Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শুক্রবার, ২৪ নভেম্বর, ২০১৭

ঢাকা, শুক্রবার, ২৪ নভেম্বর, ২০১৭
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৪ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১৩ জুন, ২০১৬ ২৩:৩১
নতুন ছবির দুয়ার খুলল
ঢাকা-কলকাতা চলচ্চিত্র আমদানি-রপ্তানি
আলাউদ্দিন মাজিদ

ঢাকা ও কলকাতার মধ্যে নতুন করে আদান-প্রদান হচ্ছে ৮টি ছবি। কলকাতায় যাচ্ছে ঢাকার ছবি ‘রাজা-৪২০’, ‘হিটম্যান’, ‘মাই নেম ইজ সুলতান’ ও ‘বুক ফাটেতো মুখ ফোটেনা’।

আর ঢাকায় আসছে কলকাতার ‘প্রেমের গোলমাল’, ‘চাঁদের পাহাড়-২’, ‘জুলফিকার’ ও ‘লাভ এক্সপ্রেস’। ঈদে ঢাকায় মুক্তি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে ‘প্রেমের গোলমাল’ ছবিটি।

কলকাতায় ছবি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান ঢাকার আরাধনা ফিল্মসের কর্ণধার কার্তিক দে বলেন, ঈদে ইউএফও সার্ভারের মাধ্যমে মুম্বাই থেকে ঢাকা ও এর আশপাশের ৩০টি প্রেক্ষাগৃহে চালানো হবে কলকাতার ছবি দেব ও অংকুশ অভিনীত ‘প্রেমের গোলমাল’। তিনি বলেন, সার্ভার পদ্ধতিতে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে ছবি প্রদর্শন হতে যাচ্ছে। ১২ আগস্ট মুক্তি পাবে ‘লাভ এক্সপ্রেস’, ১৭ অক্টোবর ‘জুলফিকার’ ও ১৬ ডিসেম্বর ‘চাঁদের পাহাড় -২’। শ্রী ভেঙ্কটেশ ফিল্মসের কর্মকর্তা বিজয় খেমকা, যিনি এই আমদানি-রপ্তানি প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন তার সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হয়। তার কথায়, এবার এই ছবি আদান-প্রদান সফল এবং দুই বাংলার চলচ্চিত্র জগৎ লাভবান হবে। তিনি বলেন, এতদিন দায়সারা গোছের আমদানি-রপ্তানি করা হয়েছিল বলে তা মুখ থুবড়ে পড়েছে। বাংলাদেশের ছবি ভারতে মুক্তিতে কোনো বাধা নেই।

চলচ্চিত্র নির্মাণ ও মুক্তির ক্ষেত্রে দুই বাংলা এক হলে এ ক্ষেত্রে দুই দেশেরই ভাগ্য ফিরবে। তার কথায়, দুই বাংলা ভাগ হয়ে যাওয়াতে ভাগ্য পুড়েছে বাংলা ছবির। সিনেমা হল কমে গেছে। বর্তমানে নির্মাণ ব্যয় বেড়েছে। তাই আবার এক হয়ে কাজ করতে হবে। বিজয় খেমকা বলেন, সময় পাল্টেছে। সবাইকে মন উদার করে সময়ের পথে হাঁটতে হবে। তিনি বলেন, আমি চাই দুই বাংলার ছবি একসঙ্গে দুই দেশে মুক্তি পাক। পাশাপাশি যৌথ প্রযোজনার নির্মাণ বৃদ্ধি পাক। তাই আগে মন পরিষ্কার করতে হবে। তারপর বন্ধুত্ব ও ব্যবসা।

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির সিনিয়র সহসভাপতি সুদীপ্ত কুমার দাশ বলেন, বিজয় খেমকার এমন অতিভক্তি চোরের লক্ষণ ছাড়া আর কিছুই নয়। কারণ তিনি ও ভেঙ্কটেশ ফিল্মসের কর্ণধার শ্রীকান্ত মেহেতা কলকাতায় পাঠানো আমাদের ৮টি ছবি আটকে দিয়েছিল। একটি ছাড়া কোনো ছবিই এখনো সেখানে প্রদর্শন করা যায়নি। অথচ তাদের সব ছবি এখানে প্রদর্শিত হয়েছে। তিনি জানান, আমাদের ছবিগুলো কলকাতা সেন্সর বোর্ডে জমা দেওয়া হলে বোর্ড জানায় ইস্টার্ন ইন্ডিয়ান মোশান পিকচার্স অ্যাসোসিয়েশন অর্থাৎ ইমপার অনুমতি লাগবে। ইমপাতে ছবিগুলো জমা দিলে প্রতিষ্ঠানটির প্রেসিডেন্ট ভেঙ্কটেশ ফিল্মসের কর্ণধার শ্রীকান্ত মেহেতা ইচ্ছাকৃতভাবে অনুমতি দিতে দেরি করেন। ওই কমিটিতে বিজয় খেমকার ভাইও ছিলেন। এতে ক্ষতির মুখে পড়ি আমরা। তিনি বলেন, তারা এখন এ দেশে তাদের ছবির বাজার তৈরির ফন্দি আঁটছেন। কারণ কলকাতায় এখন তাদের ছবি চলে না। এই দুই ব্যক্তি মে মাসে প্রদর্শক সমিতির কাছে এসেছিলেন ঈদে এখানে তাদের ছবি মুক্তি দিতে। আমাদের আপত্তির মুখে ব্যর্থ হয়ে এখন নানাজনকে ধরে এ দেশের বাজারে ঢুকতে চাইছেন। এটি হবে আমাদের চলচ্চিত্র ব্যবসার জন্য হুমকিস্বরূপ। কারণ তারা নতুন ছবি এখানে মুক্তি দিচ্ছে। বিপরীতে নিচ্ছে পুরনো ছবি। তাও আবার তামিল ছবির নকল। স্বাভাবিকভাবেই এগুলো সেখানে চলবে না। মুক্তি নিয়েও সন্দেহ আছে। তাদের উদ্দেশ্য বিনিময় বা আমাদের ছবি সেখানে চালানো নয়। বরং এখানে তাদের ছবির একচেটিয়া বাজার তৈরি করা। আমি সাফ জানিয়ে দিতে চাই, আমরা ছবি আনব আমাদের ছবির ঘাটতি পূরণ করে সিনেমা হল টিকিয়ে রাখার জন্য এবং নিজেরাই আমদানি-রপ্তানি করব। কলকাতার কোনো ব্যবসায়ীর দ্বারা একতরফাভাবে এই বিনিময় হবে না। আশা করছি বিষয়টি নিয়ে চলচ্চিত্রকাররা সোচ্চার হবেন।

এদিকে বিষয়টি চলচ্চিত্র মহলকে ভাবিয়ে তুলেছে। চলচ্চিত্রকাররা বলছেন, এভাবে নতুন আর পুরনো ছবির মধ্যে আদান-প্রদান হয় না। আমাদের পুরনো ছবি সেখানে আগেও চলেনি এখনো চলবে না। এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য একটিই। তা হলো এ দেশে কলকাতার ছবির বাজার তৈরি করা। কলকাতা যদি সহজেই তাদের ছবি এখানে অবাধ প্রদর্শনের সুযোগ পেয়ে যায় তাহলে দেশীয় নির্মাতারা উৎসাহ হারাবেন। বেকার হয়ে পড়বেন শত শত নির্মাতা-শিল্পী-কলাকুশলী। বন্ধ হয়ে যাবে এ দেশের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ও এফডিসি। যা কোনো দেশপ্রেমিক সচেতন নাগরিকের কাম্য নয়।

up-arrow