শিরোনাম
প্রকাশ : ১০ ডিসেম্বর, ২০১৯ ১৩:০০
আপডেট : ১০ ডিসেম্বর, ২০১৯ ১৬:৪৪

সিলেট ছাত্রদলের হাতে এক হাজার বায়োডাটা

সিলেট ব্যুরো

সিলেট ছাত্রদলের হাতে এক হাজার বায়োডাটা

তিন মাসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের জন্য বেঁধে দেওয়া সময় পার করে এখন তাদের বয়স হয়েছে দেড় বছর। এই সময়ের মধ্যে তারা, জেলা কিংবা মহানগরের আওতাধীন একটি শাখার কমিটিও গঠন করতে পারেনি। ব্যর্থতার দায় কাঁধে নিয়ে চলছে তাদের অজানা গন্তব্য। কবে নাগাদ জোনাল কমিটিগুলো গঠন করে জেলা ও মহানগরের কমিটি পূর্ণাঙ্গতা পাবে তারও নির্দিষ্ট কোন তারিখ বলতে পারছেন না নেতারা। বলা হচ্ছে, বিএনপির ভ্যানগার্ড হিসেবে খ্যাত সিলেট জেলা ও মহানগর ছাত্রদলের কথা।

তবে সিলেট জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আলতাফ হোসেন সুমন বলছেন, বিগত সিটি কর্পোরেশন, জাতীয় নির্বাচন ও ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কাউন্সিল থাকার কারণে কমিটি দিতে দেরি হয়েছে। অতিসত্বর জেলা ও মহানগরের আওতাধীন ছাত্রদলের নতুন কমিটি দেওয়া হবে। এক হাজার নেতাকর্মীর বায়োডাটা হাতে নিয়ে বসে আছেন তারা। ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদ থেকে নতুন গঠনতন্ত্র এলে দেওয়া হবে, সিলেট ছাত্রদলের সব’কটি কমিটি।

সঠিক সময়ে কমিটি গঠন করতে না পারায় দলের নেতাকর্মীদের মাঝে বিরাজ করছে বড় ধরণের হতাশা। বারবার নেতাদের পিছনে ধরনা দিয়ে কমিটি না দেয়ায় জেলা ও মহানগর ছাত্রদলের দায়িত্বশীলদের প্রতি মুখ থুবড়ে পড়েছে অনেকটা। আর বর্তমানে সিলেট জেলা ও মহানগর যুবদলের আহবায়ক কমিটি গঠন হওয়ায় অনেক নেতাকর্মীরা যুবদলের উপর ভরসা রাখতে চাইছেন বলে জানিয়েছেন ছাত্রদল থেকে বাদ পড়া অনেক নেতা।

সিলেট জেলা ও মহানগর ছাত্রদলের আংশিক কমিটি দেয়া হয়েছিল গত বছরের ১৩ জুন। আলতাফ হোসেন সুমনকে সভাপতি ও দেলোয়ার হোসেন দিনারকে সাধারণ সম্পাদক ও আবদুল মোতাক্কাবীর সাকীকে সাংগঠনিক সম্পাদক করে জেলা ছাত্রদলের ২৮ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়। আর মহানগর ছাত্রদলের ২৯ সদস্য বিশিষ্ট কমিটিতে সুদীপ জ্যোতি এষ সভাপতি ও ফজলে রাব্বী আহসানকে সাধারণ সম্পাদক ও রুবেল ইসলামকে সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়েছিলো। এর মাঝে পেরিয়ে গেছে দীর্ঘ ১৮ মাস। ১৮ মাসেও জেলা কিংবা মহানগর ছাত্রদল গঠন করতে পারেনি নতুন কোন কমিটি। আর এতেই নেতাকর্মীদের মাঝে বিরাজ করছে বড় ধরণের ক্ষোভ।

কমিটি গঠনের পর প্রথমে অনেকটা চাঙ্গা ছিলো সিলেট ছাত্রদল। সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন ও বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট ছাত্রদলের কমিটির নেতারা এবং কমিটির বিপক্ষের নেতারা এক হয়ে কাজ করতে দেখা গেছে। এতে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মাঝে বিরাজ করছিল উৎসাহ। নতুন করে কমিটি দিতে সময় ক্ষেপণ হওয়ায় তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মাঝে উৎসাহে অনেকটা ভাটা পড়েছে।

সর্বশেষ ২৭ আগস্ট ছাত্রদলের ৬ষ্ঠ কাউন্সিলকে স্বাগত জানিয়ে জেলা ও মহানগর ছাত্রদল সিলেট শহরে বড় একটি শোডাউন করেছিলো। এর আগে গত বছরের রমযান মাসে বড় ইফতার মাহফিল করে তাদের অবস্থান জানান দিয়েছিল। এতে করে নেতাকর্মীদের চাঙ্গা রেখেছিলো দলটি। কিন্তু দিন যেতে যেতে চলে গেছে দেড়টি বছর। নেতাকর্মীরা নতুন কমিটি না পাওয়ায় অনেকটা হতাশায় দিন কাটাচ্ছে।

গত ৩১ জুলাই জেলা ও মহানগর ছাত্রদলের কার্যনির্বাহী কমিটির এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সিলেট জেলা ছাত্রদলের আওতাধীন সকল উপজেলা, পৌর ও কলেজ শাখা এবং মহানগর আওতাধীন সকল কলেজ ও ওয়ার্ড শাখার গুরুত্বপূর্ণ পদপ্রত্যাশী নেতৃবৃন্দকে ছবিসহ তাদের রাজনৈতিক সংক্ষিপ্ত জীবন বৃত্তান্ত (সিভি)গত ১৫ আগস্টের মধ্যে জেলা ও মহানগরের দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দের কাছে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছিলো। এতে সাড়া দিয়ে বিভিন্ন কমিটিতে আগ্রহী হয়ে হাজার খানেক জীবন বৃত্তান্ত জমা পড়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আলতাফ হোসেন সুমন। এরপরেও কমিটি দিতে দেরী হচ্ছে কেন জানতে চাইলে সুমন বলেন, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদ নতু্ন করে গঠনতন্ত্র তৈরী করছে, এজন্য আটকা পড়েছে নতুন কমিটিগুলো।

জানা গেছে, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদ নতুন করে দলের গঠনতন্ত্র তৈরীর কাজ করছে। এতে জেলা, মহানগর, উপজেলা, পৌর ও কলেজ শাখা কমিটির বয়সের একটি রূপরেখা তৈরী করে দিচ্ছে। কোন কমিটি কত সদস্যের হবে এ নিয়ে চূড়ান্তের কাজ চলছে বলে সূত্র জানিয়েছে। আগামি এক মাসের মধ্যে এই গঠনতন্ত্রের কাজ শেষ হওয়ার কথা।

জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আলাতফ হোসেন সুমন সিলেটভিউকে জানিয়েছেন, নতুন গঠনতন্ত্র আসার পর সিলেট জেলার আওতাধীন উপজেলা, পৌরসভা ও কলেজ মিলিয়ে ৩৪টি কমিটি দেয়া হবে। এতে কোন কালক্ষেপণ করা হবেনা বলে তিনি জানান। এছাড়া মহানগরের আওতাধীন ২৭টি ওয়ার্ড ও ৬টি কলেজ কমিটিও একসাথে দেয়া হবে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ছাত্রদলের পুরাতন কমিটি (সাঈদ-মুন্না, খালেদ-লোকমান)’র দেয়া সকল কমিটির জায়গায় নতুন কমিটি দেয়া হবে। আর এতেই ভেঙ্গে যাবে পুরাতন কমিটিগুলো।

সিলেট ছাত্রদলের বিগত কমিটির কয়েকজন সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও সহসাধারন সম্পাদকরা জানিয়েছেন, ছাত্রদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে সম্মানজনক স্থান পাওয়ার জায়গা এখন নেই। কারণ জেলার ২৮ ও মহানগরের ২৯ সদস্যের কমিটিতে অনেক সিনিয়রকে বাদ দিয়ে অপেক্ষমাণ জুনিয়রদের সহসভাপতি করা হয়েছে। এতে করে বাদ পড়া সিনিয়রদের মর্যাদা সম্পন্ন কোন পদে রাখার মত খালি জায়গা রাখা হয়নি কমিটিতে। সুতরাং তারা এখন আর ছাত্রদল করতে আগ্রহী নয়।

এদিকে সিলেট যুবদলের নতুন কমিটি আসায় অনেক নেতাকর্মীরা যুবদলের রাজনীতি করতে বেশ আগ্রহ দেখাচ্ছেন। যুবদলের কমিটিতে দলের শীর্ষ কয়েকজন নেতা স্থান পাওয়ায় যুবদল করলে রাজনৈতিক মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে এই আশায় অনেক ছাত্রদল নেতারা এখন যুবদলের পিছনে ছুটছেন। তাদের ধারণা, সিলেটে এবার ছাত্রদলের চেয়ে যুবদল হবে শক্তিশালী এই ভেবে যুবদলের রাজনীতি করতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন।

 

বিডি-প্রতিদিন/ সিফাত আব্দুল্লাহ


আপনার মন্তব্য