চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) মার্চ মাস থেকে নগরীর বাসাবাড়ি থেকে বর্জ্য সংগ্রহে বেসরকারিভাবে নিয়োজিত এজেন্টদের কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করেছে। ফলে এপ্রিল থেকে ডোর-টু-ডোর বর্জ্য সংগ্রহে বেসরকারি এজেন্টদের টাকা না দিতে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে। কিন্তু বাস্তবে ঠিকই এজেন্ডরা বাসাবাড়ি থেকে টাকা সংগ্রহ করছে। টাকা না দিলে ময়লা অপসারণ না করার কথা এজেন্টরা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চসিককের কঠোর সমালোচনা করে তুলাধুনা করছেন বাসিন্দারা।
নগরবাসীর অভিযোগ, চসিক এজেন্টদের টাকা দিতে নিষেধ করেছে, ঠিক আছে। কিন্তু বাসা থেকে ময়লা কে সংগ্রহ করবে, সে সিদ্ধান্ত দেয়নি। আগে যারা ময়লা নিত তারাই এখন ময়লা সংগ্রহ করছে। ফলে তারাই টাকা আদায় করছে। টাকা ছাড়া তারা তো ময়লা সংগ্রহ করছে না। এটি তো অপরিকল্পিত সিদ্ধান্ত।
জানা যায়, গত বছর চসিক নগরের ৪১টি ওয়ার্ডে দরপত্রের মাধ্যমে ময়লা সংগ্রহে এজেন্ট নিয়োগ দেয়। প্রতি বাসা থেকে ৫০ থেকে সর্বোচ্চ ৭০ টাকা পর্যন্ত আদায়ের সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু গত মার্চে চসিক মেয়র ঘোষণা দিয়ে এজেন্টদের কার্যক্রম বন্ধ করে দেন। ফলে এপ্রিল থেকে নগরবাসীকে আর টাকা না দেওয়ার নির্দেশ রয়েছে। কিন্তু এপ্রিল মাসেও ঠিকই আগের মতো টাকা আদায় করা হচ্ছে। তারা চসিকের নির্দেশনা মানছেই না। গত ৯ এপ্রিল ‘এজেন্টদের টাকা না দিতে’ চসিক গণবিজ্ঞপ্তি প্রচার করে। কিন্তু কোনো কাজে আসেনি এ বিজ্ঞপ্তি। এজেন্টরা ঠিকই আগের মতো টাকা আদায় করছে। কেউ টাকা আদায় করলে চসিক অভিযোগ দিতে বললেও তা কাজে আসছে না।
এজেন্ডদের অভিযোগ, এখানে আমাদের গাড়ি আছে। কর্মীদের বেতন আছে। ইতোমধ্যে ওয়ার্ডের আয়তন ভেদে ১২ থেকে ১৫ লাখ টাকা বর্জ্য অপসারণ কাজ ব্যবস্থাপনার জন্য খরচও করা হয়েছে। এগুলোর বিষয়ে কোনো সুরাহা না করেই হুট করে আমাদের অপসারণ করলে কীভাবে চলবে।
চসিকের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইফতেখার উদ্দিন আহমদ চৌধুরী বলেন, বর্তমানে চসিকের পরিচ্ছন্ন বিভাগে মোট কর্মী আছেন ৩ হাজার ২৪০ জন। এর মধ্যে স্প্রে ম্যান, মশকনিধন, নালানর্দমা পরিষ্কার, ঝাড়ুদারও আছেন। আলাদাভাবে পরিচ্ছন্নতার কাজে নিয়োজিত আছেন দেড় থেকে দুই হাজার কর্মী। তারা সেকেন্ডারি ট্রান্সফার (এসটিএস) স্টেশন থেকেই হালিশহর ও আতুরার ডিপো ডাম্পিং স্টেশনে ময়লা ফেলে। কিন্তু বাসা থেকে ময়লা সংগ্রহের মতো জনবল এবং যানবাহন চসিকের নেই। তবে নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি। জনবল নিয়োগ, যানবাহন এবং উপকরণ ক্রয়ের প্রক্রিয়াও চলছে। তবে বিষয়টি সময় সাপেক্ষ।
চসিকের পরিচ্ছন্ন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, নগরে দৈনিক প্রায় ৩ হাজার টন বর্জ্য উৎপাদন হয়। এর মধ্যে চসিক প্রায় আড়াই হাজার টন বর্জ্য সংগ্রহ করে নগরের হালিশহর ল্যান্ডফিল এবং আতুরার ডিপো আরেফিন নগরের ল্যান্ডফিলে ফেলা হয়। বাকি বর্জ্য নালানর্দমা, খালবিল, নদী ও উন্মুক্ত স্থানে পড়ে থাকে। কিছু বর্জ্য নানাভাবে চলে যায় কর্ণফুলী নদীতে।