শিরোনাম
প্রকাশ : ৬ ডিসেম্বর, ২০২০ ১৬:১৫
প্রিন্ট করুন printer

সিলেটে করোনায় আরও দু'জনের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট

সিলেটে করোনায় আরও দু'জনের মৃত্যু
প্রতীকী ছবি

সিলেটে করোনায় মারা গেলেন আরও দুইজন। এদের একজন পুরুষ ও একজন মহিলা। তারা গতকাল শনিবার সিলেট শহীদ ডা. শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

পুরুষের বয়স ৬২ বছর। তিনি মৌলভীবাজার জেলার বাসিন্দা ছিলেন। অপরদিকে, ৪৬ বছর বয়েসী নিহত নারীর বাড়ি সুনামগঞ্জে।

সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য সহকারী পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ) ডা. আনিসুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গতকালের এই দুজনকে নিয়ে বিভাগে মোট মৃত্যুর সংখ্যা ২৪৭। এর মধ্যে সিলেট জেলায় ১৮২, সুনামগঞ্জে ২৬, হবিগঞ্জে ১৬ ও মৌলভীবাজারে ২৩ জন।

এদিকে, সিলেট বিভাগে গতকাল করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন আরও ১০ জন। এর মধ্যে সিলেট জেলায় ৬ ও হবিগঞ্জে ৪ জন।

বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আজ রবিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত সিলেট বিভাগে মোট করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন ১৪৭৯২। এ মধ্যে সিলেট জেলায় ৮৫৭০, সুনামগঞ্জে ২৪৭৫, হবিগঞ্জে ১৯১১ ও মৌলভীবাজার জেলায় ১৮৩৬ জন।

অপরদিকে, সিলেটে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা থেকে সুস্থ হয়ে উঠেছেন ৩৪ জন। তাদের মধ্যে সিলেট জেলার ২১ ও হবিগঞ্জের ১৩।  এই ৩৪ জনকে নিয়ে আজ সকাল ৮টা পর্যন্ত সিলেট বিভাগে করোনা থেকে সুস্থ হয়ে উঠেছেন মোট ১৩৬০৩ জন। এর মধ্যে সিলেটে ৭৮৯৫,  সুনামগঞ্জে ২৪১৬, হবিগঞ্জে ১৫৭৭ ও মৌলভীবাজারে ১৭১৫ জন।

আজ সকাল সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি আছেন ৪৯জন করোনা রোগী। এর মধ্যে সিলেট জেলায় ৪৮ ও হবিগঞ্জে ১জন।

বিডি প্রতিদিন/আরাফাত


আপনার মন্তব্য

পরবর্তী খবর

প্রকাশ : ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ১৪:৩৪
প্রিন্ট করুন printer

সিলেটে দুই বাসের সংঘর্ষ: নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৮

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট

সিলেটে দুই বাসের সংঘর্ষ: নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৮
দুর্ঘটনাকবলিত বাস

সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৮ জনে দাঁড়িয়েছে। শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রহিমা খাতুন নামের আরেক নারী মারা যান। আজ সকাল সাড়ে ৬টার দিকে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের দক্ষিণ সুরমার রশিদপুরের অদূরে ব্রিজের কাছে ভয়াবহ এ দুর্ঘটনা হয়। নিহতের সংখ্যা বাড়ার  খবর নিশ্চিত করেছেন ওসমানী হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ি ইনচার্জ এসআই মো. জয়নাল।

দুর্ঘটনায় নিহতরা হলেন সিলেটের উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের প্রভাষক আল মাহমুদ সাদ ইমরান খান (৩৩),  বাসচালক ওসমানীনগর উপজেলার ধরখা গ্রামের মঞ্জুর আলী (৩৮), বাস সুপারভাইজার সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার মিঠাভরা গ্রামের সালমান খান (২৫), হেলপার ধরখা গ্রামের জাহাঙ্গীর হোসেন (২৪), ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল থানার রাজানিয়াকান্দি পশ্চিম পাড়ার নুরুল আমিন (৫০), ঢাকার ওয়ারী এলাকার নাদিম আহমদবসাগর (২৯) ও সিলেট নগরের আখালিয়া এলাকার শাহ কামাল (২৭) ও ছাতক বাংলাবাজার এলাকার রহিমা খাতুন (২৫)।

এ ঘটনায় আরও ৩০ জন আহত হন। এর মধ্যে ১৫ জন সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি আছেন। তাদের কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

সিলেট মহানগর পুলিশের মিডিয়া শাখা জানায়, হাসপাতালে গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিসাধীনরা হলেন রেজাউল করিম (৫০), শামিম (২৩),  জসিম উদ্দিন (৩০), আলা উদ্দিন (৬০), সায়ান (১৬), সালাম (৪০), ডা. অন্তরা (৩০), চান বিবি (৬০), শারমিন (৩০), সীমা পারভিন (৩০),  সানাত (৩৫), মাহি (০৭), সুর্বনা (৩০) ও সেলিনা পারভীন (৩০)। 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, একটি বাস দ্রুত গতিতে ভুল সাইটে চলে আসার কারণে এ ভয়াবহ দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। সিলেটগামী গাড়িটি ব্রিজ পার হয়েই বিপরীত দিক থেকে আসা গাড়ির ওপর উঠে যায়। তখন প্রচণ্ড গতিতে সংঘর্ষ হয়।

দক্ষিণ সুরমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম জানান, সকালে কুয়াশা তেমন একটা ছিল না। গাড়ির অবস্থান দেখে মনে হচ্ছে দ্রুত গতিতে ওভারটেক করায় এমন দুর্ঘটনা ঘটেছে । অথবা একটির চালক ঘুমিয়েও থাকতে পারেন। বিষয়টি পরে তদন্তে বিস্তারিত জানা যাবে।

বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ

 
 

 

 


আপনার মন্তব্য

পরবর্তী খবর

প্রকাশ : ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ২১:১৪
প্রিন্ট করুন printer

সাংবাদিক মুজাক্কির হত্যার প্রতিবাদে বিশ্বনাথে মানববন্ধন

বিশ্বনাথ (সিলেট) প্রতিনিধি

সাংবাদিক মুজাক্কির হত্যার প্রতিবাদে বিশ্বনাথে মানববন্ধন

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিক বুরহান উদ্দিন মুজাক্কির হত্যার প্রতিবাদে সিলেটের বিশ্বনাথে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এছাড়া সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে কামাল হোসেনকে বর্বর নির্যাতন ও সিলেটে করিম মিয়ার ওপর সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদও জানানো হয়।

উপজেলায় কর্মরত গণমধ্যমকর্মীদের উদ্যোগে বৃস্পতিবার দুপুর ১২টায় বাসিয়া সেতুতে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এসময় গণমাধ্যমকর্মীরা চোখে কালো কাপড় বেঁধে প্রতিবাদ জানান।

এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলার প্রবীণ সাংবাদিক আব্দুল আহাদ (ইউরো বাংলা), কাজী মো. জামাল উদ্দিন (দৈনিক জালালাবাদ), জাহাঙ্গীর আলম খায়ের (দৈনিক সমকাল), প্রনঞ্জয় বৈদ্য অপু (দৈনিক উত্তরপূর্ব), আশিক আলী (দৈনিক যুগান্তর), মোহাম্মদ আলী শিপন (দৈনিক কালেরকন্ঠ), সাইফুল ইসলাম বেগ (দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন), রোহেল উদ্দিন (দৈনিক গণমুক্তি)।

আরও উপস্থিত ছিলেন এমদাদুর রহমান মিলাদ (দৈনিক সিলেটের ডাক), অসিত রঞ্জন দেব (দৈনিক সিলেটের বাণী), নুর উদ্দিন (দৈনিক দিনরাত), নবীন সোহেল (দৈনিক শুভ প্রতিদিন), মো. জামাল মিয়া (দৈনিক ভোরের ডাক), আক্তার আহমদ শাহেদ (দৈনিক মানবজমিন), আব্দুস সালাম (দৈনিক ইনকিলাব), মিছবাদ উদ্দিন (দৈনিক আমার সংবাদ), মশাহিদ আলী (শ্যামল সিলেট), ফটো সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম শফিক ও সংবাদকর্মী আহমদ আলী ইরণ (দৈনিক জনতা) প্রমুখ।

বিডি প্রতিদিন/এমআই


আপনার মন্তব্য

পরবর্তী খবর

প্রকাশ : ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ১৫:৫২
প্রিন্ট করুন printer

সিলেটে দেড় ঘণ্টা পর অবরোধ তুলে নিলেন শিক্ষার্থীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট

সিলেটে দেড় ঘণ্টা পর অবরোধ তুলে নিলেন শিক্ষার্থীরা
সংগৃহীত ছবি

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়াসহ বিভিন্ন দাবি আদায়ের লক্ষ্যে সিলেটে রাস্তায় নেমেছেন শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার দুপুরে নগরীর চৌহাট্টায় অনুষ্ঠিত মানববন্ধন থেকে তারা সরকার ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতি দাবিগুলো জানান। এসময় তারা দেড় ঘণ্টা চৌহাট্টায় সড়ক অবরোধ করে রাখেন। পরে বেলা দেড়টায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপে শিক্ষার্থীরা অবরোধ তুলে নেন।

আজ দুপুর ১২টায় নগরীর চৌহাট্টাস্থ সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। 

মানববন্ধনে সিলেটের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৫ শতাধিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। এসময় বিভিন্ন স্লোগানে স্লোগানে সিলেট নগরীর চৌহাট্টা পয়েন্ট পুরোপুরি বন্ধ করে দেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। খবর পেয়ে বেলা ১টায় সিলেট মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার আজবাহার আলী শেখসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছেন এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে তাদের শান্ত করেন। পরে বেলা দেড়টার সময় শিক্ষার্থীরা অবরোধ তুলে নেন।

কর্মসূচি পালনকালে ৫ শতাধিক শিক্ষার্থী গোল বৃত্তবন্দি হয়ে সড়ক অবরোধ করে রাখেন। এতে চারদিকের রাস্তায়ই তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। শিক্ষার্থীরা দেড় ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে স্লোগানে স্লোগানে তাদের দাবিগুলো জোরালোভাবে তুলে ধরেন।

মানবব্ন্ধন থেকে শিক্ষার্থীরা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে চলমান মাস্টার্সসহ সকল পরীক্ষার স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার এবং স্বাস্থ্যসুরক্ষা মেনে দ্রুত সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ছাত্রাবাস খুলে দেয়ার জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানান।

এদিকে, কর্মসূচি প্রত্যাহারের পর তাদের দাবিসংবলিত একটি স্মারকলিপি জেলা প্রশাসকের কাছে দেবেন জানান শিক্ষার্থীরা।

বিডি প্রতিদিন/আরাফাত


আপনার মন্তব্য

পরবর্তী খবর

প্রকাশ : ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ১৪:৪০
প্রিন্ট করুন printer

মৌলভীবাজার

বিয়েতে রাজি না হওয়ায় কাটা হলো তিন হাজার গাছ

অনলাইন ডেস্ক

বিয়েতে রাজি না হওয়ায় কাটা হলো তিন হাজার গাছ
সংগৃহীত ছবি

বিয়েতে রাজি না হওয়ায় মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে এক কিষাণীর প্রায় তিন হাজার সবজি গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। সবজির ভরা মৌসুমে ফলসহ গাছগুলো কেটে ফেলায় নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন আশিদ্রোন ইউনিয়নের পাড়ের টং গ্রামের কিষাণী জাহেরা খাতুন। রাতের আঁধারে তার চাষ করা ৩ একর জমির গাছগুলো কেটে এবং উপড়ে ফেলা হয়েছে।

বুধবার দুপুরে সরেজমিনে উপজেলার আশিদ্রোন ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের পাড়ের টং গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় তিন হাজার করলা, শশা, চালকুমড়া, চিচিঙ্গাসহ বিভিন্ন সবজি গাছ মাটিতে পড়ে রয়েছে। সব গাছের গোড়া কেটে এবং উপড়ে ফেলে মাটিতে রাখা হয়েছে। গাছগুলোতে ফল ও ফুল দুটোই রয়েছে। এতে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন কৃষানি জাহেরা খাতুন।

সবজি চাষি জাহেরা খাতুন বলেন, ঋণ নিয়ে তিন একর জমিতে সবজি চাষ শুরু করেছিলাম। প্রায় তিন হাজার করলা, শশা, চালকুমড়া, চিচিঙ্গাসহ বিভিন্ন সবজি গাছ লাগিয়েছিলাম ক্ষেতে। ভরা ফলের সময়ে রাতের আঁধারে আমার ক্ষেতের ফসল কেটে ফেলল। আমি পরিবার নিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছি।

তিনি বলেন, বানিয়াচং উপজেলার গুনই গ্রামের আনোয়ার আলী, পাড়ের টংয়ের ইনচার আলী ও কাদির মিয়া মঙ্গলবার রাতে তার সবজি ক্ষেত নষ্ট করেছে। সবজি গাছগুলো কেটে ফেলায় তার প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এ ব্যাপারে বুধবার শ্রীমঙ্গল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন তিনি।

৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য বিল্লাল হোসেন ও ৭, ৮, ৯ নম্বর সংরক্ষিত ওয়ার্ডের নারী সদস্য শিল্পী পাল বলেন, আনোয়ার মিয়ার স্ত্রী মারা যাওয়ায় জাহেরা খাতুনকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। জাহেরা খাতুন এই প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় আনোয়ার মিয়া ক্ষুব্ধ হয়ে এ কাজ করেছেন।

আনোয়ার মিয়ার সঙ্গে কথা বলতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তিনি পলাতক থাকায় তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। তার মোবাইল ফোন বন্ধ রয়েছে।

সূত্র: সমকাল


বিডি প্রতিদিন/ফারজানা


আপনার মন্তব্য

পরবর্তী খবর

প্রকাশ : ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০৮:৪৯
আপডেট : ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ১২:০৪
প্রিন্ট করুন printer

শ্রীমঙ্গলে সরকারি গুদামে জমা পড়েনি একমুঠো ধান!

দীপংকর ভট্টাচার্য লিটন, শ্রীমঙ্গল

শ্রীমঙ্গলে সরকারি  গুদামে জমা
পড়েনি একমুঠো ধান!

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে আমন সংগ্রহ অভিযানে একমুঠো ধানও জমা পড়েনি সরকারি গুদামে। এ উপজেলায় আমন ধান সংগ্রহের লক্ষ্য মাত্রা ছিল ৪৪২ মেট্রিক টন। আর সরকারি দাম ছিল ১ হাজার ৪০ টাকা মণ। প্রথম তালিকাভুক্ত কৃষকদের নিকট থেকে এই ধান সংগ্রহের সময় শেষ হয় গত ২৫ জানুয়ারি। আর এই সময়ের মধ্য লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হলে গত ২৬ জানুয়ারি থেকে ২য় তালিকার কৃষকদের নিকট থেকে ধান সংগ্রহের নিদের্শনা দেয়া ছিল খাদ্য মন্ত্রণালয়ের। চলবে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।  কিন্তু এখনো ফাঁকা রয়েছে সরকারি গুদাম।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, সরকারি দামের চেয়ে আড়তে ধানের দাম বেশি।  তাছাড়া রয়েছে গোডাউনে ধানের আদ্রতা পরিমাপ, চিটা পরিষ্কার, লোড-আনলোড ও পরিবহন খরচ। এসব ঝামেলার কারণেই কৃষকরা গোডাউনমুখী না হয়ে আডতে ধান বিক্রি করছেন। 

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সরকারি গুদামে ধান জমা না হওয়া মানে দেশের খাদ্য নিরাপত্তার জন্য হুমকি। আর বাজার সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে এর প্রভাব পড়বে দেশের মানুষের উপর। 
  
গত বছরের ৩০ অক্টোবর মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সংগ্রহ শাখা থেকে জারিকৃত এক পরিপত্রে ২০২০ সালের বোরো ধান সংগ্রহের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ২০২০-২১ আমন মৌসুমের শুরুতে উৎপাদক কৃষকদের মধ্য থেকে লটারি করে দুইটি কৃষক নির্বাচন তালিকা করার জন্য বলা হয়েছিল। স্থানীয় কৃষি অফিস জানায়, আমন উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬৫ হাজার ৯৬১ মেট্রিক টন। আর উৎপাদন হয়েছিল ৭২ হাজার ২৭৬ মেট্রিক টন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নিলুফার ইয়াসমিন মোনালিসা সুইটি বলেন, ‘মাঠ পর্যায় থেকে আমাদের কাছে কৃষকের তালিকা এসেছিল। কিন্তু দাম কম থাকায় কৃষকরা গোডাউনে ধান বিক্রিতে সম্মতি দেয়নি, তাই আর লটারি করা হয়নি। তিনি বলেন, সরকারিভাবে ধানের দাম আরও বৃদ্ধি করা হলে গোডাউনে ধান দিতে কৃষকরা উৎসাহিত হবে।’

দক্ষিণ উত্তরসুর গ্রামের কৃষক কাজী আ. হক জানান, মোটা-চিকন সব ধানেরই  সরকারিভাবে এক মূল্য। আর আড়তে জাত হিসেবে দাম ভালো পাওয়া যায়। 

নওয়াগাঁত্ত গ্রামের কৃষক বকুল মিয়া বলেন, শুধু দাম নয়, ‘সরকারি গোডাউনে ধান নিয়ে গেলে নানান ঝামেলায় পড়তে হয়। তাদের উৎকোচ না দিলে ধানে আদ্রতা কম বা চিটা পরিমাণ বেশি; একটা না একটা অজুহাত তারা বের করবেই। লোড-আনলোডেও শ্রমিকদের টাকা দিতে হয়। এই সব খরচ মিটিয়ে এক মণ ধানের দাম পড়ে ৯০০ টাকা।’

পশ্চিম শ্রীমঙ্গলে কাঞ্চন দাশ বলেন,‘আড়তে ধান বিক্রি করতে কৃষকদের কোন খরচ নেই। তারা কৃষকের বাড়ি থেকেই ধান সংগ্রহ করে নিয়ে আসে। 

উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা তকবির হোসেন বলেন, ‘বাইরে দাম বেশি থাকায় কৃষকরা আমাদেরকে ধান দেয় নাই।’

উপজেলা খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনোয়ার হোসেন বলেন, কৃষকরা আমন ধান দিতে আসে নাই। কৃষকদের অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, সরকারের নিয়ম মেনেই আমাদের ধান নিতে হয়।’

আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্র হাটহাজারি ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. জামাল উদ্দিন বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘কৃষকদের গোডাউনমুখী করতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখতে হবে সংশ্লিষ্ট বিভাগকে। সংগ্রহ অভিযানের সময় মাঠপর্যায়ে ব্যাপক হারে ফলাও করে প্রচার প্রচারণা করতে হবে। প্রয়োজনে এই সময়ে দৈনিক ভিত্তিতে লোক নিয়োগ দিয়ে হলেও কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করে খাদ্য সংগ্রহ করতে হবে। কারণ সরকারের হাতে পর্যাপ্ত মজুদ না থাকলে আড়তদাররা সিন্ডিকেট করে সরকারকে বেকায়দায় ফেলে দিতে পারে।’ 

বিডি প্রতিদিন/ফারজানা


আপনার মন্তব্য

পরবর্তী খবর