Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০১৫ ০০:০০ টা আপলোড : ১৬ জুলাই, ২০১৫ ০০:০০
বাংলাদেশিরা অনেক বেশি কৌতূহলী, খোলা মনের : রেইনার এবার্ট
বাংলাদেশিরা অনেক বেশি কৌতূহলী, খোলা মনের : রেইনার এবার্ট

এক বরিশাইল্যাকে ভালোবেসে আমি ২০০৯ সালের গ্রীষ্মে প্রথম বাংলাদেশে আসি। পাঁচ সপ্তাহ কাটাই আমি এ দেশে আর পুরোপুরি এখানকার প্রেমে পড়ে যাই। এর পর থেকে বাংলাদেশে মাঝে মাঝেই এসেছি আমি। শেষবার এই বছরের প্রথমে এসেছিলাম। সপ্তমবারের মতো! আগে ততটা দেখা না করেও গত ছয় বছরে এ দেশকে অনেকটা চিনেছি। সিলেটের নেশা ধরানো চা বাগান দেখেছি, সোনার শহর সোনারগাঁ আবিষ্কার করেছি, কুষ্টিয়ার অসাধারণ বাউল গান শুনে অভিভূত হয়েছি, সাভারের স্মৃতিসৌধে খালি পাঁয়ে হেঁটেছি, বরিশালের নদীতে ভ্রমণ করেছি এবং ভারতীয় সীমান্তের কাছের হাওলাঘাটের অসাধারণ গ্রাম্য সৌন্দর্য উপভোগ করেছি। ঢাকাতে থেকেছি আমি, যেটা অনেক বেশি অপরিষ্কার আর নোংরা হয়েও অনেক বেশি ভালোলাগার। যা অল্পতেই টের পাওয়া যায়। ঢাকা রঙিন ও উষ্ণ। প্রতিনিয়ত এটি বদলাচ্ছে। ঢাকা কখনোই ঘুমায় না। আর বাংলাদেশের সবচেয়ে সেরা ব্যাপার হচ্ছে এর মানুষরা। তারা অনেক বেশি কৌতূহলী, খোলা মনের, মারাত্দক আতিথেয়তাপূর্ণ! আমি মনে করতে পারি না বাংলাদেশের এমন কোনো বাসায় গিয়েছি যেখানে আমাকে খাবার আর পানীয় দেওয়া হয়নি। বাংলাদেশের ঈদুল ফিতরে ২০১২ ও ২০১৩ সালে মোট দুবার অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছি আমি। আর এখানকার সঙ্গে আমার দেশ জার্মানির ঈদ উদযাপনের অনেক মিল রয়েছে। মানুষ ভালো খাবার খায়, সেরা জামা পরে। নিজেদের পরিবারকে সময় দেয় তারা আর সব আত্মীয়দের সঙ্গে দেখা করে যাদের হয়তো সারা বছরেও একবারও দেখেনি তারা। উপহার বিনিময় হয়। রাস্তা-ঘাট, বাড়ি সবকিছু সাজিয়ে তোলা হয়। আমি নিরামিষভোজী হওয়ায় গরুর মাংস খাবারটা খেতে পারি না ঈদে। তবে ইফতার খুব উপভোগ করি আমি। আমার স্ত্রী একবার দুধ দিয়ে সেমাই বানিয়েছিল। সেটাও খুব ভালো হয়েছিল খেতে। আশা করছি, এ বছরও সেমাই রান্না করে খাওয়াবে সে আমাকে। সবাইকে ঈদ মোবারক!

পেশা : অফিশিয়াল ফেলো, অক্সফোর্ড সেন্টার ফর এনিমেল এথিকস, দেশ : জার্মানি

 

এই পাতার আরো খবর
up-arrow