শিরোনাম
প্রকাশ : ১৬ জানুয়ারি, ২০২১ ২২:১৭
প্রিন্ট করুন printer

বিশ্বনাথে গ্রামীণ ঐতিহ্যের ‘পলো বাওয়া’ উৎসব

বিশ্বনাথ (সিলেট) প্রতিনিধি

বিশ্বনাথে গ্রামীণ ঐতিহ্যের ‘পলো বাওয়া’ উৎসব

সময়ের পরিবর্তনে আবহমান বাংলার অনেক ঐতিহ্যের এখন আর দেখা মিলে না। আধুনিকতার এই যুগে হারিয়ে গেছে গ্রামীণ সংস্কৃতির অনেক কিছুই। শুকনো মৌসুমে ঐতিহ্যের ‘পলো বাওয়া’ উৎসবও এখন বিরল।

তবুও শিকড়ের সংস্কৃতি আর ঐতিহ্যের টানে সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলায় প্রতি বছরই ঘটা করে পালন করা হয় এই উৎসব। দিনব্যাপী আনন্দ-উৎসবের আমেজে উপজেলার গোয়াহরী বড় বিলে দেশীয় প্রজাতির ছোট-বড় মাছ আহরণের মধ্যে দিয়ে পালিত হয় ‘পলো বাওয়া’ উৎসব।

সরেজমিন শনিবার সকালে দৌলতপুর ইউনিয়নের গোয়হরী বড় বিলে দেখা যায়, মাছ শিকারের পলো, জালসহ নানা ধরনের সরঞ্জাম নিয়ে বিলের পাড়ে জড়ো হয়েছেন শিকারিরা। বড়দের সাথে শিকারে অংশ নিতে দেখা যায় গ্রামের কিশোর-কিশোরীদেরও।

পলো বাওয়া উৎসব উপভোগ করতে বিলের পার্শ্ববর্তী মাঠে অবস্থান করেন গ্রামের শতাধিক নারী ও দূর-দূরান্ত থেকে আসা উৎসুক জনতা। উৎসবকে কেন্দ্র করে এসময় দেশে ফেরেন গ্রামের প্রবাসীরাও।

‘পলো বাওয়া’য় বিলে নামার আগে শৃঙ্খলা ঠিক রাখতে দফায়-দফায় বৈঠক করেন মুরব্বীরা। বৈঠক শেষে নির্দিষ্ট শিকারিদের ‘শনাক্তচিহ্ন’ হলুদ রঙের বিশেষ ফিতা সরবরাহ করা হয়। পরে নির্ধারিত সময়ে একযোগে গ্রামের চার পাড়ার প্রায় চার শতাধিক শিকারি পলো নিয়ে নামেন মাছ আহরণে।

দীর্ঘ সময় ধরে বিলের হীম শীতল পানিতে মাছ ধরায় মেতে ওঠেন তারা। এক সময় ধরা পড়ে বোয়াল, রুই, গজার, শোলসহ বিভিন্ন জাতের মাছ। মাছ ধরার পর শিকারিদের আনন্দ-চিৎকারে মুখরিত হয়ে ওঠে বিলের আশপাশ। বড় মাছ শিকারের পর জাল দিয়ে টেংরা-পুঁটি ধরতে নামে আরেক গ্রুপ।

শিকারী সমুন আহমদ জানান, ছোটকাল থেকেই এই বিলে মাছ শিকার করে আসছেন তিনি। তাদের পূর্ব পুরুষের সময়কাল ধরে চলমান আছে এই উৎসব।

মাছ শিকারে আসা সিলেট জালাবাদ টিচার্স ট্রেনিং সেন্টারের প্রিন্সিপাল হাসমত উল্লাহ বলেন, যুগ যুগ ধরে আমাদের বিলে এই উৎসব পালন করা হচ্ছে। প্রতি মাঘ মাসের ১ তারিখে করা হয়। এবার ১ দিন পিছিয়ে এ উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে।

গ্রামের বাসিন্দা ও স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য গোলাম হোসেন ‘বাংলাদেশ প্রতিদিন’কে বলেন, বংশ পরম্পরায় এ ঐতিহ্য ধরে রেখেছি আমরা। নির্ধারতি সময়ের এক সপ্তাহ আগ থেকে গ্রামে এক ধরনের উৎসবের আমেজ বিরাজ করে। প্রতি বছর সুশৃঙ্খলভাবে ‘পলো বাওয়া’ উৎসব পালিত হয়।

বিডি প্রতিদিন/এমআই


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর