ডা. ফারহানা আকতার, চবি ভূগোল ও  পরিবেশবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. অলক পাল এবং জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের ড. আদনান মান্নান। সহযোগী গবেষক ছিলেন জান্নাতুল মাওয়া, এমা বনিক, ইয়াসমিন আকতার, আমিনা জাহান, নাভিদ মাহবুব, মফিজুর রহমান শাহেদ এবং জোবায়ের ইবনে দ্বীন।   

গবেষণায় বলা হয়, ৬৭ ভাগ শিক্ষার্থী দিনে ২-৪ ঘণ্টা মোবাইলে সময় কাটাচ্ছে, ৯ শতাংশ শিক্ষার্থী কম্পিউটার স্ক্রিনে ও ৮ শতাংশ ট্যাবে দিনের অধিকাংশ সময় ব্যয় করে। ২০১৮-২০১৯ সালে যেখানে শিক্ষার্থীদের শারীরিক সমস্যাগুলোর মধ্যে ডায়রিয়া, চুলকানি, পেট ব্যথা, জ্বর ও সর্দি সবচেয়ে বেশি প্রকট ছিল, সেখানে গত দেড় বছরে ২০২০-২০১ সালে মাথাব্যথা, দৃষ্টিশক্তি জটিলতা, ঘুমের সমস্যা, বিষণ্ণতা, খিটখিটে মেজাজ এবং জ্বর সবচেয়ে বেশি  পরিলক্ষিত হয়। এর পেছনে ঘরবন্দি হয়ে থাকা ও গেজেটের প্রতি অতিরিক্ত আসক্তির মধ্যে উল্লেখযোগ্য সম্পর্ক পাওয়া গেছে। দেশের ৭০ ভাগ শিক্ষার্থীই শারীরিক কোনো কাজ বা খেলাধুলার অবকাশ পায়নি ২০২০ সালে এবং তাদের ৫০ ভাগ ঘরের বাইরে কোন শারীরিক কর্মকান্ডের সুযোগ একেবারেই পায়নি। মাত্র ২৫ ভাগ শিক্ষার্থী গেজেট ব্যবহার করেছে নিয়মিত অনলাইন ক্লাসের জন্য। ৪০ ভাগ শিক্ষার্থী কার্টুন, নাটক ও চলচ্চিত্র দেখার কাজে, ২৭ ভাগ শিক্ষার্থী সমাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের জন্য এবং ১৭ ভাগ শিক্ষার্থী গেমস খেলার জন্য গেজেট ব্যবহার করেছে। সবচেয়ে বেশি মোবাইল ও গেজেটের ব্যবহার দেখা গেছে ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থীদের মধ্যে এবং সবচেয়ে কম দেখা গেছে মাদ্রাসা ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের মাঝে।    

ড. মাহবুবুর রশিদ বলেন, অতিঅল্প বয়সে গেজেট নির্ভরশীলতা শিশুদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে। এসব সমস্যা যদি দীর্ঘমেয়াদি হয়, তবে দেশের ভবিষ্যত প্রজন্মের একটি বড় অংশের জন্যই তা আশঙ্কার বিষয়।

গবেষক দলের অন্যতম ড. অলোক পাল বলেন, ‘এই সমস্যাগুলো দীর্ঘায়িত হচ্ছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে হবে। শিশুদের গেজেট আসক্তি কমানোর জন্য পারিবারিকভাবে বিভিন্ন উদ্যোগের প্রয়োজন।’   

বিডি প্রতিদিন/এ মজুমদার 

এই রকম আরও টপিক

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ খবর